রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার হতে মা-বাবার এনআইডি লাগবে

ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার হতে মা-বাবার এনআইডি লাগবে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৭

print
রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার হতে মা-বাবার এনআইডি লাগবে

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিশেষ এলাকায় ভোটার হতে হলে তার বাবা-মা, ফুফু, চাচার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) লাগবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

.

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সোমবার দুপুরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয় সভা শেষে সচিব সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা প্রবেশের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়ার বিষয়ে বিশেষ এলাকা আছে। বিশেষ এলাকা এর আগে ২০টি উপজেলা ছিল। এবার আরো ১০টি এলাকা চিহ্নিত করেছি। এ ৩০টি এলাকার জন্য বিশেষ কমিটি রয়েছে। বিশেষ এলাকার যে কার্য পরিধি আছে সেখানেও নির্ধারিত করা আছে কী কী বিষয় তারা দেখবেন। কোনো বিদেশি ভোটার যাতে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে সে বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নিতে পারেন, চেক দিতে পারেন। কীভাবে চেকটা দেবে তারও নির্দেশনা দেওয়া আছে। তার বাবা-মার আইডি দেখবে, ফুফু-চাচার আইডি দেখবে, এ ছাড়া আরো অন্যান্য পদক্ষেপ আছে সেগুলো নিয়ে কমিটি যদি নিশ্চয়তা প্রদান করে সে ক্ষেত্রে বিদেশ আগত কোনো লোক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।’

সচিব বলেন, ‘২৫ জুলাই থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার যোগ্যদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ৯ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর তিনটি ধাপে মোট ৭২ দিনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হবে। ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। যাদের বয়স ১ জানুয়ারি ২০০০ বা তার আগে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে এবার তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া কেউ ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চাইলেও তা করতে পারবেন। তাছাড়া ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হবে।’

সচিব আরো বলেন, ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদনের জন্য সাত পর্যায়ে সাত ধরনের কমিটি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি, বিভাগীয় কমিটি, জেলা, উপজেলা, বিশেষ এলাকার জন্য আদালা কমিটি, সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য কমিটি, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার জন্য কমিটি আছে। এবারের ভোটার তালিকায় বাদ পড়া ৩৫ লাখ ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা কাজ করছি।’
বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য হালনাগাদের সময় নাম সংশোধন বা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে পারবেন কি না—জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘১৩ নম্বর ফরম পূরণ করে ভোটার এলাকা স্থানানান্তর করা যাবে। তথ্য হালনাগাদে নাম সংশোধনের বিষয়টি রাখা হয়নি। নাম বা অন্য যেকোনো সংশোধনের জন্য যেকোনো দিন নির্বাচন অফিসে যেতে হবে। আর এটা সারা বছরই করা যাবে।’

‘সারা বছরই যে কেউ নতুন করে ভোটার আইডি করতে পারবেন, সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন, সংযোজন-বিয়োজন করতে পারবেন, কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে যেকোনো সময় উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসে আবেদন করতে পারবেন,’ যোগ করেন সচিব।

নারী ভোটার বাড়ানোর বিষয়ে সচিব জানান, ‘নারী ভোটার বাড়ানোর জন্য আমরা বিশেষ উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। মহিলা বিষয়কমন্ত্রী এবং সচিবের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন যে অধিদফতরগুলো আছে, সেই অধিদফতরগুলোর বিভাগ, জেলা, উপজেলা লেভেলের কর্মকর্তারা আছেন তাদের আমরা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি। এ ছাড়া নারী নেতৃত্বে যারা আছেন বিশেষ করে নারী জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মীদের এ কার্যক্রমের সহযোগিতা আমরা চেয়েছি।’

সভায় সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এইচকে/এনডিএস

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad