পাবনায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭ | ১২ আষাঢ় ১৪২৪

পাবনায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:২০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৬

print
পাবনায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন
দেশের অন্যতম বৃহৎ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল পাবনায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়াও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিদের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।    

দেশের অন্যতম বৃহৎ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল পাবনায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়াও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিদের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

দেশের উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের এক তৃতীয়াংশ উৎপাদন হয় পাবনা জেলায়। গত মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদে ভাল লাভ হওয়ায় এ বছর পাবনা বেড়া, সুজানগর, সাঁথিয়া, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুরসহ  জেলার নয় উপজেলার  ৪৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

পদ্মা, যমুনা আর চলনবিলে ঘেরা এ অঞ্চলে বর্ষার মৌসুমে জমিতে পলি পরায় পেঁয়াজের উৎপাদন ভাল হয়ে থাকে। ধান, গম বা অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভজনক হওয়ায় পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় উত্তোলন ও সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পেঁয়াজ নষ্ট হবার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে এই অঞ্চলে একটি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার দাবিও জানিয়েছেন চাষিরা।

সুজানগর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের পেঁয়াজ চাষি কামরুজ্জামান কামরুল জানান, অনেক আগে থেকেই তারা পেঁয়াজের আবাদ করে আসছে। তার বাবার কুড়ি বিঘার মত জমি ছিল। কিছু জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করতো এবং বাকি জমিতে আমন আবাদ করতো। কিন্তু ধানের থেকে পেঁয়াজে বেশি লাভ পাবার কারণে ধানের আবাদ কমিয়ে পেঁয়াজের আবাদ বেশি করতে থাকে। এতে ভাল লাভ পাওয়ায় পেঁয়াজ বিক্রি করে জমি কিনতে থাকে। বর্তমানে তাদের জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুইশত বিঘায়।

চলতি মৌসুমে সে এককভাবে ৭৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। চলতি বছরে তার ৩ হাজার ২৯০ মন পেঁয়াজ উৎপন্ন হবে বলে আশা করছেন।

বিঘা প্রতি ২৫ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পেঁয়াজ চাষি মোশারফ হোসেন জানান, পেঁয়াজের দাম বর্তমানে ভাল। এটি বাজারজাত করার জন্য আমাদের কোনো চিন্তা করতে হয় না। ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এসে বাড়ি থেকে নগদ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যায়।

এখন পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন পেঁয়াজ চাষিরা। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার অসংখ্য মানুষের।

সুজানগর উপজেলার  দুর্গাপুর গ্রামের নারী শ্রমিক হাসিনা, জমেলা, আর্জিনা জানান, এ অঞ্চলে পেঁয়াজের আবাদ হওয়ায় তারা শ্রম বিক্রি করতে পারছেন। প্রতিমণ পেঁয়াজের ডগা কেটে তারা ২০ টাকা করে আয় করছেন। নিজ গৃহস্থলীর কাজ সেরে অবসর সময়ে চুক্তি ভিত্তিক তারা প্রতিদিন দুই থেকে তিনশত টাকা আয় করে থাকেন। এ আয় তাদের সংসারের সচ্ছলতা ছাড়াও ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার কাজে ব্যয় করছেন।

চলতি বছর জেলায় ৫ লাখ ৭৯ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ উত্তোলন হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক বিভূতিভূষণ সরকার জানান, বিল ও নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় পাবনার সুজানগর, বেড়া, চাটমোহর এলাকায় পেঁয়াজের আবাদ বেশ ভাল হয়েছে। এ কারণে এ অঞ্চলে ধানের আবাদ কৃষকেরা কম করে থাকে। লাভজনক পণ্য হিসেবে পেঁয়াজ আবাদ করে প্রান্তিক চাষিরাও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন।

মৌসুমের শুরুতে বর্তমানে পেঁয়াজ এক হাজার টাকা মন দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এর মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।

আরজে/এসএফ/এমডি

 

print
 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আলোচিত সংবাদ