‘বন্দুকযুদ্ধে’ একরাতে নিহত আরও ১১

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

‘বন্দুকযুদ্ধে’ একরাতে নিহত আরও ১১

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৮

print
‘বন্দুকযুদ্ধে’ একরাতে নিহত আরও ১১

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সারাদেশে শনিবার দিনগত রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত একাধিক কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সারাদেশে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজার টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরাম (৪৬) কমিশনার রয়েছেন।আর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, খুলনা, চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, ময়মনসিংহ ও বাগেরহাটে একজন করে নিহত হয়েছেন।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই মাদক কারবারি। প্রত্যেকেরই বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৭ মে রাত থেকে এ ক’দিনে বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৮৪ জনের মৃত্যু হলো।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা তুলে ধরা হলো;

কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও কমিশনার মো. একরামুল হক (৪৬) নিহত হয়েছেন।

শনিবার রাতে টেকনাফ উপজেলার মেরিনড্রাইভ সড়কের নোয়াখালীপাড়ার মিঠাপানিরছড়া এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

র‍্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর রুহুল আমিন জানান, রাতে মিঠাপানিরছড়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে  র‍্যাবের একটি দলের গুলিবিনিময় হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকাভুক্ত ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. একরামুল হকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ওয়ান শুটারগান, ৬ রাউন্ড গুলি ও ৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

কমিশনার একরামের বিরুদ্ধে মাদকসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে বলে দাবি করেছেন  র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রায়হান (২৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিনগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার গুলিয়াখালী সন্দ্বীপ ফেরী ঘাটে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, রায়হান মাদক ব্যবসায়ী। তিনি ৪নং মুরাদপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়িয়া এলাকার মালিউল হকের ছেলে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক জানান, রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে বের হয় সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। পুলিশের আভিযানিক দলটি মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সাগরপাড় এলাকায় সন্দ্বীপ ফেরী ঘাটের কাছে পৌঁছলে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

এক পর্যায়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে জাফর, কালা সুমন ও টিটু নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

পরে ঘটনাস্থলে রায়হানের লাশ পাওয়া যায়। আটকরা রায়হানের সহযোগী।

রায়হান এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারী। সীতাকুণ্ড থানায় তার নামে ৮টি মাদক আইনে মামলা রয়েছে বলে দাবি ওসির।

তবে রায়হানের প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রায়হান মাদকসেবী, চুরি-ডাকাতিই তার পেশা। তিনি এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনের সমর্থক রায়হান সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা বাকের ভুঁইয়াকে প্রকাশ্যে হত্যা করতে ধাওয়া করে আলোচিত হয়েছিলেন।

মেহেরপুর
মেহেরপুরের গাংনীতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হাফিজুল ইসলাম ওরফে হাফি (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার কাথুলি ইউনিয়নের গাঁড়াবাড়িয়া বাথান মাঠ এলাকার জনৈক আমজাদ হোসেনের কচুক্ষেতে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

হাফিজুল ইসলাম গাংনী চৌগাছা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত হারেজ উদ্দীনের ছেলে।

পুলিশের দাবি, নিজেদের মধ্য মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় হাফিজুল নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশে তৈরি পিস্তল ও ১১২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গাংনী থানার ওসি হরেন্দনাথ সরকার জানান, রাতে গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের বাথান মাঠ এলাকায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে- এমন সংবাদে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।

পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ হাফিজুল ইসলামকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এমকে রেজা মৃত ঘোষণা করেন।

হাফিজুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদক দ্রব্যের বিষয়ে পৃথক দুটি মামলা হবে জানান ওসি হরেন্দনাথ সরকার।

খুলনা
খুলনার দিঘলীয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কালাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিনগত রাত পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার সিদ্দিপাশা ঘাট এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, কালামের বাড়ি যশোরের অভনগর থানায়। তিনি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

দিঘলীয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, মাদক কেনা-বেচার খবরে রাতে বারাকপুর উপজেলার সিদ্দিপাশা ঘাট এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে কালামের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ও ২২৪ মডেলের একটি শর্টগান উদ্ধার করা হয়। কালামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫টি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি।

কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হালিম মন্ডল (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে শহরের হাউজিং ডি ব্লক মাঠে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

হালিম মন্ডল কুষ্টিয়া সদর উপজলার বড়িয়া গ্রামের সেলিম মন্ডলের ছেলে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য কেনা-বেচার উদ্দেশ্যে একদল মাদক ব্যবসায়ী শহরের হাউজিং ডি ব্লক মাঠে অবস্থান করছে- এমন গোপন সংবাদে টহল দল অভিযানে যায়।

উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে নিহত ব্যক্তিকে স্থানীয়রা হালিম মন্ডল বলে সনাক্ত করেন। তিনি কুষ্টিয়ায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী।

বন্দুকযুদ্ধের সময় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে ১টি সাটারগান, ১টি পাইপগান, ৩ রাউন্ড গুলি ও ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি নাসির উদ্দিন।

নোয়াখালী
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হাসান ওরফে ইয়াবা হাসান নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিনগত রাত একটার দিকে উপজেলার বগাদিয়া এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

হাসান সোনাইমুড়ি পৌরসভার বানুয়াই গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে।

পুলিশের দাবি, হাসান এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ২১টি মাদক মামলা রয়েছে।

সোনাইমুড়ি থানার ওসি নাছিম উদ্দিন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোনাইমুড়ি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোনাইমুড়ি বাজার এলাকা থেকে প্রথমে হাসানকে গ্রেফতার করে। পরে সোনাইমুড়ি থানা পুলিশ তাকে নিয়ে বগাদিয়া এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে যায়।

উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে হাসানের লোকজন। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে তাদের গুলিতে হাসান ও তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।

পরে হাসানকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে ১২০ পিস ইয়াবা, ১টি এলজি ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রফিকুল ইসলাম তালেবান (৫১) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিনগত রাত দুইটার দিকে জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় পুলিশ একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।

রফিকুল ইসলাম ওরফে তালেবান রানীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়া (শিয়ালডাম্গী) গ্রামের হুমাউন কবিরের ছেলে।

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীংশকৈল উপজেলায় পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে মহারাজাগামী রাস্তা দিয়ে দুর্লভপুর এলাকায় গেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে তালেবানসহ ১০/১২ জন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছোঁড়ে।

এভাবে ১০/১৫ মিনিট ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধ শেষে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ধানক্ষেত থেকে রফিকুল ইসলাম তালেবানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে উদ্ধারকালে একটি দেশীয় পাইপগান, কিছু ধারালো অস্ত্র ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে।

রফিকুল ইসলামের নামে বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল থানায় মাদকদ্রব্য আইনে ৮টি মামলা রয়েছে।

এর আগে গত ২৩ মে বালিয়াডাঙ্গীর পারুয়া গ্রামের ভেলসা মোহাম্মদের ছেলে আপতাফুল (৩৮) ও গত ২৬ মে ঠাকুরগাঁও সদরের ছিট ছিলারং গ্রামের মৃত শফির উদ্দীনের ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে কুট্টি (৪৪) কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে রফিকুল ইসলাম ওরফে লিটন (২৯) নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিনগত রাত একটার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বড়দা জামতলায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

লিটন উপজেলার সাকিম উদ্দিন মোল্লার ছেলে।

পুলিশের দাবি, লিটন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে তিনি নিহত হয়েছেন।

শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, রাত একটার দিকে গুলির শব্দ শুনে টহল পুলিশ বড়দা জামতলা গিয়ে রাস্তার পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা তাকে লিটন বলে সনাক্ত করেন।

পুলিশের ধারণা, মাদক ব্যবসায়ীদের দু’পক্ষের গোলাগুলিতে লিটন নিহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটারগান, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, তিন রাউন্ড বন্দুকের গুলি, ৪০০ পিস ইয়াবা ও ১০ পিস ফেনসিডিল উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।

তবে শেখপাড়া গ্রামে লিটনের প্রতিবেশীরা জানান, আগে মাদকের ব্যবসা করলেও লিটন বিগত কয়েক মাস আগে তা ছেড়ে দিয়েছে। এখন সে এলাকায় ট্রাকের ব্যবসা করছিলেন।

চাঁদপুর
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সেলিম প্রধান (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিনগত রাত পৌনে তিনটার দিকে মতলব সড়কের হাজীর ডোন এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

সেলিম মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৬ নং উপাদী ইউনিয়নের উপাদী গ্রামের সালাম উল্লার ছেলে।

পুলিশের ভাষ্যে, রাতে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ ও চাঁদপুর গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ দল হাজীর ডোন এলাকা থেকে সেলিমকে আটক করে। এ সময় সেলিমের সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে সেলিম গুলিবিদ্ধ হন।

এ সময় চার পুলিশ সদস্যও আহত হয়। তাদের সবাইকে মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎস সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

আর চার পুলিশ সদস্য প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় ফিরে যান।

ঘটনাস্থল থেকে ৪ রাউন্ড গুলি, ৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১১০ পিস ইয়াবা, ২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মতলব দক্ষিণ থানার ওসি কুতুব উদ্দীন জানান, সেলিম এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ৭টি মাদক মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ শহরে ডিবি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি (২৬) নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে শহরের কেওয়াটখালী মরাখলা এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ভাগাভাগি করছে- এমন খবরের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।

একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার টহল পুলিশও। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময় হয়। কিছুক্ষণ পর মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অজ্ঞাত একজনকে পাওয়া যায়। তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময়ের ঘটনায় হুমায়ুন ও আমির হামজা নামে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, ৪টি গুলির খোসা, ২টি রামদা, ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের কথাও জানান ডিবির ওসি আশিকুর রহমান।

বাগেরহাট
বাগেরহাটের চিতলমারীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মিতুন বিশ্বাস (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শনিবার গভীর রাতে চিতলমারী উপজেলার চিংগুরি এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

মিতুনের বাড়ি চিতলমারী উপজেলার চিংগুরি গ্রামে। তার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

চিতলমারী থানার ওসি অনুকূল বিশ্বাস জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে মাদক সম্রাট মিতুনকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশের একটি দল মাদক উদ্ধারের জন্য তার বাড়ির দিকে রওনা হয়।

এ সময় লুৎফর মেলেটারীর বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছলে মিতুনের সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে মিতুন পালিয়ে যায়। গুলিবিনিময়ে এক পর্যায়ে মাদক সন্ত্রাসীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মিতুনের গুলিবিদ্ধ লাশ, একটি শাটারগান, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ছুরি, দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি।

এর আগে গত ১৭ মে গভীর রাতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন, ১৮ মে রাতে ৪ জন, ১৯ মে রাতে ৪ জন, ২০ মে রাতে ১৪ জন, ২১ মে রাতে ১১ জন, ২২ মে রাতে ৯ জন, ২৩ মে রাতে ৬ জন ও ২৪ মে রাতে ১১ জন, ২৫ মে রাতে ১১ ‘মাদক কারবারি’ নিহত হন।

আইএম

 
.




আলোচিত সংবাদ