ইসিকে মলম পার্টি, পকেটমার নিয়েও কাজ করতে হয়: সিইসি
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

ইসিকে মলম পার্টি, পকেটমার নিয়েও কাজ করতে হয়: সিইসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

ইসিকে মলম পার্টি, পকেটমার নিয়েও কাজ করতে হয়: সিইসি

নির্বাচন কমিনশনকে (ইসি) মলম পার্টি, পকেটমার, ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

৪৯ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার যোগদান উপলক্ষ্যে ১২দিনব্যাপী এই কর্মশালায় আয়োজন করা হয়।

সিইসি বলেন, আমাদের দেশে মলম পার্টি, ব্যাগ টানা পার্টি, ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়। পকেটমার নিয়ে কাজ করতে হয়। তারা কেউ হয়তো ভোটার, কেউ হয়তো কমিশনার হইয়া যায়। দেখা গেল যে গুলিস্তানে হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয়। কিছুদিন পর হয়তো দেখা গেল সে নেতা, পাতি নেতা, উপ-নেতা তারপর পূর্ণ নেতা। তারপর কমিশনার। এগুলোওতো আমাদের দেখতে হয়। হু নোজ যে একদিন এমপি হবেন না তিনি। সুতরাং সেই ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক সময় বলা হয়, আমেরিকা এমন করে, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিতে এইরকম হয়, আমাদের এখানে হয় না কেন? সেদিন একটা পলিটিক্যাল পার্টি এসছিল, আমি অত্যন্ত নিচু গলায় বললাম কানে কানে, আগে সুইজারল্যান্ড হতে হবে, তারপরে। ইউ মাস্ট থিঙ্ক গ্লোবালি, বাট অ্যাক্ট লোকালি। সেটা সে কী অবস্থা, তার ওপর নির্ভর করে।

সিইসি বলেন, সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের, যারা সবকিছু নিয়ে কাজ করেন, তাদের সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের (নির্বাচন কর্মকর্তাদের)। এই দায়িত্ব আর কারো উপর দেওয়া হয়নি। তার মানে সমাজের সর্বস্তরের সংমিশ্রনগুলো, তার সবগুলো আপনারা একসঙ্গে পেয়ে যাচ্ছেন। এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়। সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবেলা করার বিষয় হলো- চেষ্টা, দক্ষতা ও একাগ্রতা। আর আপনাদের ব্যক্তিত্ব।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এখন টক অব দি কান্ট্রি। এটা নিয়ে অনেক কথা বলা হয়। আমরা বলি কী-সেই একই কথা, যে সুইজারল্যান্ডে তো পেপার ভোট হয়। কিন্তু সেখানে তো যুদ্ধের মতো বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হয় না। পুলিশ, আর্মি সকলকে নামাতে হয় না। পোস্টারে আকাশ দেখা যায় না, বাতাস আসে না। সেই দেশে তো এমন হয় না। তাই বলে কী আমাদের এখানে নির্বাচন করতে হবে না। সেভাবেই নির্বাচন করতে হবে।

তিনি বলেন, কেন ইভএম? ইভিএমের ফলেই এখন আর সেই দশটা হুন্ড, বিশটা গুণ্ডার যুগ নেই। এদের ভাড়া করতে প্রার্থীদের যেতে হবে না। যারা ভোট ছিনতাই করবে, এদের কাছে যেতে হবে না। আর নির্বাচনে যারা দায়িত্বে থাকে তাদের পেছনে যারা টাকা দিয়ে, তাদের কাছেও যেতে হবে না। একমাত্র ইভিএমই পারে, ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের নিয়ে যেতে।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এইচকে/এসবি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও