ইসির সময় পেল আ’লীগ-জাপা, বাকিদের শোকজ

ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

ইসির সময় পেল আ’লীগ-জাপা, বাকিদের শোকজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:০৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭

print
ইসির সময় পেল আ’লীগ-জাপা, বাকিদের শোকজ

রাজনৈতিক দলগুলো তাদের শর্ত প্রতিপালন করছে কিনা তা জানাতে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৩১ নভেম্বর দলগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ইসিকে এ বিষয়ে অবগত করার জন্য বলা হয়। কিন্তু সময় মতো জবাব না দিতে পারায় ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ পাঁচটি দল জবাব দেয়ার জন্য আরো  চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে অতিরিক্ত সময় দিয়ে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

.

অপরপক্ষে ১২টি দল নির্ধারিত সময়ে কোনো জবাব দেয়নি। এমনকি অতিরিক্ত সময়ও চায়নি কমিশনের কাছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কেনো নেয়া হবে না, তা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ইসিতে জানাতে বলা হয়েছে।

বুধবার এ সংক্রান্ত ইসির যুগ্ম-সচিব আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত চিঠি দুটি দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়ে বলে ইসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওসমান গনি জয় পরিবর্তন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, ইসির নিবন্ধিত ৪০টি দলের অর্ধেকের মতো দল তাদের জবাব দিয়েছে। এছাড়া সময় চেয়েছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। সময় চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এদেরকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ইসির জবাব দিতে বলে কমিশন।

এছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, গণতন্ত্রী পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, গণফোরাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সহ ১২ দল ইসির চিঠির কোনো জবাব দেয়নি এবং তারা জবাব দেওয়ার জন্য কোনো সময়ও চায়নি। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না। তা আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনে জানাতে বলা হয়েছে।

এর আগে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, কিছু দল সময় চেয়েছে তাদেরকে সময় দেওয়া হবে। আর যারা কিছুই জানায়নি তাদেরকে জবাব দেয়ার জন্য আবারো তাগাদা দিয়ে চিঠি দেয়া হবে।

ইসি সূত্র জানায়, দলগুলো শর্তপূরণ করেই নিবন্ধিত হয়েছিল। তাদের বেশ কিছু বিষয় প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। এজন্য ইসির ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা মেনে সর্বশেষ অবস্থা জানাতে নিবন্ধিত দলগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ইসির রোডম্যাপে বলা হয়েছে- নিবন্ধিত দলগুলো বিধি-বিধানের আলোকে পরিচালিত হচ্ছে কি না, খতিয়ে দেখার আইনানুগ দায় ইসির রয়েছে। তারা শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাতে সব নিবন্ধিত দল একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, দলগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর নির্বাচিত কমিটি ও মাঠ অফিসের কার্যক্রম ঠিক রয়েছে কিনা তা সঠিকভাবে যাচাইয়ে একটি ‘বিশেষ দল’ তদন্তে নামবে। নিবন্ধনের সময় দেওয়া শর্ত পূরণ করতে না পারলে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘কারণ দর্শানো’ নোটিশ দিয়েই প্রাথমিক পদক্ষেপ শুরু হবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর এ পর্যন্ত ৪২টি দল বিন্ধিত হয়েছে। এরমধ্যে স্থায়ী সংশোধিত গঠনতন্ত্র দিতে না পারায় ২০০৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল এবং আদালতের আদেশে ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ রয়েছে।

এইচকে/এএসটি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad