পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন : বীর বাহাদুর
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬

পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন : বীর বাহাদুর

সচিবালয় প্রতিবেদক ১:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন : বীর বাহাদুর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, তরুণরা সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। আগামী বিশ্বকে তারাই নেতৃত্ব দিবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতি বৃষ্টিপাত, খরা ও ঝড় হচ্ছে। অন্যদিকে বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে বন উজাড় করা হচ্ছে। এ দুয়ের প্রভাবে পার্বত্য এলাকায় প্রকৃতি বিনষ্ট হচ্ছে। এই পরিস্থতি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী তরুণ সমাজকে পার্বত্য অঞ্চলগুলোর পরিবেশ রক্ষায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া একান্ত জরুরী।

বুধবার সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস ২০১৯ উপলক্ষ্যে  আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

পার্বত্য বিষয়কমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ

ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিল। তাদের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় আসে। এই মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের শ্রদ্ধা জানাই। সেই সাথে ১৪ ডিসেম্বর যে সকল বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল আমরা সে সকল বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। এরপর ১৫ আগস্ট জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে দেশকে নেতৃত্ব শূন্য করা হয়। আমরা বঙ্গবন্ধুর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে ২০০৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস নির্ধারণ করেন। এরপর প্রতিবছর এদিনটি পার্বত্য দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে মাউন্টেস মেটার ফর ইয়ুথ।

তিনি বলেন, বৈশিক জলবায়ুর নেতৃত্ব তথা মানুষের অপরিকল্পিত জীবনধারনের কারণে বিশ্বব্যাপী পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে প্রতিকুল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতি বৃষ্টিপাত, খরা  ও ঝড় হচ্ছে। অন্যদিকে বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে বন উজাড় এই দুইয়ের প্রভাবে পার্বত্য এলাকায় প্রকৃতি বিনষ্ট হচ্ছে। এই পরিস্থতি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী তরুণ সমাজকে পার্বত্য অঞ্চলগুলোর পরিবেশ রক্ষায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া একান্ত জরুরী। তরুণরা সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। কারণ আগামী বিশ্বকে তারা নেতৃত্ব দিবে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি করা হয়েছে । এই চুক্তি এই অঞ্চলে শান্তি স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে । আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে । আমরা পার্বত্যবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বনায়ন , জীববৈচিত্রের উন্নত ব্যবস্থাপনা , যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১০ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার্বত্য এলাকার শিক্ষা , স্বাস্থ্য , বিদ্যুৎ ও যোগাযাগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে । পার্বত্যবাসীর দারিদ্র্য দূরীকরণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পাহাড়ের সঠিক ব্যবহার এবং এখানে বসবাতরত মানুষের জীবনধারা পরিবর্তন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্বত দিবসকে সামনে রেখে পার্বত্যবাসী তাদের জীবনযাত্রার কল্যানমুখী পরিবর্তনে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন । সাথে সাথে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে সচেষ্ট হবেন বলে আমার বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পৃথিবীর প্রায় ২২ শতাংশ পার্বত্য অঞ্চলে । এ অঞ্চলে পৃথিবীর প্রায় একদশমাংশ মানুষের বাস এবং ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মিঠা পানির উৎস। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন অত্যন্ত বৈচিত্রময়। পর্বতমালা, নদ-নদী, বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী এ অঞ্চলকে করেছে বৈচিত্রপূর্ণ। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন অপরিহার্য।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএস/এফএ

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও