রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কিছু ‘খুচরা চিন্তা’!(কিস্তি-৩)

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কিছু ‘খুচরা চিন্তা’!(কিস্তি-৩)

রাহমান নাসির উদ্দিন ১:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭

print
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কিছু ‘খুচরা চিন্তা’!(কিস্তি-৩)

গত ২৪ আগস্ট কফি আনান কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরপরই মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গাদের উপর যে নির্মম অত্যাচার এবং অমানবিক হত্যাযজ্ঞ চলছে, তার সূত্র ধরে রোহিঙ্গাদের একটা বিরাট অংশ শরণার্থী হিসাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নানান বেসরকারী হিসাব এবং বিভিন্ন মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে এবং তারা কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়ায় বিভিন্ন জায়গায় বাস করছে যদিও তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে এ মর্মে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর আমি কয়েকটি কিস্তি ‘খুচরা চিন্তা’ লিখেছি। মাঝখানে খানিকটা গ্যাপ দিয়েছি কারণ রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে পরিমাণ লেখালেখি এবং কথাকথি হচ্ছে, তার ভেতর দিয়ে নতুন নতুন কি কি ইস্যু বের হয়ে আসে, সেটা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। রোহিঙ্গা বিষয়ক আলোচনায় আরো বেশি কিছু ইস্যু সামনে চলে এসেছে। এখানে পরপর তিনটি বিষয় নিয়ে আমার চিন্তাভাবনা পেশ করছি।

এক. বাংলাদেশের ‘বিলেটেড’ কূটনৈতিক নড়াচড়া 
রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত জেনোসাইড থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা যখন ‘দলে দলে বানের লাহান’ এদেশে প্রবেশ করছে, তখনও পর্যন্ত মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল এবং তুরস্ক ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলতে আমরা যাদেরকে বুঝি তাদের কেউই খুব একটা নড়াচড়া করেনি। অধিকন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফর করে অং সান সু চির সাথে ‘হাসিখুশি পোজ’ দিয়ে রাখাইন ইস্যুতে মিয়ানমারের পাশে থাকার কথা বলে এসেছেন।

চীন এবং রাশিয়া ‘এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে মিয়ানমারের পাশে নিজেদের অবস্থান জানান দেন। কিন্তু ঘটনা যতই তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে গোটা পৃথিবী নড়েচড়ে বসে। ঘটনাক্রমে এসময়ের মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের তারিখ পড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য মেঘ না-চাইতেই জল পাওয়ার মতো অবস্থা।

ফলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার একটা কার্যকর মওকা পাওয়া যায় এবং বাংলাদেশ সেটা বেশ ভালোভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়। তাছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত পরিস্কারভাবে তুলে ধরেন। ফলে, জাতিসংঘের অধিবেশন না-থাকলে এ কাজটি করতে বাংলাদেশকে অনেক বেগ পেতে হতো।

বাংলাদেশের এ কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে জাতিসংঘ একটি ত্বরিত এবং শক্ত ভূমিকা গ্রহণ করে। অরগানাজাইশেন অব ইসলামিক কনফারেন্স (ওআইসি) একটা শক্ত অবস্থান নেয়। অ্যামন্যাষ্টি ইন্টারন্যাশনাল মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ি করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান রাখাইন রাজ্যের হত্যাযজ্ঞকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যবইয়ের উদাহারণ’ হিসাবে মন্তব্য করেছে। এবং এরই ধারাবাহিকতায় অং সান সু চির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপি একটা ব্যাপক জনমত গড়ে উঠে।

পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে প্রদত্ত অনেক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন দেশ কর্তৃক প্রদত্ত নানান ধরনের সম্মাননা বাতিল করা হয়। সর্বশেষ, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক গণ-আদালত’-এ রোমভিত্তিক সংগঠন পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনালের (পিপিটি) সাত ‘বিচারকের’ প্যানেল গত ২২/০৯/২০১৭ তারিখ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা, কাচিন, কারেনসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ২০০ মানুষের জবানবন্দি শুনে এবং বিভিন্ন তথ্যচিত্র ও বিশেষজ্ঞ মতামত পর্যালোচনা করে এক প্রতীকি রায়ে মিয়ানমারের অং সান সু চি’র সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনীকে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে ‘দোষী সাব্যস্ত’ করেছে।

এভাবে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত, চীন এবং রাশিয়া ব্যতীত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অষ্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ গোটা পৃথিবী বাংলাদেশের প্রতি একটা সহানুভূতিশীল জায়গায় দাঁড়িয়ে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

সুতরাং শুরুতেই খানিকটা কূটনৈতিক জড়তা পরিলক্ষিত হলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ গোটা পৃথিবীতে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের অবস্থান বোঝাতে ষোল আনা না-হলেও চৌদ্দ আনা সক্ষম হয়েছে। এখন দেখার বিষয় এই কূটনৈতিক তৎপরতা কীভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুটাকে একটা কার্যকর সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারে।                

দুই. রোহিঙ্গা ইস্যু এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি 
রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণের পাশাপাশি যে বিষয়টা বেশ জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে সেটা হচ্ছে ‘নিরাপত্তা’র ঝুঁকি। এবারের ঘটনার সুত্রপাতই হয়েছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় ভাষ্যানুযায়ী একটি ‘সশস্ত্র হামলা’র মধ্য দিয়ে। বলা হচ্ছে, স্বাধীন আরাকান রাজ্য গঠনের শপথ নিয়ে গড়া আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশান আর্মি বা আরসা ২০টি পুলিশফাঁড়ি এবং সীমান্তচৌকিতে হামলা করে যে কারণে উভয় পক্ষে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

২০১৬ সালের অক্টোবরেও আরসা এরকম একটি ঘটনা ঘটায় যার কারণে রোহিঙ্গাদের উপর নেমে আসে একই অত্যাচার এবং বাংলাদেশে প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। বিভিন্ন সংবাদপত্রের সূত্র মতে, এবারের নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে যে প্রায় ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তন্মধ্যে কিছু ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তাছাড়া, সৌদি প্রবাসী ২০জন রোহিঙ্গার সমন্বয়ে গঠিত সৌদি আরব ভিত্তিক ‘হারাকা আল ইয়াকীন’র পৃষ্ঠপোষকতায় আরাকানের কিছু রোহিঙ্গা তরুণকে সংগঠিত করে আরসা গঠন করা হয়েছে বলে ২০১৬ সালের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া আরসার সাথে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র‌্যাডিক্যাল গ্রুপের সাথে কোন ধরনের প্রত্যক্ষ সংযোগের কথা এখনো পর্যন্ত সেভাবে আলোচিত না হলেও তালেবান এবং আইএস মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে।

আর আরসার নেতৃত্বদানকারী আতাউল্লাহ পাকিস্তানের করাচিতে বেড়ে উঠা একজন হিসাবে আরসার সাথে পাকিস্তানী লস্কর-ই-তায়েবাসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোর সাথে একটা যোগাযোগ স্থাপন করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যেহেতু মিয়ানমারে সংগঠিত হওয়া, নতুন সদস্য সংগ্রহ করা, ট্রেনিং দেয়া এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কিছুটা কষ্টসাধ্য সেহেতু বাংলাদেশকে আরসার কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্থান হিসাবে ব্যবহার করার একটা সমূহ সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

মাঝেমধ্যে বান্দরবানের গহীণ অরণ্যে সন্ত্রাসী গ্রুপের ট্রেনিং-এর খবর পাওয়া যায় এবং বাংলাদেশের মিলিটারী/আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রেইড দিয়ে নানান ট্রেনিং সামগ্রীসহ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করে। ফলে, যদি আশ্রয়প্রাথী শরণার্থীদের সাথে এরকম কিছু লোক ঢুকে পড়ে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে সেটা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটা বিরাট হুমকি হিসাবে কাজ করবে।

তাছাড়া, রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে স্থানীয় অনেক র‌্যাডিক্যাল সংগঠন তাদেরকে নানান লোভ দেখিয়ে দলে ভেড়াতে পারে। যেহেতু তারা বেঁচে থাকার জন্য যে কোন কিছু প্রস্তুত থাকে, তাদের এ অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অনেকেই তাদেরকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত করতে পারে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বাইরেও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মানবিক নিরাপত্তার ঝুঁকি, মানবপাচারের ঝুঁকি, খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি।

সবাই কেবলই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকেই গুরুত্বারোপ করে আলোচনা-বিশ্লেষণ করছেন, কিন্তু অন্যান্য নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়াদির দিকে কারো কোন নজর নাই। সুতরাং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় নিয়েই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের একটি বায়োমেট্রিক ডাটা বেইজ তৈরী করা প্রয়োজন যাতে প্রত্যেককে আলাদা করে শনাক্ত করা যায় এবং তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তিন. রোহিঙ্গা ইস্যু এবং বেহিসেবি তথ্যের বেসাতি
সংখ্যাতাত্ত্বিক একটা ভুল বোঝাবুঝি আমার কাছে একটা বড় ধরনের সংকট বলে মনে হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদপত্র বিভিন্ন সংখ্যা দিয়ে এ ভুলবোঝাবুঝির সৃষ্টি করছে। যেমন, এ পর্যন্ত আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা কত; তাদের মধ্যে নারীদের অনুপাত কত; নারীদের মধ্যে গর্ভবতীর সংখ্যা কত; এ পর্যন্ত আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা কত; তাদের কী কী ধরনের রোগ আছে; বৃদ্ধদের সংখ্যা কত এসব বিষয় নিয়ে বড় বড় মিডিয়াগুলো নিজেদের মতো করে একটার পর একটা সংখ্যা বসিয়ে দিচ্ছে।

যেমন বিভিন্ন সংবাদপত্রের ভাষ্যানুযায়ী শিশুদের সংখ্যা ২ লক্ষ ৪০ হাজার। এক বছরের কম বয়সের শিশু ৩৬ হাজার। গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী নারীর সংখ্যা ৫২ হাজার। কিন্তু তারা কীসের ভিত্তিতে এ সংখ্যা দিচ্ছে তা পরিস্কার নয়। তাছাড়া যে তেরটি পয়েন্ট (নাইট্যং পাড়া, নয়াপাড়া, জালিয়াপাড়া, হারিয়াখালী, ঘোলারচর, শাপলাপুর, শীলখালি, মাথাভাঙা, পশ্চিমপাড়া, কাটাবনিয়া, লেঙ্গারবিল, জাহাজপুরা, মুন্ডার ডেইল) দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, সেখানে বড় বড় সংবাদমাধ্যমগুলোর একজন করে প্রতিনিধি নাই যে তারা ‘হেড-কাউন্ট’ করবে। এবং সেটা প্রায়োগিক বিবেচনায় আদৌ সম্ভব কিনা সেটাই বিবেচনায় নেয়া উচিত।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের যে নিবন্ধন চলছে, তা এবার আসা রোহিঙ্গাদের দশ শতাংশও এখনো পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। তখনই প্রশ্ন আসে, মিডিয়া কীসের ভিত্তিতে এসব সংখ্যা প্রকাশ করছে। কিন্ত নিজেরাই বুঝতে পারছে না যে, নিজেরদেরকে কাবিল প্রমাণে বেহুদা প্রতিযোগিতায় গিয়ে নিজেরাই নতুন নতুন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

আমার কাছে মনে হয়, সরকারের একটা তথ্যসেল থাকা জরুরি যেখান থেকে এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করে প্রতিদিন সংখ্যাতাত্ত্বিক একটা আপডেট মিডিয়াকে প্রদান করা যায়। যাতে করে জনগণের কাছে একটি অভিন্ন তথ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে। তাছাড়া, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোথায় কী হচ্ছে, সরকার কী করছে, যারা আসছে তাদের কী অবস্থা এবং তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, এসব বিষয়ে নিয়মিত আপডেট থাকা জনগণের অধিকারের মধ্যে পড়ে।

তবে, একথা সত্য যে, পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা বাস করছে (সেটা অস্থায়ী হলেও) বাংলাদেশে। কথাটা অপ্রিয় হলেও সত্য। ২৫ আগস্টের আগে মিয়ানমারে রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল ১৩ লক্ষ আর বাংলাদেশে ছিল ৫ লক্ষ। যদি এর মধ্যে ৫ লক্ষ (কারো কারো মতে সাড়ে ৪ লক্ষ এবং এ প্রবেশ অব্যাহত আছে) রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে তাহলে মিয়ানমারে রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩-৫= ৮ লক্ষ।

আর বাংলাদেশে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫+৫=১০ লক্ষ। এর বাইরে পাকিস্তানে আছে ২ লক্ষ, ভারতে ৪০ হাজার, মালয়েশিয়ায় আছে ৪০ হাজার, থাইল্যান্ডে ১ লক্ষ, ইন্দোনেশিয়ায় ১২ হাজার, যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজার, সৌদি আরবে আছে ১০ হাজার এবং নেপালে আছে ২০০। এর বাইরেও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে অল্পস্বল্প রোহিঙ্গার অস্তিত্ব আছে বলে ধারণা করা হয়। তার অর্থ দাঁড়ায়, পৃথিবীতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি মানুষ বর্তমানে বাস করছে বাংলাদেশে। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের মনেবৃত্তি হচ্ছে: মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদেরকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি সত্য, কিন্তু এ আশ্রয় যেন কোনভাবেই চিরস্থায়ী না-হয়।

ড. রাহমান নাসির উদ্দিন: নৃবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
rahmannasiruddin@yahoo.com

print
 
মতান্তরে প্রকাশিত রাহমান নাসির উদ্দিন এর সব লেখা
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad