‘ফেরত পাঠানোই রোহিঙ্গা সঙ্কটের একমাত্র সমাধান’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

‘ফেরত পাঠানোই রোহিঙ্গা সঙ্কটের একমাত্র সমাধান’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৭

print
‘ফেরত পাঠানোই রোহিঙ্গা সঙ্কটের একমাত্র সমাধান’

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের জন্য জাতীয় ঐক্য একান্ত জরুরি। শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমেই এ সঙ্কটের একমাত্র সমাধান হবে বলে মনে করছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

.

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সমস্যা: বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সংগঠনের নেতারা এ মতামত দেন।

লিখিত বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সুজন নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন নেত্রী অং সান সু চি বলেছিলেন, তার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। কেন তারা দেশ ছেড়ে যাচ্ছে তাও খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু, তার দেওয়া এ ভাষণের পরও এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসেছে বাংলাদেশে। পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বেশ আগেই।

তিনি বলেন, সু চি’র বক্তব্যের গুরুত্ব থাকলে অন্তত তিনি রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগ দ্রুত বন্ধ করে একটি আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হতেন।

চীনের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের সমালোচনা করে আলী ইমাম বলেন, মিয়ানমারে বিভিন্ন দেশের যত স্বার্থই থাকুক, তারা হতভাগ্য রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ ও তাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে কার্যকরি প্রভাব রাখতে পারে। অথচ বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত যখন কক্সবাজার থেকে অন্য কূটনীতিকদের সঙ্গে সফর করে এসে বলেন, এদেশে আসা রোহিঙ্গাদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাবু ও কম্বল, তখন আমরা সত্যিই ব্যথিত হই। প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গাদের সর্বাগ্রে প্রয়োজন মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নিরাপদ ও সম্মানজনক ব্যবস্থা করা।

আমাদের জনবহুল দেশটি কি রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে নিয়ে নেবে? এমন প্রশ্ন তুলে সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়ে এই মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, এরূপ ভাবনা একেবারেই অসঙ্গত। রোহিঙ্গাদের পক্ষে যে বিশ্ব জনমত, তাকে কাজে লাগাতে সক্রিয় ও বিরামহীন প্রচেষ্টা নিতে হবে। যারা মিয়ানমারের এ নিধনযজ্ঞে সক্রিয় বা নিরবে সমর্থন করছে আমাদের প্রতিও তাদের দায়বদ্ধতা আছে। এটা কূটনৈতিক চ্যানেলে তুলে ধরতে হবে বারংবার।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সরকারই গঠন করেছিল কফি আনান কমিশন। সে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট জাতীয় জীবনে এক বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটি আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। কিন্তু, এই দেশটির সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আজও তৈরি হলো না কেন তা বোধগম্য নয়। আমরা এ সমস্যার সমাধান চাই। শরণার্থীদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এর সমাধান হোক।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের পক্ষে প্রায় ১০ লক্ষ শরণার্থীর চাপ সহ্য করা দুরূহ হবে। এছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যু ভয়াবহ নিরাপত্তাজনিত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এ বিরাট উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আবদ্ধ করে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। ফলে তারা জীবন-জীবিকা নির্বাহের প্রচেষ্টায় স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, এমনকি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে পারে। উপরন্তু বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, চরমভাবে নিগৃহীত ও ক্ষুব্ধ এ জনগোষ্ঠীকে স্বার্থান্বেষী মহল উগ্রবাদের পথে প্ররোচিত করতে পারে, যা আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন যাবৎ বঞ্চিত, নিগৃহীত। এ সঙ্কটের আশু সমাধান প্রয়োজন। ৭১’ এর পরে এ ধরনের জাতীয় দুর্যোগ আর আসেনি। এ সঙ্কটের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়েছে।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন- সুজন নির্বাহী সদস্য ড. হামিদা হোসেন, আবুল হাসান চৌধুরী, এম আনোয়ারুল হক, ড. সি আর আবরার, এ এস এম আকরাম প্রমুখ।

কেএইচ/আইএম

print
 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad