ধর্ষণ নিয়ে সংসদ উত্তাল, ধর্ষকের ক্রসফায়ার দাবি

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

ধর্ষণ নিয়ে সংসদ উত্তাল, ধর্ষকের ক্রসফায়ার দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

ধর্ষণ নিয়ে সংসদ উত্তাল, ধর্ষকের ক্রসফায়ার দাবি

দেশে শিশু, নারী, প্রতিবন্ধ্বিরা ক্রমাগত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে জানিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে ধর্ষকদের ক্রসফায়ারে দেয়ার আবারও দাবি উঠেছে। এবিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলীয় এমপিরা এক জোটে হয়ে বলেছেন, এই পৃথিবীতে তাদের (ধর্ষকদের) থাকার কোন অধিকার নেই। আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাদের ক্রসফায়ারে দিলে কোনো পাপ হবে না । বরং বেহেস্তে যাওয়া যাবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তারা। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকে এ বিষয়ে প্রথমেই আলোচনার সূত্রপাত করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু। এরপর একে এক বক্তব্য রাখেন কাজী ফিরোজ রশীদ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ ও তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী । এর আগেও একাধিক বার এই দাবি জানানো হয়েছে সংসদ থেকে।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ধর্ষন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমার প্রিয় নেতা এরশাদ সরকারের আমলে এসিড সন্ত্রাস খুব বেড়ে গিয়েছিল। তিনি ও তাঁর সরকার উদ্যোগ নিয়ে প্রতিরোধ করার জন্য এসিড-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা করেছিলেন । আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাবো, এখন ধর্ষণ করলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আমার মনে হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে এই ধর্ষণ কন্ট্রোল যাচ্ছে না । আমার মনে হয় সময় এসেছে চিন্তাভাবনা করার ।  ধর্ষনে দায়ী ব্যক্তিদের তার সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থা না করে ‍ৃমৃত্যুদন্ডের ব্যবস্থা করা হোক ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দে্শ্য করে চুন্নু বলেন, আপনার সরকার, আপনার মন্ত্রণালয় এত ক্রসফায়ার দিচ্ছে, সমানে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়, ধর্ষণের মত এরকম একটি জঘন্য অপরাধে এখনো আজ পর্যন্ত একজন বন্দুকযুদ্ধে মারা গেল না! সরকারের কাছে আমার আবেদন থাকবে বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। ক্রসফায়ার ছাড়া কোনক্রমেই এটি বন্ধ যাবে না।

ধর্ষণে দায়ী ব্যক্তিদের সাজা বিষয়টি পত্রিকায় ভালোভাবে ছাপানোর দাবি জানান তিনি।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সম্প্রতিকালে ধর্ষণ মহামারী রূপ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী শিশু, নারী, শ্রমিক, প্রতিবন্ধী নারী এই ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। অর্থাৎ কেউ এদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না । সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর উপর যে মর্মান্তিকভাবে ধর্ষণ হল, সেই ধর্ষণের কোন ক্লু ছিল না কিন্তু আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সে অপরাধীকে ধরতে পেরেছে।  এজন্য আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ দিই।

তিনি দাবি করেন, প্রত্যেকটা জায়গায় ধর্ষকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। কিন্তু ধর্ষণ যখন হয়, তখন এই দেশের মানুষ মনে রাখে। কিন্তু বিচার যখন শেষ হয় তখন এই দেশের মানুষ সেটা মনে রাখতে পারে না।  কারণ ১০ থেকে ১৫ বছর পর এই ধর্ষণের বিচার হয়।

আলোচিত শারমিন ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এর বিচার পেতে ১৬ বছর লেগেছে । তার পিতা এ দেশের স্বনামধন্য একজন শিল্পপতি। তাকে এই ধর্ষণ ও হত্যার বিচার নিয়ে কোটকাচারি করতে করতে ১৬ বছর । খরচ হয়েছে 8 কোটি টাকা। আর একজনের মাত্র ফাঁসি হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনা ঘটছে কিন্তু এর কোনো সাক্ষী নেই। তাহলে এর কি বিচার করবেন? পুলিশ তাদের ধরবে । কিন্তু কোন সাক্ষী থাকবেন না। আমাদের এই সংসদ সার্বভৌম। আমাদের এই সংসদ স্বাধীন। আমাদের বলতে বাধা নেই। কিন্তু কিছু মানবাধিকার সংগঠন তারা বলে আইনের শাসন দরকার। কিন্তু এই ধর্ষকদের বিচার আপনারা কি আইনে করবেন? তাদের জেল হবে না? ফাঁসি হবে না? এক বছর পর তারা বেরিয়ে যাবেন। কেউ খবর রাখবেন না । একমাত্র এই মুহূর্তে যদি এই সমাজকে ধর্ষণমুক্ত করতে চান- তাহলে এনকাউন্টার বা তাকে গুলি করে মারতে হবে্।

ফিরোজ বলেন, এ পর্যন্ত ২৮৪ জনকে গুলি করে মারা হয়েছে। এরা মাদকের আসামি।  পরশুদিনও একজনকে মারা হয়েছে। কোন আইনে মারা হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষিত হল সারা জীবনের জন্য সে কারো কাছে মুখ দেখাতে পারবে না। কোর্টে গিয়ে কি হবে? মাননীয় স্পিকার কোন সাক্ষী নাই। অথচ এই মেয়েকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তাকে বলতে হবে কিভাবে কি ঘটনা ঘটেছে। এর চাইতে লজ্জাজনক ঘটনা আর কিছু নেই। আর সারা জীবন তাকে এই লজ্জা বয়ে বেড়াতে হবে। আমি এই মানবাধিকারকর্মীদের বলবো আপনারা যদি ধর্ষণের শিকার হতেন, আপনাদের মা, বোন যদি ধর্ষণের শিকার হতো? ঘাটাইলের ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পুলিশ সেই দিন যদি সেই ধর্ষণকারীদের ৫ জনকে গুলি করে মধুপুরে নিয়ে মারা হতো তাহলে পরবর্তী সময়ে আবার ওই বাসে ধর্ষণ ঘটনা ঘটতো না।

তিনি বলেন, এখন থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করতেছে । সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ধর্ষণকারীকে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যাওয়া হোক জিজ্ঞাসাবাদের নামে। তাকে নিয়ে ওখানে গুলি করে মারুক। তারা দেখুক সেখানে তার লাশ পড়ে আছে। যদি এদের বিচার করতে পারি বিচার মনে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা হোক। ধর্ষকদের স্বীকারোক্তি নিয়ে ওদেরকে সেখানেই মেরে ফেলা হোক। নতুবা এটা বন্ধ হবে না

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারতে একবার বাস এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে সেখানে ওই ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করে ক্রস ফায়ারে মেরে ফেলা হয়। তারপর ভারতে ধর্ষণের ঘটনা কমে যায়। আমাদের নাতি-নাতনি আছে। যাদের নিয়ে আমরা প্রতিদিন চলি। এটা হতে পারে না। প্রথমত এখানে আইন মন্ত্রী আছেন। তিনি এ বিষয়ে কঠোর আইন করবেন। আর দ্বিতীয়তঃ হল যারা এ কাজ করেছেন তাদের আর এই পৃথিবীতে থাকার কোন অধিকার নেই। এজন্য আমি চুন্নুর প্রস্তাবকে সমর্থন করি।

এরপর মুজিবুল হক মাইজভান্ডারী বলেন, আমি টুপি মাথায় দিয়ে আল্লাহকে হাজির-নাজির করে বলছি এদের ক্রসফায়ারে দিলে কোন পাপ হবে না বরং বেহেস্তে যাওয়া যাবে।

এইচকে

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও