টিলারসনের জায়গায় পম্পেওকে কেন পছন্দ ট্রাম্পের?

ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ | ৪ আষাঢ় ১৪২৫

টিলারসনের জায়গায় পম্পেওকে কেন পছন্দ ট্রাম্পের?

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

print
টিলারসনের জায়গায় পম্পেওকে কেন পছন্দ ট্রাম্পের?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে টিলারসনকে সরিয়ে দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের পরিচালক মাইক পম্পেওকে নিয়োগ দিয়েছেন। পম্পেও ইরানের প্রতি আক্রমণাত্মক মনোভাবের জন্য পরিচিত। গত ১৪ মাস সিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পম্পেও ট্রাম্পকে নিয়মিত গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করতেন। একই সঙ্গে প্রতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের মতামত ট্রাম্পকে জানাতেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের প্রতি আনুগত্যের কারণে সিআইএ প্রধান হিসেবে তার কর্তব্য ঠিকভাবে পালন করেননি বলে সমালোচিত হন পম্পেও। তার সততা নিয়ে সন্দেহ করার বিভিন্ন কারন রয়েছে।

পম্পেও বার বার রাশিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে প্রভাবিত করেনি বলে মনে করেন গোয়েন্দারা, অথচ গোয়েন্দা সংস্থাটি এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তেই পৌঁছয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পম্পেও স্টেট ডিপার্টমেন্টে আরও আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে আসবেন। তিনি কিউবায় কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে কারাগার চালু রাখার পক্ষপাতী এবং সিআইয়ের নির্মম টর্চারের কৌশলের সমর্থক।

একই সঙ্গে পম্পেও ইরান ও ‘র‍্যাডিক্যাল ইসলামি’ জঙ্গিবাদকে তার দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে হুমকি বলে মনে করেন। এই সবগুলোই ট্রাম্পের মনোভাবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

পম্পেও ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি বাতিল করার পক্ষে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের সমর্থক তিনি। ট্রাম্প আর কিম জং উনের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা দেখা দিলেও রোববার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে ‘কোনো ছাড়’ দেবে না।

আবার সময়ে সময়ে পম্পেও রাশিয়ারও সমালোচনা করেছেন। যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে তার। ওইসব কর্মকর্তা রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মনে করে, কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো নয়।

মঙ্গলবার টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘সিআইএ’র পরিচালক মাইক পম্পেও আমাদের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবেন। তিনি দারুণ দায়িত্ব পালন করবেন। রেক্স টিলারসনকে তার সেবার জন্য ধন্যবাদ।’

ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করেছে, গত শুক্রবার টিলারসনকে পদ ছাড়তে বলেছিলেন ট্রাম্প।

এরপর আফ্রিকা সফর সংক্ষিপ্ত করে সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিরেন টিলারসন। এরপর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

নিজেদের মতভিন্নতার কথা স্বীকার করে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক হিসেবে টিলারসনের সঙ্গে গত ১৪ মাসে চমৎকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমি তার এবং তার পরিবারের মঙ্গল কামনা করি।’

সম্প্রতি টিলারসনের সরে যাওয়ার গুঞ্জন উঠে। শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে ইরান, কাতার অবরোধ এবং উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেয়া নীতির সঙ্গে একমত হতে পারছিলেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর একে একে তার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা সরে গেছেন কিংবা সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এমন সময় টিলারসনকে সরিয়ে দেয়া হলো, যখন নির্বাচনে রুশ সহায়তা নেয়ার বিতর্কে চাপে আছেন ট্রাম্প।

এমআর/এমএসআই
আরও পড়ুন...
পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনকে সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প

 
.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ





আলোচিত সংবাদ