ট্রাম্পের ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ প্রকাশ, ফিলিস্তিনের প্রত্যাখ্যান

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

ট্রাম্পের ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ প্রকাশ, ফিলিস্তিনের প্রত্যাখ্যান

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২০

ট্রাম্পের ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ প্রকাশ, ফিলিস্তিনের প্রত্যাখ্যান

বহুল আলোচিত ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে ওই পরিকল্পনায়।

আশি পাতার প্রস্তাবটি বাস্তবিক দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান হবে জানিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে ইসরাইলও এতে একমত হয়েছে বলে তিনি জানান।

বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রস্তাব করে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এ প্রস্তাব ফিলিস্তিনিদের জন্য শেষ সুযোগ।’

অপরদিকে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এসব পরিকল্পনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখান করেছেন। টেলিভিশনে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে বলতে চাই, জেরুজালেম বিক্রির জন্য নয়। আমাদের অধিকার বিক্রির জন্য নয়। এ নিয়ে দর কষাকষির কোনো সুযোগ নেই। আপনাদের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হবে না।

এ পরিকল্পনা ঘোষণার পরপরই গাজায় বিক্ষোভ শুরু করেন ফিলিস্তিনিরা। তবে ট্রাম্পের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের বিবাদ নিরসনে এ শান্তি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

ট্রাম্পের দাবি, তার পরিকল্পনা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুই দলের জন্যই সুবর্ণ সুযোগ। দুই রাষ্ট্রের জন্যই এটি একটি বাস্তববাদী সমাধান, যা ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রত্ব ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা দুটিই রক্ষা করবে।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:

১. জেরুজালেম হবে ইসরাইলের অবিভক্ত রাজধানী। কিন্তু শহরটির পশ্চিমাংশ ফিলিস্তিনিদের সম্ভাব্য রাজধানী হতে পারে।

২. অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের অবৈধ বসতিকে ইহুদি রাষ্ট্রটির অংশ বলে স্বীকৃতি।

৩. ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্ভাব্যতার প্রস্তাবে বর্তমান আকারের দ্বিগুণেরও বেশির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কোন ভূখণ্ডের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তা পরিষ্কার করে বলেননি।

ট্রাম্প আরো দাবি করেন, তার এ পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘নিজস্ব একটি স্বাধীন রাষ্ট্র’ অর্জনের সুযোগ। তবে কীভাবে তা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ফিলিস্তিনি বা ইসরায়েলিকে তাদের ঘর থেকে উচ্ছেদ করা হবে না।’ তার মানে পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলিদের সরানো হবে না।

ইহুদিদের কাছে ‘টেম্পল মাউন্ট’ ও মুসলিমদের কাছে আল-হারাম আল-শরীফ হিসেবে পরিচিত পবিত্র ভূমি জেরুজালেম পরিচালনায় জর্দানের রাজার সঙ্গে কাজ করবে ইসরায়েল। প্রসঙ্গত, ওই অঞ্চল পরিচালনায় ধর্মীয় ট্রাস্ট চালায় জর্দান।

ফিলিস্তিনিদের জন্য বরাদ্দ অঞ্চল নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে চার বছর আলোচনা করতে পারবে ফিলিস্তিন। ওই চার বছর ফিলিস্তিনিরা এ পরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা ও ইসরায়েলের সঙ্গে মধ্যস্থতা করতে পারবে। এভাবেই ফিলিস্তিনিরা অর্জন করবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র।

কিন্তু এই শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার সময় ফিলিস্তিনি পক্ষের কোনো নেতার উপস্থিতি দেখা যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব আখ্যা দিয়ে বহু আগেই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তারা। প্রকাশের আগেই ট্রাম্পের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ফিলিস্তিনিরা।

এদিকে এই প্রস্তাবের পক্ষে আরব দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানের রাষ্ট্রদূতেরা উপস্থিত ছিলেন।

ওএ/এইচআর

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও