পরোপকারই ভালো লাগে শের আলীর

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪

পরোপকারই ভালো লাগে শের আলীর

কামরুল হিরণ ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০১৭

print
পরোপকারই ভালো লাগে শের আলীর

মাত্র কদিন আগেই পালিত হয়েছে ‘মা’ দিবস। ওই দিন আপন মাতৃটানে কমবেশি মাকে নিয়ে মেতেছিলেন সবাই। কিন্তু শের আলীর কাছে যেন সব মা তার মা। নিজ মুখে না বললেও এর প্রমাণ মিলেছে তার কর্মে।

২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টা। সিএমপি’র লালখান বাজার চাঁনমারি রোডে সড়ক দুর্ঘটনায় শামছুন্নাহার নামে এক মহিলাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। উৎসুক জনতা যখন দুর্ঘটনার শিকার ওই মহিলার দিকে হতবাক তাকিয়ে, তখনই শের আলী তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ভর্তি করেন। শুধু তাই নয়, অপেক্ষা করতে থাকেন ওই মায়ের জ্ঞান ফেরার আশায়। পরে আহতের কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে ফোন করেন তার ছেলেকে। ওই মা ৮ দিন হাসপাতালে অবস্থান করেন। এ সময় প্রতিদিন শের আলী ডিউটি শেষ করে ওই মায়ের খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে আসতেন।

শের আলীর মায়ের প্রতি মমত্ববোধের পর এবার জানা যাক শিশুর প্রতি তার দায়িত্বশীলতার মনোভাব।

৪ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ খবর পান সিএমপি’র বন্দর বিভাগে কর্মরত ট্রাফিক কনস্টেবল এনামুল হক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ব্যাচমেটের মৃত্যুর খবর পেয়ে মুহূর্তেই সেখানে ছুটে যান শের আলী। নিহত এনামুলের রেখে যাওয়া ১১ মাসের শিশু তাহসিনের অসহায় মুখ ভাবায় তাকে। কি করা যায় এই অবোধ সদ্য এতিম ছোট্ট শিশুটির জন্য! অবশেষে পিতার মৃত্যুতে হঠাৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়া শিশুটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন এই শের আলী। সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে থাকা শের আলীর ব্যাচমেটদের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। এ আহ্বানে সাড়াও মিললো ব্যাপক। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যসহ সাধারণ মানুষ। সবার সহযোগিতায় জোগাড় হয় এক লাখ নব্বই হাজার টাকা। এই টাকা নিহত ব্যাচমেটের রেখে যাওয়া শিশু তাহসিনের নামে সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখায় একটি এফডিআর হিসাব খুলে তাতে জমা রাখেন শের আলী। যে টাকার একমাত্র সত্ত্বাধিকারী ওই শিশুটি।

নিহত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল এনামুলের স্ত্রী হুরে জান্নাত নির্মা জানালেন, প্রতিনিয়ত শের আলী তাদের খোঁজখবর রাখছেন। দুঃসময়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য শের আলীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানালেন তিনি।

এতক্ষণে পাঠক নিশ্চয় পেয়ে গেছেন শের আলী’র পরিচয়। হাঁ এই সেই সিএমপি’র পুলিশ কনস্টেবল শের আলী। দুর্ঘটনা কবলিত আহত শিশু কুলসুমকে বুকে জড়িয়ে ক্রন্দন সিক্ত যে একদিন ঊর্ধ্বশ্বাসে হাসপাতালের দিকে ছুটে গিয়েছিলো। মিডিয়ায় আলোড়ন তোলা তার সেই কর্মকাণ্ড দেশ-বিদেশে শুধু ব্যাপকভাবে প্রশংসিতই হয়নি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর মুখও উজ্জ্বল করেছিল। শের আলীকেও এনে দিয়েছিল মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)।

আর হাঁ সেই ছোট্ট শিশু কুলসুম এখন সুস্থ। এখন সে কক্সবাজারের আনাস বিন মালেক নূরানি মাদ্রাসায় শিশু শ্রেণিতে পড়ে। শের আলী এখনো তার নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন।

এই নিরন্তর ছুটে চলার যুগে যখন মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত তখন কনস্টেবল শের আলীর মত কেউ কেউ মানবতার ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এভাবে বার বার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে জানতে চাইলে শের আলীর সাবলীল ও সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘আমার ভাল লাগে’।

মহানুভবতা ও কর্মে শের আলী প্রমাণ করেছেন, ‘নাম মানুষকে ফুটিয়ে তোলে না মানুষ নামকে জাগিয়ে তোলে।’

কেএইচ/জেআই/এমডি

print
 

আলোচিত সংবাদ