বাবাকে নিয়ে নাদীম কাদিরের মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৮ কার্তিক ১৪২৪

বাবাকে নিয়ে নাদীম কাদিরের মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায়

ইমরান মাহফুজ ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৭

print
বাবাকে  নিয়ে নাদীম কাদিরের মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায়

‘পাক-হানাদার বাহিনি চট্টগ্রামে আমাদের ৭০ পাঁচলাইশের বাসা থেকে বাবা লে. কর্নেল মুহাম্মদ আব্দুল কাদিরকে ধরে নিয়ে যায় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। তারপর আর খোঁজ নেই! একজন জলজ্যান্ত মানুষ হঠাৎ হারিয়ে গেলেন! তখন বুঝতে পারিনি, এই হারিয়ে যাওয়া মানে আর ফিরে না আসা। তখন বুঝতে পারিনি, এই হারিয়ে যাওয়া মানে শহীদ হওয়া। তখন বুঝতে পারিনি, এই হারিয়ে যাওয়া মানে মাটির নিচে চলে যাওয়া, সমস্ত অস্তিত বিলীন করে দিয়ে।’

মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে নিয়ে কথাগুলো একজন সন্তানের। আসলে কিছু কিছু মানুষের স্মৃতি-বিস্মৃতিগুলো ওড়াউড়ি করে, কখনো বিধঁতে থাকে শরীরময়। চিৎকার করে জানান দিতে চায় তার অস্তিত্ব। দেয়াল টপকে কথা বলতে চায় বাইরে। ফিরে দেখা বর্ণনায় বোঝাতে চায় অনেক কিছু। তেমনি একজন বীরসেনানীকে নিয়ে পুত্র নাদীম কাদিরের বয়ান।

নাদীম কাদির প্রথিতযশা সাংবাদিক ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার। মুক্তিযোদ্ধা বাবার উপর লেখা বই ‘মুক্তিযুদ্ধ : অজানা অধ্যায়’। অনুসন্ধানী পাঠকের আত্মার খোরাক যুগিয়েছে। চলতি বছরের অমর একুশে বইমেলায় জাগৃতি প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে এ বইটি।

তাঁর মুখেই শুনি আলোচ্য বইয়ের কথা, ‘মুক্তিযুদ্ধ : অজানা অধ্যায়’ আমার অনেক দিনের সাধনার ফসল। মুক্তিযুদ্ধ বা বাবাকে নিয়ে কিছু লিখতে বসলেই চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে, কণ্ঠ হয় বাষ্পরদ্ধ এবং হাত চলতে চায় না।

এটি কোনো আত্মজীবনী না। মুক্তিযুদ্ধ ও বাবাকে নিয়ে যে ঘটনাগুলো জানা যায়, সেটুকুই সন্নিবেশিত হয়েছে এই বইতে। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া, বাদ দেয়া বা গোপন রাখার চেষ্টা করিনি। সব ঘটনাই নিরপেক্ষ দৃ্ষ্টিতে তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে। বহুদিনের পুরনো স্মৃতি থেকে লেখা বলে ছোট-খাটো কিছু বাদ পড়তে পারে।

বাবা শহীদ লে. কর্নেল মুহাম্মদ আব্দুল কাদির এবং মা হাসনা হেনা কাদিরের সঙ্গে প্রথিতযশা সাংবাদিক ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদীম কাদির

‘মুক্তিযুদ্ধ : অজানা অধ্যায়’য়ে দেখি যিনি তুখোড় সাংবাদিক হয়েও কোনো ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ভণিতার আশ্রয় না নিয়ে সোজাসাপটা ভাষায় বর্ণনা করেছেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশের কথা। ১৯৭১ সালে ঘটে যাওয়া তার এই অংশটুকু আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য জানা খুবই জরুরী। যদিও ঘটনার সময়কালে লেখক খুবই ছোট ছিলেন। তারপরও যোগ্য সন্তানের পরিচয় দিয়েছেন নাদীম কাদির; ৩৬বছর পর একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে।

যার কথা বলা হচ্ছে তিনি আর কেউ নন, শহীদ লে. কর্নেল কাদির। যিনি ২ জানুয়ারী ১৯২৯ সালে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে আর্মি স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। তার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের আগে তিনিই একমাত্র বাঙালি যিনি, Virginia, USA Army School of Engineering এ বিশেষ কোর্স করেন। এবং ১৯৭১ সালে তৈল ও গ্যাস উন্নয়ন সংস্থার Chief Controller of Operations ছিলেন।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিলে কী হয়েছিল কর্নেল মুহম্মদ আব্দুল কাদিরের জীবনে? জেনে নিই মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান নাদীম কাদিরের বই থেকে, ৮ মার্চ ১৯৭১। রেডিও পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ হল পুনঃপ্রচার। সবাই রেডিওর ভাষণ শুনছে। বাবার অর্ডারে সবাই চুপ!

ভাষণ শেষ হতেই বাবা, ‘জয় বাংলা, জয় বাংলা’ বলে চেঁচিয়ে উঠলেন। মা তাকে চুপ থাকতে বললেন। মা সাবধান করে দিয়ে বলেন, ‘তুমি সেনা অফিসার, কেউ শুনলে বিপদ হবে।’ তবে বাবা নিশ্চিত, ‘বাংলাদেশ’ হবেই। আমরা বাংলাদেশের বড় বড় পতাকা ও কালো পতাকা আমাদের বাসার সামনে উড়িয়ে দিলাম। আর অফিসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম সাহেবসহ অনেককে নিয়ে বাবা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করলেন।

বিহারীদের চোখে পড়ল বিষয়টা। আর ওরা নানানভাবে হুমকি দিতে শুরু করলো বাবাকে। যখন পরিস্থিতি উত্তেজনাকর তখন একদিন বাবা পাড়ার বাঙালিদের বললেন, ‘ওদের জিনিস যেন কেউ না কেনে। চলে যাক ওরা পাকিস্তানে।’ আমাদের পাঁচলাইশের বাসার পাশেই দুটো বিহারি পরিবার ছিল। যারা সব বিক্রি করে তড়িঘড়ি করে পাকিস্তান চলে গেল। এরই মধ্যে বাবা ক্যাপ্টেন রফিক ও অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেন।

২১ বা ২২ মার্চ, ১৯৭১, মেজর (পরে রাষ্টপতি) জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া আমাদের বাড়িতে আসেন। সামনে কি হতে যাচ্ছে তা নিয়ে তাদের মধ্যে আলাপ হয়। এই ব্যাপারে পরে মায়ের কাছ থেকে জানলাম। তবে মনে আছে, বাবা আর মেজর বৈঠকখানায় এবং মা ও বেগম জিয়ার কোনো বিষয়ে বাক-বিতণ্ডা হয়, যা বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছিল। এর পর পাক বাহিনির আগমন ২৫ মার্চ ঢাকায় এবং ২৬ মার্চ চট্টগ্রামে।

পরদিন সকালে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখলাম বিহারীরা বড় বড় রামদা আর তলোয়ার নিয়ে বাঙালিদের মারছে। প্রবর্তক সংঘে গুলির শব্দ আর সাদা কাপড়ে মোড়ানো দেহগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে। ভয়ে জানটা শুকিয়ে গেল! বাবা খুব চিন্তিত! তখনো আমি বুঝে উঠতে পারিনি যে, আমাদেরও যে কোনো সময় মেরে ফেলতে পারে।

তবে এত বছর পর পেছনে তাকিয়ে যখন দেখি, তখন মনে হয় আমাদের সবাইকে বাবার সাথে মেরে ফেললেই ভালো হতো! বাবাকে মাঝখানে কয়েকদিন পাইনি। মা বলতো কাজে গেছে। হঠাৎ একদিন দেখি বাবা! মুখে দাড়ি এবং ভীষণ ক্লান্ত চেহারা। বাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম, সে কোথায় গিয়েছিল? বললো, কাজে। ‘তুমি চিন্তা করো না, পাপা আছে’- এই বলে আমাকে আশ্বস্ত করল।

তারপর এক ভোরে ১৪ বা ১৫ এপ্রিল ১৯৭১ ঘুম ভেঙে দেখি শুধু লুঙ্গি- গেঞ্জি পরে আর গামছা নিয়ে বাবা বের হয়ে যাচ্ছে। ‘পাপা কই যাও?’ আমি জিজ্ঞাসা করতেই, বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, ‘তুমি ঘুমাও বাবা। পাপা এখানেই আছে।’ ক্যাপ্টেন রফিক এবং এম আর সিদ্দিকী গাড়ি পাঠাবেন আমাদের নিয়ে যেতে- এমন একটি আশা ছিল বাবার। এমন কথাও হয়েছিল। কিন্তু আসলেই আমরা তা বুঝতে পারিনি, বা জানতে পারিনি গাড়িটা এসেছিলো কি না?

তারপর এলো সেই ভয়াবহ ১৭ এপ্রিল ১৯৭১!

আমরা নাস্তা করছি আমাদের চট্টগ্রামের ৭০ পাঁচলাইশের বাসায়। পাপা নাস্তা শেষ করে তার ঘরে গেছে। হঠাৎ বাসার সামনে কুকুরগুলো চিৎকার আর ছোটাছুটি করছিল। আমাদের দুটো কুকুর ছিলো। যেগুলো প্লেনে করে আমাদের সাথে পাকিস্তান থেকে আসে।

দরজায় বুটের লাথি। ভয়ংকর! আমার মা আর রুবিনা বাবার শোয়ার ঘরে। আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, দরজা খুলব কি না? উনি বললেন, ‘খুলে দাও বাবা।’

বাসায় ছিল বাবুর্চি মান্নান আর ব্যাটম্যান সিপাহী গনি মিয়া। অন্য স্টাফদের বাবা বিদায় করে দিয়েছিলেন। ওরা দুজন রান্নাঘরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে।

আমি দরজা খুলতেই পাক- সেনা বাহিনির একজন ক্যাপ্টেন ১০-১২ জন সিপাহীসহ ঢুকেই আমাকে উর্দুতে জিজ্ঞাসা করল, ‘আব্বু কাহা হে?’(বাবা কোথায়?)

আমি বললাম, ‘বেডরুম হ্যা।’

‘চালো।’ আমার পেছন পেছন ওরা বেডরুমে ঢুকলো। সময় হবে সকাল ৯টা।

এখন মনে পড়লে আমার অবাক লাগে, এমন ভয়াবহ সময়েও উনি এতোটা নির্বিকার ছিলেন। উর্দু ভাষায় সেই ক্যাপ্টেন বললো, আমার বাবা ‘গাদ্দার’ অর্থাৎ দেশদ্রোহী। এবং এখন যুদ্ধ চলছে। তাই সিনিয়র অফিসার হলেও সে বাবাকে কোনো সম্মান জানাতে পারছে না। ক্যাপ্টেন বাবাকে হুকুম করল, ‘তৈরি হয়ে নাও। আমাদের সাথে মার্শাল-ল হেড-কোয়ার্টারে তোমাকে যেতে হবে। পরিবারকে কিছু বলার থাকলে বলে নাও।’

বাবা মাকে বললেন, ‘নিজের ও বাচ্চাদের খেয়াল রেখো।’

তৈরি হয়ে বাবা ওদেরকে বলল, ‘চালো।’ বাবার পিছনে ও দুই পাশে তিন সৈনিক বন্দুক তাক করে নৌ-বাহিনির একটি নীল জীপে উঠালেন। সবাই স্থির! আমি দৌড় দিয়ে দোতলায় উঠছি। কাচের জানালা দিয়ে বাবার দিকে তাকালাম। হাত উঠিয়ে বিদায় নিলেন তিনি। তখনও ভাবিনি এই হবে শেষ দেখা।

এই দৃশ্য যে কত কষ্টের হতে পারে তা লিখে শেষ করা যাবে না। তারপর কোথায় বাবা? খুঁজে না পাওয়া এক ধরনের ব্যথা! এ ব্যথা ধরে রাখা কঠিন।

নাদীম কাদির রচিত এবং ইমরান মাহফুজ সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধ : অজানা অধ্যায়’ বইয়ের প্রচ্ছদ

এই কষ্ট নিয়ে লেখক, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হঠাৎ ২০০৭-এর শেষে একটি সূত্রে দেহাবশেষের খোঁজ পায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে। শুরু হলো ঢাকা-চট্ট্রগ্রামে ছোটাছুটি। সুযোগ পেলেই চট্ট্রগ্রামে। বুক ফাটা বেদনায় ওই মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া অবস্থা একজন সন্তানের। কারণ, ওই মাটিতেই তো আছে প্রাণপ্রিয় বাবা; আমাদের গর্বের কর্ণেল কাদির। ওই মাটিতে মিশে গেলেও বাবার কাছে গিয়েছে সন্তান! ধরতে পেরেছে অদৃশ্য প্রিয় পাপার অদৃশ্য হাত।

হ্যাঁ নাদীম কাদির তাঁর বাবার হাতটি ধরেছে। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে নিয়েছেন নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে। মহান ওই শহীদের নামানুসারে রাখা নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে। তার প্রতি আমাদের সশস্ত্র সালাম। উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ছাড়া আর কারো দেহাবশেষ স্থানান্তর করা হয়নি। বাংলাদেশে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান প্রথমে এবং তারপরে হচ্ছে কর্ণেল কাদির।

নাটোর সেনানিবাসে বসানো হয়েছে রূপালি ও কালো রঙের সমাধিফলক। যার শিরোনাম:
“O Captain! My Captain! Rise up and hear the bells; Rise-up-for You the flag is flying-for you the bugle trills, For you bouquets and ribbon’d wreaths-for you the shores a-crowding
For you they call, the swaying mass, their eager faces turning.”

একজন মুক্তিযোদ্ধা বাবার খোঁজ এবং বাকি কাজ সম্পূর্ণ করতে সন্তানের পাশে ছিলেন আরো একজন মহান মানুষ।

নাদীম কাদির সে প্রসঙ্গে বলেন : ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমার পাশে ছিলেন। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমার আম্মা হাসনা হেনা কাদির যখন মারা যান তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে সমবেদনা জানিয়ে আমার দুঃসময়টা সহনীয় করার সাহস যুগিয়েছিলেন। এরপর তাঁর কাছে আমি আমার বাবা শহীদ লে. কর্নেল মুহাম্মদ আব্দুল কাদিরের কবরটি সংরক্ষণ করার অনুরোধ জানাই। প্রধানমন্ত্রী মহানুভবতার সঙ্গে বাবার দেহাবশেষ চট্টগ্রাম থেকে কাদিরাবাদ সেনানিবাসে পূর্ণ রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করে দেন। এ ঋণ আমি কোনো দিন শোধ করতে পারবো না।’

বইটিতে প্রসঙ্গক্রমে জানতে পারি, শেখ মুজিবুর রহমানের অসাধারণ জীবনের কথা। তার সাথে লেখকের দেখা এবং আদর করে টাকা হাতে দিয়ে পিতৃসুলভ মায়ায় সিক্ত হওয়া সময়ের বয়ান। মহান মানুষের সাথে লেখকের দুর্লভ স্মৃতি। এবং স্বাধীনতা ঘোষণার সূত্রপাত।

এই প্রসঙ্গে এখানে আরো একটি জীবন্ত সাক্ষীর বক্তব্য লেখক তার বইয়ে হাজির করেছেন। তাঁরা হলেন, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, এমপি। যিনি মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে কর্নেল কাদিরের সবচেয়ে স্নেহের ও ঘনিষ্ঠ ছিলেন । তার একটি বক্তব্য উল্লেখ করার মতো ‘কর্ণেল কাদির যদি সময় মতো বের হতে পারতেন তবে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা উনি পাঠ করতেন। উনি না আসতে পারায় তখন মেজর জিয়াকে দিয়ে ঘোষণা পাঠ করানো হয়। মেজর জিয়ার থেকে সিনিয়র ছিলেন কর্ণেল কাদির। এদিকে পাক সেনারা বিস্ফোরক পাচারের কথা জানতে পেরে তাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।’

সবশেষে বলি- সহজ ভাষায় লেখা, ‘মুক্তিযুদ্ধ : অজানা অধ্যায়’ এই বইটা মুক্তিযুদ্ধ গবেষকসহ অনুসন্ধানী পাঠকের কাজে লাগবে।

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad