পূজা নিয়ে ভুল বোঝানো হচ্ছে: ইসি সচিব

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

পূজা নিয়ে ভুল বোঝানো হচ্ছে: ইসি সচিব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২০

পূজা নিয়ে ভুল বোঝানো হচ্ছে: ইসি সচিব

ফাইল ছবি

পূজার মধ্যে ভোট না করার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভুল বোঝানো হচ্ছে, তবে তাদের ভুল ভেঙে যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন।

মো. আলমগীর বলেন, ‘ছাত্ররা আন্দোলন কেন করছেন, কারা এটিকে সংগঠিত করছেন, সেটা আমাদের কাছে তথ্য নেই। হয়ত কেউ পেছন থেকে তাদের বুঝাচ্ছেন যে পূজার দিনে ভোট হচ্ছে, অথবা মহামান্য আদালত যে আদেশ দিয়েছেন বুঝে শুনেই দিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনও বুঝে শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিশ্চয়ই তাদের বুঝানো হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘তাদের হয়ত বলা হচ্ছে গোপন করে অন্যভাবে বোঝানো হচ্ছে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা ভুল বুঝতেই পারেন। কারণ তাদের তো বয়স কম। আমার ধারণা তাদের এই ভুলটা কেটে যাবে এবং বিষয়টি বুঝতে পারবে।’

ইসি সিনিয়র সচিব বলেন, ‘১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা, মার্চে স্বাধীনতার মাস, তারপর বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী পালনের নানা রকম প্রোগ্রাম অছে। এরপর এপ্রিলে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। মে মাসে নির্বাচনের যে তারিখ আছে, তা কোনোভাবেই করা সম্ভব না। শিডিউল এমনভাবে দিতে হবে যে প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থীদের অবশ্যই কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিতে হবে প্রচারের জন্য। এ ক্ষেত্রে একদিন কম দিয়ে ১৪ দিন সময় দিলে প্রার্থীরা আবার আদালতে যেতে পারবেন। আদালতও আইনের পক্ষে রায় দেবেন। তাই সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই কমিশন অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গভাবে ৩০ জানুয়ারি ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি ক্যালেন্ডারে ২৯ তারিখ পূজার কথা বলা আছে। ক্যালেন্ডার তো সেদিন হয়নি, এটি অক্টোবরে হয়েছে এবং নভেম্বরে এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হয়েছে। সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ক্যালেন্ডার রয়েছে। তখন কেন তারা সরকারের কাছে বলেননি পূজা ২৯ নয় ৩০ তারিখে। সরকার যদি মনে করত পূজা ৩০ তারিখে, তাহলে সেদিন পূজার তারিখ ঘোষণা করতেন। তাহলে আমরাও ২৯ তারিখেই শিডিউল দিতে পারতাম কোনো সমস্যা ছিল না। এখন সরকারিভাবে ২৯ তারিখ পূজার তারিখ দেয়ায় সেদিন ভোট দেয়ার সুযোগ ছিল না কমিশনের।’

নির্বাচন পেছানোর রিট খারিজ হওয়ায় আপিল আবেদনের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘আমাদের সব সময় আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। যেকোনো আইনের ব্যাখ্যা বা প্রশাসনিক কোনো কাজ যদি সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে আদালত সেটাকে পরিবর্তন করে দেয় সে ক্ষমতা আদালতের আছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সর্বোচ্চ আদালত। সেখান থেকে যদি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আসে, সেটা অবশ্যই কমিশনের মেনে নিতে হবে।’

মো. আলমগীর আরো বলেন, ‘আমরা আশা করব হাইকোর্ট যেসব যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টেও যারা শুনানি দেবেন তারা নিশ্চয়ই যুক্তি শুনবেন, তারপরও তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই কমিশনকে সব সময় মেনে নিতে হবে।’

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এইচকে/এইচআর

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও