অনশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা

ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫

অনশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:০০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

print
অনশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা

অনশন ছাড়া দাবি আদায় হবে না। সরকার অবস্থান কর্মসূচিকে মূল্যায়ন করছে না। এজন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম। লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র জি এম শাওন জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অনশনে বসতে চাই। কিন্তু নিরাপত্তার কথা বলে সেখানে যেতে দিচ্ছে না প্রশাসন।

'জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় অনেক শব্দ, ধুলা, মানুষের হাঁটা চলার কারণে নানা সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য শহীদ মিনারে অনশনে বসতে চেয়েছিলাম' যোগ করেন তিনি।

শাওন বলেন, ২০১৮ সালে জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হবে। এ জন্য আমরা নিজেদের যৌক্তিক অধিকার আদায় না করে ঘরে ফিরবো না। যতদিন দরকার হয় আন্দোলন করে যাব। আর অনশনে না গেলে সরকার দাবি আদায় করবে না। এ জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি আমরণ অনশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি জানান, ২৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই শিক্ষকদের দাবি সরকার মেনে নিলে বছরে ৮০ কোটি টাকা সরকারের কোষাধ্যক্ষে জমা হবে। কিভাবে জমা হবে তা সরকারের লোকরা আলোচনায় বসলে আমরা দেখিয়ে দিবো।

এ সময় পাশে থাকা বেসরকারি শিক্ষক- কর্মচারী ফোরামের সহ-সভাপতি মো. হারুন-উর-রশিদ হাওলাদার বলেন, চলতি বছর হলো শিক্ষকদের দাবি আদায়ের বছর।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিলো শিক্ষকদের সরকার হিসেবে আমরা সবার দাবি পূরণ করবো। কিন্তু সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ। এই সময়ের মধ্যে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করাতে হবে বর্তমান সরকারের মাধ্যমে বলেন এই শিক্ষক।

মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৭ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারি। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যদি মানবেতর জীবন যাপন করেন, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বে কিভাবে সরকার এমন প্রশ্ন তুলেছেন বেসরকারি শিক্ষক- কর্মচারী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব রেহান উদ্দিন।

তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হলে শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। দায়সারা ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা রাখলে দেশ সামনের দিকে কোনো দিন এগিয়ে যাবে না।

'বর্তমান সরকার শিক্ষকদের বেতন এক লাখ টাকা হওয়ার কথা বলে নানা আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই শিক্ষদের বেতন লাখ টাকা হওয়ার কথা বলেছেন। আর এখন শিক্ষকরা রাস্তায় বসে আন্দোলন করছেন' যোগ করেন তিনি।

১০ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন শিক্ষকরা। ১৪ জানুয়ারি আমরণ অনশনে যাওয়ার কথা ছিলো তাদের। কিন্তু বিশ্ব ইজতেমাকে সম্মান জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা।

এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির একটি সংগঠন বাকবিশিশ। এছাড়া রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণফোরাম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টসহ নাগরিক সমাজের একাধিক প্রতিনিধি।

শিক্ষা জাতীয়করণের লক্ষ্যে পাঁচটি শিক্ষক সংগঠন মিলে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছে। সংগঠনগুলো হলো— বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (নজরুল), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (শাহ আলম-জসিম), বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন এবং জাতীয় শিক্ষক পরিষদ।

এফবি/এসবি 

আরো পড়ুন...
লাশের মতো পড়ে আছেন শিক্ষকরা, অসুস্থ ১২৫ জন

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad