দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কি ঢাকায় সীমাবদ্ধ!

ঢাকা, শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৭ ফাল্গুন ১৪২৬

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কি ঢাকায় সীমাবদ্ধ!

আজহার মাহমুদ ৩:৫০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কি ঢাকায় সীমাবদ্ধ!

নৈতিকতা থেকে সরে এসে অপকর্ম আর অপরাধ করাটাই আমার কাছে এক কথায় দুর্নীতি মনে হয়। মনে হওয়ার অনেক কারণও আছে। আমার কাছে ‘নীতি’ বিষয়টা অনেক বড়। কারণ, এই যেমন রাজনীতি, সমাজনীতি, নীতিমালা, জাতীয় নীতি, শ্রমনীতি, বাণিজ্য নীতি এবং আরও অনেক নীতি আছে। যা বলতে গেলে শেষ হবে না। নীতি বলতে সহজভাবে বোঝায় নিয়ম, প্রথা, প্রণালি। আর এই নিয়ম কিংবা নীতির উল্টোকেই অনিয়ম এবং দুর্নীতি বলে। যার কারণে দুর্নীতি সরাসরি নীতির অপর পক্ষকে বোঝায়।

এবার আসা যাক মূল কথায়। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার যে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে এই প্রশংসার বিপরীতে প্রশ্নও রয়েছে অনেক। এসব প্রশ্নের মধ্যে অন্যতম প্রশ্ন আমার এই লেখার শিরোনাম। এই যে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে কাউন্সিলর রাজীব, যুবলীগ নেতা খালেদ, সম্রাট, আরমান, ক্যাডার শামীম, সেলিম প্রধান এবং বিসিবির লোকমান ভূইয়ারা জেলে গেছেন, তারা সবাই ছিলেন ঢাকায়। ঢাকার বাইরে চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো অভিযান কিংবা দুর্নীতিবাজ ধরা পড়েছে বলে আমার মনে হয় না। তাহলে কি ঢাকায় সব দুর্নীতি হয়? কিংবা ঢাকার বাইরে কি কোনো দুর্নীতি হয় না? প্রশ্নগুলো সত্যিই না করার মতো নয়।

যদি নীতির প্রশ্নে কথা বলি তাহলে আমাকে বলতে হবে, সব জায়গায় দুর্নীতি হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বালিশ কাণ্ড, পর্দা কাণ্ড। জমি দখল করে কিছু কিছু কাউন্সিলর রাতারাতি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। আবার অনেকে টেন্ডারবাজি করে বনে যান বড় শিল্পপতি।

এসব কিছুই দুর্নীতির অবদান। তবে এই দুর্নীতির রঙ সব জেলা, সব উপজেলা, সব স্থানেই লেগে আছে। কেউ ধরা খাচ্ছে কেউ খাচ্ছে না। দুঃখিত! কাউকে ধরছে কাউকে ধরছে না। এমনটাই হচ্ছে। তবে কেন এমন হচ্ছে সেটাই ভাববার বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এ অভিযান চলবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু তবুও অনেকেই ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। একজন পৌরসভার কাউন্সিলর যদি মাটির ঘর থেকে কাউন্সিলর হওয়ার পর বাড়ির গেটের জন্য পঁচাত্তর লাখ টাকা খরচ করতে পারেন, তাহলে তার বাড়ির জন্য কত খরচ করেছেন সেটা একটু কল্পনা করে দেখবেন। অংকটা মিলে যাবে।

আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। সবাই অনেক আনন্দে রয়েছেন। তবে কেন জানি আমি আনন্দিত হতে পারছি না। কী দিতে পেরেছি আমরা বঙ্গবন্ধুকে? তার ছবি অফিসে লাগিয়ে, তার নাম ধারণ করে যদি দুর্নীতি আর অপকর্ম করা হয়, তার আত্মা নিশ্চয়ই কষ্ট পাবে। আর এখানেই আমাদের আনন্দিত হওয়ার কোনো মানে আছে বলে হয় না। মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, হে বঙ্গবন্ধু, এটাই কি তোমার সোনার বাংলা? যে মানুষ নিজের যৌবন বির্সজন দিয়েছে বাংলাদেশের জন্য, জীবন দিয়েছে বাংলাদেশের জন্য, স্ত্রী-সন্তানের জীবন দান করেছে বাংলাদেশের জন্য, কী দিয়েছি আমরা সে মানুষটাকে? কিছুই না।

বঙ্গবন্ধু আমার কাছ থেকে বেশি কিছু তো চাননি। চেয়েছেন একটা সোনার বাংলা। চেয়েছেন একটা সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু আমরা তার নাম এবং তার আদর্শকে বিক্রি করে অন্যায় অপকর্ম আর দুর্নীতিতে লিপ্ত হচ্ছি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। এ অপশক্তিকে থামাতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সারাদেশে একযোগে অভিযান। দলের ভেতরে এবং বাইরে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তদন্তের আওতায় আনতে হবে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া ব্যক্তিদের। প্রতিটি উপজেলা থেকে শুরু করতে হবে তদন্ত। তখনই কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে।

পরিচ্ছন্ন হবে দেশ। সব বিষধর সাপ তখন চিড়িয়াখানায় আটকে রাখা যাবে। তাই এখনই সময় সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক অভিযান নয়, সারাদেশেও এ অভিযান চাই। এজন্য দেশের সব মানুষ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে।

আজহার মাহমুদ : প্রাবন্ধিক
[email protected]

 

মতান্তর: আরও পড়ুন

আরও