সমান সুযোগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চান নারী নেত্রীরা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

সমান সুযোগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চান নারী নেত্রীরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৭

print
সমান সুযোগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চান নারী নেত্রীরা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীসহ সকল ভোটারের জন্য সমান সুযোগ, না ভোটের বিধান এবং গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার সুপারিশ করেছেন নারী নেত্রীরা। সোমবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২২ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন।

.

সংলাপ শেষে নারী প্রগতি সংঘের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রোকেয়া কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির দাবি করেছি। সবার জন্য সমান ‍সুযোগের কথা বলা হলেও এটি মাত্র কয়েকটি রাজনৈতিক দলের জন্য করা হয়। বাংলাদেশের সবার জন্য যে সমান অধিকার সেটা আমরা নির্বাচনে দেখতে চাই। সেখানে সবার জন্য অর্থাৎ নারী ও পুরুষসহ সব ভোটারের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীদের সমান অধিকার নেই। তারা বাংলাদেশে নিরাপত্তা থেকে শুরু করে চলাফেরা, রাজনৈতিক দলগুলো থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা সমান সুযোগ পায় না। আমরা এটি নিশ্চিত করার জন্য বলেছি। মেয়েরা উত্তাধিকারের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পায় না, এ জন্য তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এ ছাড়া নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার না করার কথা বলেছি। কারণ ধর্মের ব্যবহারের ফলে নারীরা সবচেয়ে বেশি ভিকটিম হয়।’

তিনি আরো বলেন, অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সংলাপের সময় রাজনৈতিক দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার বিধানের বিরোধিতা করেছে। আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। যাদের গঠনতন্ত্র সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তাদের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছি।

প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যারোমা দত্ত বলেন, অনেক নতুন প্রজন্মের ভোটার হয়েছে। তাদেরকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবারই আমরা দেখি নির্বাচনের আগে ও পরে নারীরা সহিংতার শিকার হয়। এ ব্যাপারে নারীদের যাতে সাপোর্ট দেয়া হয়, নির্বাচনে যাতে তারা সহিংসতার শিকার না হয় তার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা যাতে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের জেলারেল সেক্রেটারি পারভীন সুলতানা ঝুমা বলেন, ‘দেশের ৫২ শতাংশ নারী ভোটারের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচিত সংসদ আসে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সেই নারীদের যেন চাপ প্রয়োগ করা না হয়। নির্বাচনে নারীরা যাতে অন্যের মতামতের ওপর প্রভাবিত না হয়ে নিজের মতামত প্রয়োগ করতে পারেন তার ব্যবস্থা ইসিকে করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় মসজিদে খুতবা দিয়ে নারীদের ভোটে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু এটা না করে তাদের ভোট দিতে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া উচিত।’  

এ ছাড়াও বক্তারা সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বাড়ানো, সরাসরি ভোটে নারীদের বেশি করে মনোনয়ন দেয়াসহ বিভিন্ন দাবি জানান।

মতবিনিময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন

ফর ইউ ফর এভারের (ফাইফে) প্রেসিডেন্ট রেহানা সিদ্দিকী; বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব উইমেন ফর সেলফ এমপাওয়ারমেন্টের (বাউশী) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাহবুবা বেগম নিরু; নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মাসহুদা খাতুন শেফালী; ডিজ্যাবল্ড রিহ্যাবিলিটেশন এন্ড রিসার্স এসোসিয়েশনের (ডিআরআরএ) নির্বাহী পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন; বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. মালেকা বানু, নারী নেত্রী রেখা চৌধুরী,  রিনা সেন গুপ্তা, নাসরিন বেগম, মনসুরা আকতার প্রমুখ।  

এইচকে/আরপি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad