হযবরল সময়

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

হযবরল সময়

তুষার আবদুল্লাহ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০১, ২০১৭

print
হযবরল সময়

হযবরল অবস্থায় আছি। যদি উদাহরণ জানতে চাওয়া হয়, তাহলে এই সময়টির কথা বলা যেতে পারে। অনুরোধ করতে পারি চলতি সময় পর্যবেক্ষণ করে দেখুন, দেখবেন আপনি একটি হযবরল সময়ের মধ্যে আছেন। 

.

দেখে মনে হচ্ছে আমাদের জানা নেই কি কাজ আমাদের করতে হবে। কাজটি কেমন করে করবো সেই বিষয়েও অজ্ঞ আমরা। শৃঙ্খলা জবাবদিহি শব্দ গুলো আমাদের জীবনাচরণ থেকে উধাও।  বরং আমরা বুঝি জাহাঁপনা শব্দটিকেই আপন করে নিয়েছি। জাহাঁপনা শব্দটি উচ্চারিত হয় না। তবে তার এমনই গুণ ইশারা ও আচরণ ভাষাতেই বোঝা যায় কতোটা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এই শব্দটি।

বরগুনার ইউএনও তারিক সালমনকে কারাগারে পাঠানো থেকে শুরু করে তার মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পদায়ন পর্যন্ত গল্প গাঁথা কম দেখতে হয়নি। জামায়াত নেতার কন্যা রিজিয়া নদভীর আওয়ামী লীগে পদ পাওয়া নিয়েও সাফাই বচন জাহাঁপনার রবই তুলছে। কলেজ ছাত্র সিদ্দিক চোখ হারালো, তার চোখ যে পুলিশের টিয়ারসেলের কারণেই নষ্ট হলো, সেই সত্যে পৌঁছার আগে ফুলের টব উপাখ্যান বাজারজাত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সিদ্দিকুরের চোখ নিয়ে উদ্বেগ না কাটতেই তুফান শুরু হয়ে গেল বগুড়াতে। শ্রমিকলীগের তাপে মা-মেয়ের সম্ভ্রম গেল। এখন তারা জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। কে কোথায় ছাগল বিতরণ করেছেন, বিতরণের পর সেই ছাগলের নানা কারণে মৃত্যু ঘটতেই পারে, সেই মৃত্যূর খবর শেয়ার করার জন্য সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা হলো। সাংবাদিক গ্রেফতার হলেন। এই সব আয়োজন কিন্তু জাহাঁপনার প্রতিধ্বনিকে শক্তিশালী করতেই। 

জাহাঁপনার এই প্রতিধ্বনি কারা তুলছেন, তুলতে চাইছেন? আওয়ামী লীগের প্রকৃত সমর্থক বা অনুসারীরা এই কাজটি করছেন, এমন অভিযোগ তোলা যাবে না গড়পড়তা ভাবে। যারা আদর্শ মেনে, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন, তারা বেহিসেবি একটু কমই হন। কারণ তাদের মনে থাকে ক্ষমতা, পদ ধরে রাখতে বা ফিরে পেতে সাধারণ মানুষ বা দলের সাধারণ কর্মীদের কাছে জবাবদিহি হতে হবে। সাংগঠনিক ভাবেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে।

কিন্তু যারা ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের পাল্টে ফেলে, রয়ে যায় সরকারি দলেই, তাদেরতো কোনো জবাবদিহিতার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় কিছুদিন ঘাপটি মেরে থাকার। তারপর সুযোগ মতো অনুপ্রবেশ। এবং এক পর্যায়ে দলের অর্গানিক কর্মীদের কোনঠাসা করে নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করে নেয়া। এই কাণ্ড যে শুধু এবারের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঘটছে তা নয়।

১৯৯৬’র সরকারের সময়ও দেখেছি। এখনকার জাহাঁপনায় রব তোলা অনেক মুখকে বিএনপি সরকারের সময়ও একই সুরে গাইতে দেখেছি। নিজের কাছেই নিজে বিস্মিত হয়ে যেতাম একেক সময় তাদের প্রতিভা দেখে। একই কণ্ঠে তারা এতো নিখুঁত করে বিচিত্র সুরে গাইতে পারেন কি করে?

এই শিল্পীরা তাদের অনন্য প্রতিভা দিয়ে দলকে, রাষ্ট্রকে মোহিত করে রাখে। এই মোহিত করে রাখা বা থাকাটি যতো গাঢ় হবে, ততোই হযবরল পরিস্থিতি তীব্র রূপ পায়। আমরা এখন যেই সময়টাতে আছি, যখন দেখছি জাহাঁপনা’ গায়ক কুলেরা তাদের প্রতিভার চরম উৎকর্ষকাল অতিবাহিত করছে।

আমরাও সেই সুরে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছি। এই নিমজ্জন থেকে আমাদের বুঝি ভেসে উঠা হবে না? শঙ্কা এই জন্য যে, নিমজ্জন থেকে যারা আমাদের উদ্ধার করবেন বলে আমরা ভরসা করে আছি- ডুবে যেতে যেতে দেখি তারাও যে তলিয়ে যাচ্ছেন!

তুষার আবদুল্লাহ : বার্তা প্রধান, সময় টিভি।

print
 
মতান্তরে প্রকাশিত তুষার আবদুল্লাহ এর সব লেখা
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad