‘পক্ষপাত দুষ্ট নীতি পরিহার করুণ, নয়তো রংপুরে ঢুকতে দেব না’

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪

অর্থমন্ত্রীকে তামাক চাষী ও ব্যবসায়ীরা

‘পক্ষপাত দুষ্ট নীতি পরিহার করুণ, নয়তো রংপুরে ঢুকতে দেব না’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৭

print
‘পক্ষপাত দুষ্ট নীতি পরিহার করুণ, নয়তো রংপুরে ঢুকতে দেব না’

বিড়ি শিল্পের প্রতি অর্থমন্ত্রী পক্ষপাত দুষ্ট নীতি পরিহার না করলে রংপুরে তাকে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে বৃহত্তর রংপুর তামাক চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতি।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ফকির।

তিনি বলেন, ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’। এটা কারোই অজানা নয়। সেটা সিগারেট হোক, কিংবা বিড়ি। উভয় মানুষের জন্য ক্ষতিকর। বরং আমাদের দেশের ক্ষেত্রে বলতে পারি, সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ক্ষতিকর। কেননা বিড়িতে তামাক কম থাকে এবং সিগারেটে তামাকের পরিমাণ বেশি থাকে। সুতরাং বন্ধ করলে বিড়ি ও সিগারেট উভয় বন্ধ করে দিন। কিন্তু তার বদলে অর্থমন্ত্রী ব্রিটিশ টোব্যাকোর সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন বিড়ি বন্ধ করে দেবেন। এটা কেমন কথা? দেশের একটি কুটির শিল্পের বিপক্ষে কোন স্বার্থে উনি উঠে পড়ে লেগেছেন, তা তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে চারটি জেলার মানুষ এই বিড়ি শিল্পের উপর নির্ভরশীল। তাদের জন্য কোন বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে বিড়ি শিল্প বন্ধ করা হলে কতজন মানুষ বেকার হয়ে পড়ে, সেটা কি তিনি জানেন? এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল তামাক। সুতরাং চাষাবাদ তামাক শিল্প নির্ভর। চাষাবাদে জড়িত শ্রমিকেরা তামাক শিল্প নির্ভর। সেই তামাক প্রক্রিয়ায় যারা থাকেন, তাদেরও জীবিকা তামাক শিল্প নির্ভর। সুতরাং এই অঞ্চলের উন্নয়ন থেকে শুরু করে টিকে থাকা সবই তামাক শিল্পের উপর প্রতিষ্ঠিত। উনি এক ঘোষণা দিলেন আর সব বন্ধ হয়ে গেল। বিষয়টা এত সহজ নয়।

রংপুর অঞ্চলের টিকে থাকা বিড়ি শিল্পের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল জানিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এখানের মানুষের যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে তা এই বিড়ি শিল্পের কল্যাণে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে তা বন্ধ হতে দেব না আমরা। প্রয়োজনে সকল তামাক চাষী ও শ্রমিক রাজপথে আন্দোলনে নামবো।

এ সময় অর্থমন্ত্রীর বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যের সমালোচনা করে সমিতির সভাপতি হামিদুল হক বলেন, আপনারা সাংবাদিকেরাও জানেন তিনি কেমন ভাষায় কথা বলেন। তিনি এখন বলেন বন্ধ করে দেব, আবার বলছেন এখন নয় পরে। তার বক্তব্যে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে এই অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। বিড়ি শিল্প ধ্বংস হলে এই অঞ্চলে অন্যান্য পেশাজীবীরাও সমস্যায় পড়বেন। সার্বিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষ মঙ্গায় পতিত হবে। এ বিষয়টিকি অর্থমন্ত্রী বিবেচনা করছেন?

অনুষ্ঠানের শেষভাগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তিনি এখনো আমাদেরকে সময় দেননি। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। আমাদের দাবি একটাই। তামাক চাষী ও শ্রমিকদের সঙ্গে পক্ষপাত দুষ্ট কোনো আচরণ যেন করা না হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম তুহিন, সদস্য বিকাশ রায়, রুবেল মিয়া, মাসুদ হাসান, আমজাদ হোসেন, মিলন রায় ও নিতাই চন্দ্র।

এআরপি/এএস

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad