‘বদির ব্যাপারে আরও তথ্য নেয়া হচ্ছে, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা’

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫

‘বদির ব্যাপারে আরও তথ্য নেয়া হচ্ছে, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা’

সচিবালয় প্রতিবেদক ৪:০৮ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৮

print
‘বদির ব্যাপারে আরও তথ্য নেয়া হচ্ছে, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা’

দেশব্যাপী চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের ক্রসফায়ার বলতে নারাজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তার ভাষ্য- এসব অপরাধীকে ধরতে গেলে যখন তারা পুলিশের উপর চড়াও হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে, তখন আইশৃঙ্খলা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়েই তাদের মেরেছে।

এমপি বদির মাদক ব্যবসা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দেখুন যে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত সে যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। বদির বিরুদ্ধে আমরা আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ করছি। যথাযথ তথ্য পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী হাই প্রোফাইলের যারা মাদকের ব্যবসা করেন তাদেরকে যখনই ধরতে গিয়েছি হয় তারা পালিয়েছে, নয়তো তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে যা করার তারা তাই করছে।

গেল কয়েক দিনে বেশকিছু মাদক ব্যবসায়ী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর এসব মাদক ব্যবসায়ীর কাছে আধুনিক সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। এসব অস্ত্র পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। ফলে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার বলছি, আমরা কারও বিরুদ্ধে বন্দুকযুদ্ধে যাচ্ছি না। যারা ফায়ার ওপেন করে তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী অ্যাকশন নিচ্ছে। গেল সাত বা আট দিনে শুধুমাত্র মৃত্যুর ঘটনা নয়, প্রায় ২ হাজারেও অধিক গ্রেফতার হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বিনষ্ট করতে চাই না। তাই যে কোনো মূল্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা সবধরনের চেষ্টা করবো।

শুধুমাত্র মাদক বাহকদের হত্যা করা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুধুমাত্র বাহক নয় বরং প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে আমাদের মোবাইল কোর্টও চলছে। সেখানে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিও হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। সে এমপি হউক আর যাই হোক।

মন্ত্রী বলেন, অন্তত আর যাই হোক এবারের অভিযানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। সে সংসদ সদস্য হোক, সরকারি কর্মকর্তা হোক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আর সাংবাদিক হোক, আমরা কাউকে ছাড় দিবো না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক আমাদের দেশে তৈরি হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এগুলো ব্যাপকভাবে আমাদের দেশে আসছে। বর্ডারের কোনো কোনো স্থান দিয়ে যখন এসব মাদকদ্রব্য আমাদের দেশে ঢুকছিল তখন আমরা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলাম না। আমরা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে আমরা কথা বলছি। ভারত ও মিয়ানমারের সাথেও আমরা কথা বলেছি। তারা যখন খুব ভালো সহযোগিতা করছিলেন না, তখন আমরা বাধ্য হয়েই দেশের অভ্যন্তরে এ ধরনের অভিযান করছি।

তিনি বলেন, আপনারা সাক্ষী- ইয়াবা সেবনকারী মেয়ে তার বাবা-মাকে খুন করেছে। ইয়াবার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেক বাবা-মা কাঁদছে। আমরা ২০৪১ সালের যে স্বপ্ন দেখছি তা মাদকের জন্য ব্যাহত হবে, এটা হতে পারে না। এজন্য প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গি নিধনের জন্য মাদকের সাথে জড়িতদেরও উচ্ছেদে একইভাবে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমাদের গোয়েন্দাদের তৎপর করছি। এলিট শ্রেণিসহ সমাজের সবাইকে এর সাথে সম্পৃক্ত করতে চেষ্টা করছি, তারা যেন মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। আমরা বলেছি চলুন আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি। 

এসএস/এএল/

 
.




আলোচিত সংবাদ