হরতালে বন্ধ ফুটপাত, ডিএসসিসির নির্দেশে নয়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

হরতালে বন্ধ ফুটপাত, ডিএসসিসির নির্দেশে নয়

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৭

print
হরতালে বন্ধ ফুটপাত, ডিএসসিসির নির্দেশে নয়

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে ফুটপাত হকার মুক্ত রাখার। তবে নগরবাসী এই সুবিধা উপভোগ করতে পারছে না বলে অভিযোগ পল্টন এলাকার পথচারীদের।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পল্টন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বায়তুল মোকারম মসজিদের উত্তর পাশের গেইটের ফুটপাত দখলে রাখা সব দোকান বন্ধ। কিন্তু, বায়তুল মোকারমের পাশের ফুটওভার ব্রিজ থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত ফুটপাতের দোকানগুলো খোলা।

বায়তুল মোকারমের পাশের ফুটপাত দখলে রেখে কেউ মোবাইলে গেম খেলছে, কেউ আবার আড্ডা দিচ্ছে। তবে পল্টন থেকে বায়তুল মোকারম ফুটওভার ব্রিজের আগে ফুটপাত দখলে রেখে সব চোকির দোকান খোলা। তাদের পণ্য বিক্রির হাকডাক চলছে।

কেন এক পাশের ফুটপাতের দোকান বন্ধ? আর অন্য পাশের দোকান খোলা এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবর্তন ডটকমকে একাধিক হকার জানান, বায়তুল মোকারমের পাশের ফুটপাতের দোকান হরতালের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পল্টন মোড়ের দিকের ফুটপাতের দোকান হরতাল পালন করছে না। তাই খোলা রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের নির্দেশ না মেনে জামায়াতের ডাকা হরতালে দোকান বন্ধ কেন রাখছেন- এমন প্রশ্নে সালাউদ্দিন নামের এক হকার বলেন, জামায়াতের হরতালে সবাই দোকান বন্ধ রেখেছে। তাই আমিও রেখেছি।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন তো অন্যায়ভাবে আমাদের দোকান বন্ধ রাখে। তারা আমাদের পেটে লাথি মারে। আবার আমাদের থেকে টাকা নেয়।

এ সময় পাশে থাকা আর এক হকার মোজাম্মেল বলেন, টাকার ভাগ কম হলে উচ্ছেদ করে। আর সাংবাদিকদের দেখানোর জন্য আমাদের আইডি কার্ড করে। কতবার আইডি কার্ড করা হয়েছে, তা নিজেও জানি না।

এ বিষয়ে পরিবর্তন ডটকমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো হকার এককভাবে মতামত দিয়েছে, তার জন্য মন্তব্য করা উচিত নয়।’

তিনি বলেন, ‘ফুটপাতের চিত্র অনেক পাল্টে গেছে। ২৪ বছরের চিত্র মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পরিবির্তন হবে না। অনেক হকার পেটের জন্য ঝুঁকি নিয়ে ফুটপাতে বসছে।’

করপোরেশনের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘হরতালের কারণে কে কি করল তা বলতে পারব না। তবে এ বিষয় প্রশাসন, কাউন্সিলর সবাইকে সমন্বিতভাবে দেখা উচিত।’

তিনি দাবি করেন, ‘ফুটপাতে অনেক হকার কমে গেছে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে সব সময় কাজ করতে পারি না। এ জন্য অনেকে পেটের তাড়নায় ফুটপাতে বসে।’

ডিএসসিসি থেকে ফুটপাতে হকার বসার জন্য একটা সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। কর্ম দিবসের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। এছাড়া ছুটির দিনে বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত।

এফবি/আইএম

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad