স্মার্টকার্ড বিতরণে গতি বাড়ানোর তাগিদ

ঢাকা, রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮ | ৮ মাঘ ১৪২৪

স্মার্টকার্ড বিতরণে গতি বাড়ানোর তাগিদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৭

print
স্মার্টকার্ড বিতরণে গতি বাড়ানোর তাগিদ

বর্তমানে যেভাবে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হচ্ছে তার চেয়ে গতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে এ সংক্রান্ত কারিগরি কমিটি। এজন্য স্মার্টকার্ড উৎপাদন ও নাগরিকদের হাতে তা পৌঁছে দিতে দ্রুত দশ আঙ্গুলের ছাপ-চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি সংগ্রহে পাঁচ শতাধিক জোড়া ডিভাইস কেনার তাগিদ দেয়া হয়েছে। শনিবার ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, গত বুধবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সিইসি, নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, এনআইডি উইং ও কারিগরি টিমের সদস্যরা বৈঠক করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চলতি মাসেই সরকারি অর্থায়নে অন্তত প্রতি উপজেলার জন্য এক জোড়া (৫১৭ জোড়া) ডিভাইস কেনার প্রস্তাব আসে। যা দিয়ে বড় পরিসরে স্মার্টকার্ড বিতরণে যাওয়া সম্ভব হবে।

দ্রুত এসব সামগ্রী কেনা না হলে উপজেলা পর্যায়ে স্মার্টকার্ড বিতরণ কাজ মুখ থুবড়ে পড়বে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিতরণ শুরুর পর ১০ মাসে এক কোটি নাগরিকের হাতেও পৌঁছেনি স্মার্টকার্ড। বিদ্যমান গতিতে কাজ চললে অন্তত দুই বছর লাগবে ৯ কোটি ভোটারের হাতে স্মার্ট কার্ড পৌঁছাতে।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন অক্টোবরে ঢাকা মহানগরীতে স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু করে।

কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসিতে যোগ দিয়ে মার্চে চট্টগ্রামে স্মার্ট কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করা হয়। পর্যায়ক্রমে আরো কয়েকটি সিটি করপোরেশনে বিতরণ কাজ চলছে।

কিন্তু চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে ৯ কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে বিতরণে যেতে পারেনি কমিশন।

অবশ্য গত এপ্রিলে বিতরণ কাজ দ্রুত করতে ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি নেওয়া বন্ধ রাখার সুপারিশ করে ইসি সচিবালয়। যেই প্রস্তাব নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে ভেবে কমিশন নাকচ করে দেয়।

সূত্র আরো জানায়, ফ্রান্সের একটি সংস্থার সঙ্গে স্মার্টকার্ড সংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের পর নতুন সঙ্কটের মধ্যে সরকারের অর্থায়নে প্রযুক্তি কিনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। শুরুতে ২ হাজার জোড়া ডিভাইস কেনার চিন্তা করলেও বিদেশি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ায় এতো অর্থায়ন নিয়ে আর এগোতে পারছে না সাংবিধানিক সংস্থাটি। এক্ষেত্রে কারিগরি টিম কাজের সুবিধার্থে প্রত্যেক উপজেলার জন্য অন্তত একজোড়া ডিভাইস কেনার সুপারিশ দেয়।

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, ফ্রান্সের অবার্থুর টেকনোলোজিসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ নতুন করে বাড়ানো হচ্ছে না। সেই সঙ্গে নাগরিকদের স্মার্টকার্ড বিতরণও অব্যাহত রাখতে হবে। ৯ কোটি ভোটারের বিষয়ে চুক্তি থাকলেও এখন দেশের মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ১৮ লাখের বেশি। প্রতিবছর বাড়ছে প্রায় ২৫ লাখ করে।

তাই দেশীয় জনবল দিয়ে, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশেই স্মার্টকার্ড তৈরি করার চিন্তা করছে কমিশন এবং এটা সম্ভব।

এইচকে/এএসটি

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad