ঈদযাত্রায় সদরঘাটসহ খেয়াঘাটে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

ঈদযাত্রায় সদরঘাটসহ খেয়াঘাটে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৮

print
ঈদযাত্রায় সদরঘাটসহ খেয়াঘাটে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ

ঈদকে সামনে রেখে দেশের প্রধান নদীবন্দর সদরঘাটসহ অন্যান্য ঘাটে ইজারাদাররা অস্বাভাবিক যাত্রী হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একইসঙ্গে ইজারাদাররা অতিরিক্ত টোল আদায় করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের পাশাপাশি যে নৈরাজ্য শুরু করেছে যা যাত্রী কল্যাণের পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির সদস্যদের সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বরিশাল, চাঁদপুরসহ সকল নদীবন্দর ও খেয়াঘাট গুলোতে সরকারের নিয়োজিত ইজারাদাররা নৈরাজ্য শুরু করলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এ ব্যপারে এগিয়ে আসছে না।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়, সদরঘাটে খেয়া পারাপারে ইজারাদারদের নৌকায় ৫০ পয়সা টোল আদায়ের চুক্তি রয়েছে। কিন্তু নৌকা ছাড়া শুধু ঘাটে নামতে যাত্রী প্রতি ৫ টাকা হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। ৫ টাকা টোল দিয়েও যাত্রীসাধারণকে আবার ভাড়াকৃত নৌকায় আবারও ৫ থেকে ১০ টাকা নৌকা ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এছাড়া ১০০ কেজি মালামাল বহনে ২ টাকা ইজারা আদায়ের চুক্তি রয়েছে। তবে সদরঘাটে নিয়োজিত ইজারাদার কোনো নৌকা ভাড়া না করে শুধু ঘাট দিয়ে পারাপারে যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে সর্বচ্চো ২০০ টাকা পর্যন্ত নৌকা ভাড়া আদায় করছে। ইজারাদারকে এই টোল দেয়ার পরও যাত্রীসাধারণ নৌকায় পণ্য ও নৌকার ভাড়া আলাদাভাবে দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে।

এভাবে যাত্রীসাধারণের কাছ থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। আর ঈদে স্বাভাবিকের থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় হচ্ছে।

এমন চিত্র দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা দেশের প্রায় সবক’টি নদীবন্দর ও খেয়াঘাটে লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছেন সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

এদিকে সদরঘাটে যাত্রী হয়রানি বন্ধে ইজারা বাতিলের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সদরঘাট থেকে অসংখ্য মানুষকে হয়রানি করে প্রতিবছর তিন কোটি টাকা ইজারা না নিয়ে তিন কোটি মানুষকে সেবা দেওয়া উত্তম।

প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা অমান্য করে যাত্রী হয়রানি ও টোল আদায় করছে যা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমলে নিচ্ছে না বলে জানান মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, সদরঘাটে গত একসপ্তাহ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিআইডাব্লিউটিএর নিয়োজিত কর্মচারীরা সিংহভাগ যাত্রীদের টিকিটবিহীন টার্মিনাল প্রবেশ ফি আদায় করছে। এতে টার্মিনাল প্রবেশ ফি আত্মসাতের পাশাপাশি নৌ-দুর্যোগ তহবিলেরও লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

এদিকে ঘাটে নিয়োজিত কুলিদের দৌরাত্ব ও গুটি কয়েক অসাধু লঞ্চ-মালিকদের দৌরাত্ব বন্ধে অসহায় যাত্রীদের পাশে দাড়াঁতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

এফবি/এমএসআই

 
.




আলোচিত সংবাদ