ইভিএম যেন গলার কাঁটা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

ইভিএম যেন গলার কাঁটা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭

print
ইভিএম যেন গলার কাঁটা

এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের সময় বুয়েটের সহায়তায় কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা সহস্রাধিক ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এখন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। কারণ এগুলো ব্যবহার না করায় একে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কোনোটা ত্রুটি হলে তা ঠিক করার মতো ইসির দক্ষ জনবল বল নেই। অার তাই ইসির কর্মকর্তারা এগুলো অকার্যকর বা নষ্ট করে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

সূত্র জানায়, যেসব ইভিএম কাজ করার মতো অবস্থায় নেই। সেগুলো নষ্ট করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি কমিশন সভায় এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে নিজেরা সমালোচনা এড়াতে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে কি করা যায় তার জন্য একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী পরবর্তীতে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

কমিশন সভার কার্যপত্রে বলা হয়, বর্তমান ইভিএমগুলো ফিনিশড প্রোডাক্ট নয় এবং এগুলো ৬ বছরের বেশি পুরানো হওয়ায় এর কার্যক্ষমতা নেই। এছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সময়ে সৃষ্ট কারিগরি ত্রুটিগুলোর সমাধান করা হয়নি। ভবিষ্যতে ইভিএম ব্যবহারে কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা সমাধান করা দুরুহ হতে পারে। সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বিধায় ইভিএমগুলো অকার্যকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

এছাড়া ওই সভায় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বল্প পরিসরে কিভাবে ইভিএম ব্যবহার করা যায়; সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে বলেও জানায় ইসি সূত্র।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে প্রথম ইভিএম ব্যবহার করা হয়। পরে নায়ায়ণগঞ্জের কয়েকটি ওয়ার্ডে, নরসিংদী পৌরসভা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পুরো নির্বাচন ইভিএমে করা হয়। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন রাজশাহী ও রংপুরে ছোট পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করার পর তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া কয়েকটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সময় ঠিকমতো কাজ করছিল না। আর সেগুলো পরিচালনাকারী কর্মকর্তাও তা ঠিক করতে না পারায় কমিশনকে সমালোচনা শুনতে হয়। এ কারণেই কর্মকর্তারা এগুলো পরিচালনায় অনাগ্রহী।

সূত্র আরো জানায়, ইভিএমের ব্যাটারি নিয়ে গত কমিশনের সময় বুয়েটের সঙ্গে সম্পর্কে ভাটা পড়লে ইসি নিজেই ইভিএম তৈরির চেষ্টা করে। এরই মধ্যে তা কমিশন সভায় উপস্থাপনও করা হয়েছে। এ বিষয়ে গতবছরই ইসি একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে দিয়েছে বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, অনেক পুরানো হওয়ায় বেশিরভাগ ইভিএম অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। যেগুলোর ত্রুটি ঠিক করা যায়নি সেগুলো নষ্ট করা ছাড়া উপায় নেই। কোন প্রক্রিয়ায় এগুলো নষ্ট করা হবে তা কারিগরি টিমের সহায়তা নিয়ে ঠিক করা হবে।

তবে এরমধ্যে কিছু ইভিএম এখনও ভালো রয়েছে। এগুলো দিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের একটি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি

এইচকে/এসবি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad