সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনে যুক্ত হচ্ছে  ‘জাতীয় জনসংখ্যা কোটা’

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনে যুক্ত হচ্ছে  ‘জাতীয় জনসংখ্যা কোটা’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনে যুক্ত হচ্ছে  ‘জাতীয় জনসংখ্যা কোটা’

জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইন নতুন করে আবারো সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি প্রস্তুতির মধ্যে বুধবার ইসির ৫৬তম সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এজেন্ডায় সিটি ভোটের বিষয়টি না থাকলেও কবে এ দুই সিটির ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে সেই তারিখ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে বুধবার বিকেল ৩টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, এ সভার অন্যতম পাঁচটি এজেন্ডায় ঢাকা সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি।

ইসি সভার আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ বাজেটের প্রমিতকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা; গণপ্রতিনিধিত্ব আইন-২০১৯ এর খসড়া চূড়ান্তকরণ; সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন-২০১৯ এর খসড়া চূড়ান্তকরণ; একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রতিবেদন মুদ্রণ সংক্রান্ত; ইসির কার্যক্রমের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র তৈরি ও বিবিধ।

ইসি সূত্রে জানা যায়, সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনে বেশকিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এবারের আইনে ‘জাতীয় জনসংখ্যা কোটা’র ভিত্তিতে প্রত্যেক জেলায় আসন বণ্টন করার বিষয় স্পষ্ট করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে আসন বণ্টনে জনসংখ্যা কোটা কীভাবে নির্ধারণ হবে তাও উল্লেখ করা হচ্ছে। ২, ৫, ৬ ধারা ও বিভিন্ন উপধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। ২ ধারায় যুক্ত হচ্ছে ‘জাতীয় জনসংখ্যা কোটা’ নামে নতুন উপধারা।

সূত্র জানিয়েছে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন-২০১৯’ সংশোধনীর খসড়া নিয়ে কমিশনের এ বৈঠকে আলোচনা হবে। কমিশন একমত হলে সংশোধনী চূড়ান্ত হবে। সংশোনীতে ২ ধারায় ‘জাতীয় জনসংখ্যা কোটা’ শীর্ষক ১১ উপধারায় নতুন করে যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় জনসংখ্যা কোটা কি তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে ৫ ধারার ২ উপধারায়।

৫ ধারার ২ উপধারায় ‘জাতীয় জনসংখ্যা কোটা’ কীভাবে নির্ধারণ হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে। ২ উপধারায় (ক) সিটি করপোরেশন ব্যতিত সমগ্র দেশের বিদ্যমান ভোটার সংখ্যা এবং সর্বশেষ আদমশুমারি প্রতিবেদনে প্রাপ্ত জনসংখ্যার গড় নির্ধারণ; (খ) সিটি করপোরেশনগুলোর হালনাগাদকৃত বিদ্যামন ভোটার সংখ্যা এবং সর্বশেষ আদমশুমারি প্রতিবেদনে প্রাপ্ত জনসংখ্যার যোগফলের দুই তৃতীয়াংশের গড় নির্ধারণ; (গ) ক এবং খ তে প্রাপ্ত ফলাফলের যোগফলকে সংসদের মোট আসন সংখ্যা দ্বারা বিভাজনের মাধ্যমে প্রাপ্ত সংখ্যা।

৩ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘উপ-ধারা ২ অনুযায়ী একইভাবে প্রতিটি জেলার জনসংখ্যা এবং ভোটার সংখ্যার গড় নির্ধারণ করে জনসংখ্যার কোটা দ্বারা ভাগ করে প্রতিটি জেলার আসন বণ্টন করতে হবে।

৫ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ৩ উপ-ধারায় প্রাপ্ত জনসংখ্যার গড় এবং জাতীয় জনসংখ্যা কোটার ভিত্তিতে প্রাপ্ত গড়ের ব্যবধান ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম-বেশি হলে সংশ্লিষ্ট জেলার আসন সংখ্যার কোনো কম-বেশি হবে না।

৬ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ৩ উপ-ধারায় যা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন প্রত্যেক জেলার অনুকূলে অন্যূন ১টি আসন বণ্টন করবে।

৬ ধারায় জেলা জনসংখ্যা কোটার বিষয়ে বলা হয়েছে, ৪ (ক) সিটি করপোরেশন (যদি থাকে) ব্যতিত সংশ্লিষ্ট জেলার বিদ্যমান ভোটার সংখ্যা এবং সর্বশেষ আদমশুমারি প্রতিবেদনে প্রাপ্ত জনসংখ্যার গড় নির্ধারণ; (খ) সিটি করপোরেশনের (যদি থাকে) বিদ্যামন ভোটার সংখ্যা এবং সর্বশেষ আদমশুমারি প্রতিবেদনে প্রাপ্ত জনসংখ্যার যোগফলের দুই তৃতীয়াংশ গড় নির্ধারণ; (গ) দফা ক এবং খ তে প্রাপ্ত ফলাফলের যোগফলকে সংশ্লিষ্ট জেলার অনুকূলে বণ্টনকৃত মোট আসনে সংখ্যার দ্বারা বিভাজনের মাধ্যমে প্রাপ্ত সংখ্যা।

এইচকে/এইচআর

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও