নিরাপত্তা পরিষদে সরাসরি ইসরাইলকে সমর্থন দিল যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

নিরাপত্তা পরিষদে সরাসরি ইসরাইলকে সমর্থন দিল যুক্তরাষ্ট্র

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮

print
নিরাপত্তা পরিষদে সরাসরি ইসরাইলকে সমর্থন দিল যুক্তরাষ্ট্র

গতকাল গাজায় ইসরাইলি সহিংসতা বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘে কূটনীতিকদের বৈঠকে সরাসরি ইসরাইলের পক্ষে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বৈঠকে উত্তপ্ত ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সময় প্রকাশ্যে ইসরাইলকেই সমর্থন দেন মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালি।

সোমবার তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলি সেনারা গুলি চালালে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়। গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলে বিক্ষোভে ইসরাইলি সেনাদের হামলা চরমমাত্রায় রূপ নেয় এ সপ্তাহে এসে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পরদিন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরী বৈঠকের আহবান করা হয়।

বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি ইসরাইলের বিরুদ্ধে 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' এর অভিযোগ জানালে ইসরাইল তা অস্বীকৃতি জানায়। তারা সহিংসতার জন্য হামাসকে দায়ী করে।    

মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপস্থিতিতে পোলান্ডের প্রতিনিধি জোয়ানা রোনেকার আহবানে নিহত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় বৈঠকে।    

অনেক দেশ গাজায় সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে এবং কয়েকটি দেশ এর জন্য তদন্তের আহবান করলে এ নিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি রিয়াদ মানসৌর বলেন, 'এটি অপরাধ, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।'
তিনি ইসরাইলি বাহিনীকে থামানোর জন্য এবং  ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বরোচিত এ হামলার আন্তর্জাতিক তদন্তের আহবান জানান।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘের পূর্বাকার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'আপনারা কোন ব্যবস্থা নেয়ার আগে কত ফিলিস্তিনিকে প্রাণ দিতে হবে? এভাবেই কি তারা প্রাণ হারাতে থাকবে? পিতামাতাদের থেকে সন্তানদের এভাবেই ছিনিয়ে নেয়া হবে?'

তার বক্তব্যের পরেও ইসরাইলি প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানোন বলেন, 'সীমান্ত ঘেঁষে এটা কোন বিক্ষোভ ছিল না, তারা কোন প্রতিবাদকারীও না। তারা হচ্ছে সহিংসতা সৃষ্টিকারী।'

তিনি এরজন্য হামাসকে দায়ী করেন। ড্যানি বলেন, 'হামাস ফিলিস্তিনিদের উস্কানি দিচ্ছে। তারাই এসব মানুষকে গুলির আওতাধীন এলাকায় এনে জড়ো করছে। যার কারণে সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। আর জাতিসংঘে এসে তারা এখন অভিযোগ করছে। এ মৃত্যুখেলায় নিষ্পাপ শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে।'

এসময় জাতিসংঘের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি  নিকি হ্যালি তার বক্তব্যে ইসরাইলের পক্ষে নিয়ে বলেন, এমন পরিস্থিতি কোন দেশই ইসরাইলের মতো নিজেদের সংবরণ করতে পারতো না।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রাণহানীর জন্য মার্কিন সরকার দুঃখপ্রকাশ করছে। তবে তিনি এরজন্য হামাসকে দায়ী করে বলেন,  কোন ভুল নেই, গতকালের ঘটনার জন্য হামাস কিন্তু সন্তুষ্ট।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের পক্ষে সমর্থন দিলেও জার্মানি, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের আহবান করে। যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি কারেন পিয়েরস বলেন, গতকালের ঘটনায় গাজায় যে পরিমান তাজা বুলেট খরচ করা হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজঙ্ক। নিরাপত্তা পরিষদ কোনভাবেই এ ঘটনাকে এড়াতে পারে না।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নাকবা দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার দাবিতে পদযাত্রার আয়োজন করে আসছে। ১৯৪৮ সালে তাদের ওই অঞ্চল থেকে জোর করে উচ্ছেদ করা হয়। মঙ্গলবার এর ৭০ বছর পূর্তি হল। কিন্তু এর একদিন আগে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফুঁসে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা। এ সময় প্রতিবাদী সাধারণ জনগণের ওপর ইসরাইলি সেনারা গুলি চালালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।  

মার্চ ৩০ তারিখে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে পাঁচটি জায়গায় সমবেত হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের এই কেন্দ্রগুলো সীমান্তের কাছাকাছি এবং তা থেকে দূরে যেখানে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর বাস করে এই উভয় জায়গাতেই রয়েছে।

এই কর্মসূচি শুরুর পর ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১১০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজারের বেশি মানুষ।

আরজি/

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad