ক্ষমতা রক্ষায় জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প

ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ বৈশাখ ১৪২৫

ক্ষমতা রক্ষায় জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭

print
ক্ষমতা রক্ষায় জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প

আমেরিকায় যে গভীর অস্বস্তি বিরাজ করছে সেখান থেকে নিজের ক্ষমতা রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউজিন মাইকেল জোন্স এ কথা বলেছেন। জোন্স একজন আমেরিকান লেখক, সাবেক প্রফেসর, মিডিয়া ভাষ্যকর এবং বর্তমানে কালচার ওয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক। ইরানের তাসনিম নিউজকে তিনি এ ব্যাপারে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, যা পরিবর্তনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

তাসনিম নিউজ: গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক সতর্কতা সত্ত্বেও জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কেন?

জোন্স: আমেরিকায় ট্রাম্পকে নিয়ে যে গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছে সেখান থেকে নিজের ক্ষমতা রক্ষার লড়াইয়ে তিনি মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করছেন। আমেরিকায় যে লাখ লাখ ইহুদিবাদী খ্রিস্টান রয়েছেন, যারা ২০১৬ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন, ইসরাইলি লবির সমন্বয়ে একমাত্র তারাই ট্রাম্পকে রক্ষা করতে পারেন।

প্রথমত, এই কারণে ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, আমেরিকান সাম্রাজ্যের ধ্বংসের কারণ হিসেবে ট্রাম্পকে ব্যবহার করছেন বিধাতা। জার্মানির মতো দেশ আমেরিকান নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েছে এবং এখন তারা বিকল্প চিন্তা, যেমন-রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, করছে। তুরস্কের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। তারা এখন রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে। আর এর অর্থ দাঁড়াল, কার্যত তারা ন্যাটোর সঙ্গে নেই।

তাসনিম নিউজ: জেরুজালেমের ব্যাপারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সৌদি আরব ‘দায়িত্বহীন’ বলেছে। সৌদি আরব তাদের এই অবস্থানে কতটা দায়িত্বশীল বলে আপনি মনে করেন? তাছাড়া ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে রিয়াদের ভূমিকাই বা কী হবে?

জোন্স: ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের ব্যাপারটি সৌদি আরবের কাছে স্পষ্ট করেননি। চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প যখন সৌদি আরব সফর করেন তখন দুই মিত্রের যে অবস্থান, তার (ট্রাম্প) এই সিদ্ধান্তের কারণে সেটা এখন নড়বরে হলো। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সমালোচিত সৌদি আরবকে মুসলিম বিশ্বের কাছে অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ট্রাম্পের শাসন সৌদি আরবের জন্য সত্যিকার অর্থেই দুর্ভাগ্যজনক। যে দেশটি ইতোমধ্যে ইসরাইলের সঙ্গে মিত্রতার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত সৌদি আরবকে এমন একটি সংকটময় মুহূর্তে ফেলে দিয়েছে যখন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছেন।

তাসনিম নিউজ: মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সিদ্ধান্তসমূহের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন তার জামাতা ও সিনিয়র উপদেষ্টা জারেড কুশনার। আপনি তার সম্পর্কে কী বলবেন?

জোন্স: কুশনার পারিবারিকভাবেই মৌলবাদি ইহুদি। তবে আমি মনে করি না যে, বিষয়টি নিয়ে তার সাথে পরামর্শ করা হয়েছে। আর যদি পরামর্শ করাও হয়ে থাকে, তারপরও আমি মনে করি না যে, ট্রাম্প তার পরামর্শ নিয়েছেন। যদি তার (কুশনার) পরামর্শ নিতেন তাহলে তা তার (ট্রাম্প) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেত। মোট কথা, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এফবিআই যে তদন্ত করছে সেখানে তার সমর্থন দরকার। আর সেটা করার ক্ষমতা একমাত্র ইসরাইলি লবি, যেটা আমি আগেই বলেছি, ও ধর্মীয় পণ্ডিতদেরই আছে।

আরপি

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad