‘পানি রপ্তানি করবে বাংলাদেশ’

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৪ ফাল্গুন ১৪২৬

‘পানি রপ্তানি করবে বাংলাদেশ’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

‘পানি রপ্তানি করবে বাংলাদেশ’

ডেল্টা প্লান বস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ফ্রেশ পানি রপ্তানি করবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

তিনি বলেন, ‘ডেল্টা প্লানের মতো এমন পরিকল্পনা ভারত, মিয়ানমারসহ পাশের কোনো দেশ হাতে নেয়নি যা আমরা নিয়েছি। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। পানির উৎস এখানে অফুরন্ত। আমরা এর যথাযথ ব্যবহার করবো।’

রোববার রাজধানীর বিআইআইএসএস ভবনে ‘ঢাকা মেগাসিটির উষ্ণায়ণ প্রশন কৌশল: টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বলেন ডা. শাসুল আলম।

আস্ট্রেলিয়ার কার্টেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশ ইনস্ট্রিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাডিজ (বিআইআইএসএস) এ সেমিনারের আয়োজন করেন। 

প্রসঙ্গত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষিত রেখে উন্নয়নের ধারাবহিকতায় কি কি করণীয় তা আছে ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তে। এই পরিকল্পনায় বন্যা, নদীভাঙন, নদীশাসন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. শামসুল আলম বলেন, ‘আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে হবে। আমরা ছাদ কৃষির কথা বলছি। এটা নিয়ে ভালোভাবে গবেষণার প্রয়োজন আছে। কারণ ছাদ কৃষিতে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হচ্ছে। এমনিতেই প্রতিবছর ভূগর্ভস্থ পানির স্থর নিতে নেমে যাচ্ছে। ছাদ কৃষির জন্য বৃষ্টির পানি ধরে রেখে সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে।’

এসময় সারা দেশে ভূগর্ভস্থ পানির ম্যাপিংয়ের বিষয়ের প্রয়োজনিয়তা তুলে ধরে শামসুল আলম বলেন, ‘এটা করা সম্ভব।’

সভাপতির বক্তব্যে সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গুজরাটে বাড়িতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা বাধ্যতামূলক। এমন আমাদের রাজধানীতেও হওয়া উচিত।’ 

‘মিটিগেশন স্ট্রাটেজিজ ফর আরবান মাইক্রো ক্লাইমেট অব ঢাকা মেগাসিটি টু রিডিউস অ্যাডভার্স ক্রাইমেট চেঞ্জ ইমপ্যাক্ট ’ বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনা করেন, কার্টেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সের অধ্যাপক আশারাফ দেওয়ান এবং বিআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, বিআইআইএসএসের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত এম. ফজলুল করিম, কার্টেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইকনোমিক্স, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রোপার্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল সলিম। প্যানেল ডিসকাশনের সভাপতিত্ব করেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ ডেভেলমেন্টের পরিচালক ড.সলিমুল হক।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ঢাকা শহরের তাপমাত্রা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা নগরিক জীবন এবং বাস্তুসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন রোগ জীবাণুর টিকে থাকার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এছাড়া এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা মানুষের শরীর এবং মনোজগতে নেইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

বক্তারা জানান, এ সমস্যা সমাধনের জন্য বেশবিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হব, যেমন, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসবরণ, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যথেষ্ট পরিমাণ জলাশয় নিশ্চিত করতে হবে।

এইচকে/এইচআর

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও