জামায়াতের চিহ্নিতরা নির্বাচন করতে পারবে না: ইসি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

জামায়াতের চিহ্নিতরা নির্বাচন করতে পারবে না: ইসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৩:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

print
জামায়াতের চিহ্নিতরা নির্বাচন করতে পারবে না: ইসি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের চিহ্নিত নেতাদের গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যলয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। হাইকোর্টের আদেশে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নিবন্ধন বাতিল করায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাদের অনেকের বিচার হয়েছে। তো তাদের যদি কোনো সংসদ সদস্য বা কোনো নেতা অন্যকোনো দলে বা স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে আসে সেটা গ্রহণ করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা আমি কেমন করে বলবো। তবে জামায়াতে ইসলামীর চিহ্নিত যারা আছেন, তাদেরকে আমরা নির্বাচনে গ্রহণ করবো না।’

 

.

তিনি আরো বলেন, ‘স্বতন্ত্র হিসেবেও যদি জামায়াতের কেউ নির্বাচনে আসতে চায় তাহলে নির্বাচন কমিশনের মিটিংয়ে তাদেরকে ইন্ডিভিজুয়ালি তাদের বিষয়টা বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবো।’

‘একজন একটা ধোঁয়া তুলে দিল এটা জামায়াতের লোক, তাহলে সেটার বিষয়ে আমি কেমন করে বলব। কোনো অভিযোগ পেলে সেটি কমিশন আগে পর্যালোচনা করে দেখবে। জামায়াতের সবাইতো চিহ্নিত না। যারা চিহ্নিত তাদেরকে অবশ্যই নির্বাচনে গ্রহণ করা হবে না,’ যোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের দণ্ড হওয়ার পর দলটির নিবন্ধন বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। স্বাভাবিক কারণেই দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না জামায়াত নেতারা। এরও আগে নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লাকে মার্কা হিসেবে ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন আদালত। আর দলটির মার্কা দাঁড়িপাল্লা।

সর্বশেষ জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র কিংবা ২০ দলীয় জোটের প্রধান বিএনপির হয়ে কোনো কোনো আসনে নির্বাচন করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। তার মধ্যেই এ ধরনের কথা বললেন নির্বাচন কমিশনার।

‘জামায়াত একটি সন্ত্রাসী দল’

২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় নিবন্ধন বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেন হাইকোর্ট৷ বিচারপতি এম মোয়াজ্জেম হোসেন, এম. ইনায়েতুর রহিম এবং কাজী রেজা-উল-হকের সমন্বয়ে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ বিভক্ত রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, ‘জামায়াতের গঠনতন্ত্র শুধু সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিকই নয়, জামায়াত একটি সন্ত্রাসী দল৷’

এর আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কয়েকটি সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে জামায়াতের গঠনতন্ত্র সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়। সেই রিটের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে রায় ঘোষণা করেন আদালত৷

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ৷ সেই সময় জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল৷

২০১০ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ হয়। অপরাধ প্রমাণ হওয়া এ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। 

এইচকে/আরপি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad