জাতিসংঘে মুখোমুখি ইসরাইল-ফিলিস্তিন, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

জাতিসংঘে মুখোমুখি ইসরাইল-ফিলিস্তিন, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮

print
জাতিসংঘে মুখোমুখি ইসরাইল-ফিলিস্তিন, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

গাজায় ইসরাইলি সহিংসতা বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘে কূটনীতিকদের বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধির মধ্যে। গতকাল নিরাপত্তা পরিষদে আগের দিনের ঘটনা নিয়ে এক জরুরী বৈঠক আহবান করা হলে অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মুখোমুখি হন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বিবিসির সংবাদ।

সোমবার তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলি সেনারা গুলি চালালে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়। গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলে বিক্ষোভে ইসরাইলি সেনাদের হামলা চরমমাত্রায় রূপ নেয় এ সপ্তাহে এসে।

বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি ইসরাইলের বিরুদ্ধে 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' এর অভিযোগ জানালে ইসরাইল তা অস্বীকৃতি জানায়। তারা সহিংসতার জন্য হামাসকে দায়ী করে।    

মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপস্থিতিতে পোলান্ডের প্রতিনিধি জোয়ানা রোনেকার আহবানে নিহত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় বৈঠকে।    

অনেক দেশ গাজায় সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে এবং কয়েকটি দেশ এর জন্য তদন্তের আহবান করলে এ নিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি রিয়াদ মানসৌর বলেন, 'ঘৃণ্য গণহত্যা'র জোরালো পরিভাষা ব্যবহার করে গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানাই।

তিনি ইসরাইলি বাহিনীকে থামানোর জন্য এবং  ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বরোচিত এ হামলার আন্তর্জাতিক তদন্তের আহবান জানান।

তিনি বলেন, এটি অপরাধ, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

এ ছাড়া তিনি ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘের পূর্বাকার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আপনারা কোন ব্যবস্থা নেয়ার আগে কত ফিলিস্তিনিকে প্রাণ দিতে হবে? এভাবেই কি তারা প্রাণ হারাতে থাকবে? পিতামাতাদের থেকে সন্তানদের এভাবেই ছিনিয়ে নেয়া হবে?

তার বক্তব্যের পরেও ইসরাইলি প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানোন বলেন, সীমান্ত ঘেঁষে এটা কোন বিক্ষোভ ছিল না, তারা কোন প্রতিবাদকারীও না। তারা হচ্ছে সহিংসতা সৃষ্টিকারী।

তিনি এরজন্য হামাসকে দায়ী করেন। ড্যানি বলেন, হামাস ফিলিস্তিনিদের উস্কানি দিচ্ছে। তারাই এসব মানুষকে গুলির আওতাধীন এলাকায় এনে জড়ো করছে। যার কারণে সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। আর জাতিসংঘে এসে তারা এখন অভিযোগ করছে। এ মৃত্যুখেলায় নিষ্পাপ শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নাকবা দিবস উপলক্ষে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার দাবিতে পদযাত্রার আয়োজন করে আসছে। ১৯৪৮ সালে তাদের ওই অঞ্চল থেকে জোর করে উচ্ছেদ করা হয়। মঙ্গলবার এর ৭০ বছর পূর্তি হল। কিন্তু এর একদিন আগে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফুঁসে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা। এ সময় প্রতিবাদী সাধারণ জনগণের ওপর ইসরাইলি সেনারা গুলি চালালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।  

মার্চ ৩০ তারিখে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে পাঁচটি জায়গায় সমবেত হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের এই কেন্দ্রগুলো সীমান্তের কাছাকাছি এবং তা থেকে দূরে যেখানে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর বাস করে এই উভয় জায়গাতেই রয়েছে।

এই কর্মসূচি শুরুর পর ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১১০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজারের বেশি মানুষ।

আরজি/

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad