হামের জীবাণুতে সংক্রমিত ত্রিপুরাপাড়ার শিশুরা

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪

হামের জীবাণুতে সংক্রমিত ত্রিপুরাপাড়ার শিশুরা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৭

print
হামের জীবাণুতে সংক্রমিত ত্রিপুরাপাড়ার শিশুরা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ত্রিপুরাপাড়ায় অসুস্থ ও মৃত শিশুরা হাম রোগের জীবাণু সংক্রমিত হয়েছিল। তারা অপুষ্টিতে ভুগছিল এবং এর ফলে সংক্রমণ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছিল। সোমবার মহাখালী আইইডিসিআর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান। ত্রিপুরাপাড়ায় ছড়িয়ে পড়া ‘অজ্ঞাত’ রোগ ও মৃত্যুর কারণ ক্লিনিক্যাল ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং রোগতাত্ত্বিক সমীক্ষার পর্যবেক্ষণ জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক আজাদ বলেন, তারা অপুষ্টিতে ভুগছিল এবং এর ফলে সংক্রমণ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছিল। অপুষ্টির কারণে সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

তিনি বলেন, ত্রিপুরা পাড়ায় মোট ৮৫ বাড়িতে ৩৮৮ জন বাস করেন। এরা কেউই হামের টিকা পাননি। এই ৩৮৮ জনের মধ্য বয়সভেদে সন্দেহজনক হাম আক্রাস্ত রোগীর সংখ্যা ৯০ জন।

আর আক্রান্তদের মধ্যে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী ৯২.৫ শতাংশ, ১ থেকে ৪ বছর বয়সী আক্রান্তের হার ৬১.৯ শতাংশ, নয় মাস বয়সীদের ৪০ শতাংশ, ৯ থেকে ১১ মাস বয়সীদের ২০ শতাংশ, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ১৫ শতাংশ, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের ১০ শতাংশ এবং ২০ বছরের উপরে বা নিচে ০.৯ শতাংশ।

হামের টিকা না পাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, টিকা কর্মসূচি পরিচালিত হয় ওয়ার্ড ভিত্তিক মাইক্রোপ্লান অনুযায়ী। ত্রিপুরাপাড়া মাইক্রোপ্লানে উল্লেখ নেই। এ কারণে ত্রিপুরাপাড়া বাদ পড়ে আসছে।

তিনি জানান, এ জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সকল ওয়ার্ডের টিকাদান মাইক্রোপ্লান পর্যালোচনা করা হবে। কোনো ছোট জনপদ বাদ গেলে সেগুলোকে মাইক্রোপ্লানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তবে দেশে হাম রোগের টিকা কার্যক্রম ঠিকভাবে চলছে দাবি করে অধ্যাপক আজাদ বলেন, দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় হাম রোগ প্রাদুর্ভাবের কোনো আশঙ্কা নেই।

ত্রিপুরাপাড়ায় হামের সংক্রমণ সম্পর্কে তিনি জানান, ত্রিপুরাপাড়ায় হামের সংক্রমণের লক্ষণ চলতি বছরের ২২ জুন প্রথম দেখা দেয়। সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত শিশুর মধ্যে জ্বরের লক্ষণ দেখা দেয় ১০ জুলাই। প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ৮ জুলাই। চিকিৎসা পাওয়ায় ১২ জুলাইয়ের পর কেউ মারা যায়নি। মৃত নয়টি শিশুর বয়স ৩ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আরো জানান, ঘটনা শোনার পর আইইডিসিআর’র টিম সেখানে গিয়ে ভর্তি রোগীদের ‘রক্ত ও গলার নিঃসরণ’ এর নমুনা সংগ্রহ করে। ঢাকায় যথাক্রমে আইইডিসিআর ল্যাবরেটরি এবং জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পোলিও ও মিজলস ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

ত্রিপুরাপাড়ায় বর্তমান ও পববর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, চিকিৎসাধীন রোগীদের সুচিকিৎসা চলছে। এলাকার বাসিন্দা বীরেন্দ্র ত্রিপুরার বাড়িতে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইপিএইচএন কর্তৃক উক্ত পল্লীতে পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এইসঙ্গে ওই এলাকায় রোগ-ব্যাধি ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত পর্যাবেক্ষণ চলমান থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সাবরীনা ফ্লোরা, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী প্রমুখ।

কেএইচ/এমএসআই

আরও পড়ুন...
সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ে অজ্ঞাত রোগে ৯ শিশুর মৃত্যু

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad