নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে অপ্রয়োজনীয়: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে অপ্রয়োজনীয়: প্রধানমন্ত্রী

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে অপ্রয়োজনীয়: প্রধানমন্ত্রী

সম্প্রতি ভারতের মোদি সরকার দেশটিতে যে সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন পাস করেছে তাকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে গাল্ফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বুঝলাম না তারা (ভারত) এটা কেন করলো। এটার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’

উল্লেখ্য, গেল বছরের ডিসেম্বরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস করে ভারতের পার্লামেন্ট। ওই আইন অনুসারে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান এই ৬টি সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। কিন্তু ভারতে মুসলমানদের স্থান হবে না ওই নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী।

ওই আইন পাসের পর থেকে দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক ও উত্তেজনা চলছে। সিএএ ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এতে ভারত থেকে মুসলিমরা নিপীড়নের ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসবে।

কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বে না।

এ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এটাই বলে আসছে যে, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন কিংবা নাগরিকপঞ্জী ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারত সরকারও বলে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘গত বছরের অক্টোবরে আমার নয়া দিল্লি সফরের সময়ও নরেন্দ্র মোদি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

এদিকে, ভারত থেকে অভিবাসন হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, না, ভারত থেকে পাল্টা অভিবাসন হয়নি। কিন্তু ভারতের ভেতরে মানুষ নানা সমস্যায় ভুগছে।

ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা নানা ক্ষেত্রে আরও প্রসারিত হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার শুরুটা যেহেতু মিয়ানমারে, সেহেতু তাদেরই সমাধান করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মিয়ানমার নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের প্রধান উদ্বেগগুলো নিয়ে কোনো অর্থবহ উদ্যোগ নিচ্ছে না। দুটি প্রত্যাবাসন উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে, কারণ একজন রোহিঙ্গাও স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে চায় না। এতে প্রমাণ হয় যে, মিয়ানমার প্রত্যাবসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের বোঝা বাংলাদেশকে একাই বইতে হচ্ছে। এই সমস্যা যদি চলতে থাকে তাহলে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা গুরুতরভাবে আক্রান্ত হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিৎ এ সংকটের সমাধা না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে জড়িত থাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমার আর্মির সাঁড়াশি অভিযানের শিকার হয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। জাতিসংঘ বলেছে, গণহত্যার উদ্দেশ্যেই রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা, ধর্ষণসহ নানা নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমার।

মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রূতি দিলেও যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

আরপি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও