‘নারী পুলিশদের পেশাদারিত্ব অত্যন্ত উঁচুমানের’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৭ | ২ ভাদ্র ১৪২৪

‘নারী পুলিশদের পেশাদারিত্ব অত্যন্ত উঁচুমানের’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০১৭

print
‘নারী পুলিশদের পেশাদারিত্ব অত্যন্ত উঁচুমানের’

বাংলাদেশ নারী পুলিশ সদস্যদের কর্মকুশলতা ও পেশাদারিত্ব অত্যন্ত উঁচুমানের বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কর্মক্ষেত্রে নারী পুলিশের অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর-১৪ এলাকায় পুলিশ স্টাফ কলেজে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন অ্যাওয়ার্ড-২০১৭ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নারী পুলিশ সদস্যদের পুলিশিংয়ের মত চ্যালেঞ্জিং পেশায় অনবদ্য অবদান রাখছে। তারা জনগণের মালের নিরাপত্তা বিধান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য কাজে অত্যন্ত সাফল্য প্রদর্শন করছেন। নারী পুলিশ নিয়ে গঠিত পূর্ণাঙ্গ নারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও উইমেন এন্ড ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে কর্মরত নারীরা কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। যার ফলে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার নির্যাতিত নারী ও শিশুদের একান্ত নির্ভরতা ও আশ্রয়স্থল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি জেন্ডার সংবেদনশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠছে। পুলিশে নারীর অবস্থান দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। নারীরা পুলিশের উচ্চ পদে আসীন হচ্ছেন। সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগমকে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ফাতেমা বেগম আমাদের গর্ব, নারী পুলিশের গর্ব। ভবিষ্যতেও পুলিশের নেতৃস্থানীয় পদে আরো অধিক সংখ্যক নারী নিযুক্ত হবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মত চ্যালেঞ্জিং পেশায় নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছে। পাশাপাশি তারা নিপীড়িত, নির্যাতিত, বঞ্চিত নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ভরসাস্থল, আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও নারী পুলিশ সদস্যরা দক্ষতা, যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে বিশ্ববাসীর অকুন্ঠ প্রশংসা অর্জন করেছে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার প্রয়াসে বর্তমান সরকার জেন্ডার বৈষম্য বিলোপ, সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, নারী ও শিশু পাচার রোধ, সাইবার ক্রাইম রোধ ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের মূলধারার অংশীদার হিসেবে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যগণ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।

আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ১৯৭৪ সালে ১৪ জন নারীর যোগদানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশে নারীর যে অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছিল, তা আজ সাফল্য ও দক্ষতার মানদন্ডে সুসংহত হয়েছে। শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও নারী পুলিশ সদস্যগণ সাহসিকতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ও যুদ্ধ বির্ধ্বস্ত দেশ হাইতি ও কঙ্গোতে বাংলাদেশ পুলিশের দুটি নারী ইউনিট জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করছে।

অনুষ্ঠানে সাতটি ক্যাটাগরির মধ্যে বর্ষসেরা মহিলা উদ্যোক্তার পুরস্কার পেয়েছেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), বর্ষসেরা সংগঠনের পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন), আজীবন সম্মাননা অর্জন করেছেন অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম, শ্রেষ্ঠ নারী পুলিশ হয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোছাঃ শেহেলা পারভীন, জামালপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওনক জাহান ও সিরাজগঞ্জ র‌্যাব-১২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস। সাহসিকতার জন্য পদক পেয়েছেন ডিএমপির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (খিলগাঁও জোন) নাদিয়া জুঁই, র‌্যাব সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (সরবরাহ) শাখা শামীমা আরা বেগম, ডিএমপির ট্রাফিক (উত্তর) বিভাগ শিক্ষানবিস সার্জেন্ট পান্না আক্তার, বাগেরহাট জেলার গোয়েন্দা শাখার নারী কনস্টেবল অনিমা খাঁ এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের নারী কনস্টেবল মোছাঃ লতা পারভীন, Excellence in Service পেয়েছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কনফিডেন্সিয়াল) তাসমিয়াহ্ তাহলীল, পুলিশ স্টাফ কলেজের উপ-পরিচালক (একাডেমিক) রওশন সাদিয়া আফরোজ, ডিএমপি গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার নিশাত রহমান মিথুন এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সহকারী পুলিশ সুপার শামসুন নাহার খানম, Community Service পেয়েছেন উত্তরা ৮ এপিবিএন এর সহকারী পুলিশ সুপার তানজিনা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উইমেনস্ সাপোর্ট সেন্টারের ইনচার্জ সহকারী পুলিশ সুপার সোনিয়া পারভীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের নারী এসআই (নিরস্ত্র) ইয়াছমিন আরা বেগম এবং বরগুনা জেলার এসআই (নিরস্ত্র) জান্নাতুল ফেরদৌস, শান্তিরক্ষী পুরস্কার পেয়েছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (প্রশাসন) রখফার সুলতানা খানম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্র্রেনিং এন্ড স্পোর্টর্স) মাহফুজা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রবাসী সহায়তা সেল) আসমা বেগম রিটা এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসআই মোসাঃ মর্জিনা খাতুন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানগণ, বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি ডিআইজি মিলি বিশ্বাস, নারী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যগণ এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমকে/এএস

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad