রোহিঙ্গারা পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকি: বিএফটিআই

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

রোহিঙ্গারা পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকি: বিএফটিআই

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:০৬ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮

print
রোহিঙ্গারা পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকি: বিএফটিআই

দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অবস্থান বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকি মনে করে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই)।

বুধবার দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘স্বল্পোন্নত দেশ হতে বাংলাদেশের আসন্ন উত্তরণে সেবা কার্যক্রমে রফতানির নতুন পথের খোঁজে’ শীর্ষক একটি গবেষণার প্রকাশিত ফলাফলে এ কথা বলা হয়েছে।

গবেষণাটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এনহ্যান্সড ইনট্রিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক তহবিলের মাধ্যমে ডব্লিউটিও সেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান বিএফটিআইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহসান।

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ও বিমানবন্দরের সমস্যাকে প্রতিবেদনে পর্যটন খাতের হুমকিস্বরূপ চিহ্নিত করা হয়েছে।

পর্যটন খাতের যে বিষয়গুলোকে দুর্বল দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে হচ্ছে- পর্যটন খাতে উপযুক্ত অবকাঠামোর অভাব, ভালো মানের রাস্তার অভাব, অতিরিক্ত হোটেল চার্জ এবং ট্যুর গাইড বা অপারেটরদের অভাব, পর্যটন সেক্টরের প্রচারণার অভাব প্রভৃতি।

প্রতিবেদনে পর্যটন খাতের সুপারিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প জীববৈচিত্র্য এবং জলাভূমিতে পরিপূর্ণ। পর্যটন স্পটগুলোর এলাকার স্থানীয় মানুষ আন্তরিক। কাজেই পর্যটন শিল্প নিয়ে আন্তরিক হলে দেশের জিডিপিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

পর্যটন সেক্টরে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- হাইওয়ে রাস্তাগুলো উন্নত এবং ট্যুরিজমের স্পটগুলোর সাথে সংযোগ করতে হবে, কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ করা, টুরিস্টদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করা, সঠিকভাবে ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণ করা, পর্যটন খাতকে বিকশিত  ও বহির্বিশ্বের কাছে প্রচারের জন্য আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন করা, বিমানবন্দরে পর্যটন খাত নিয়ে ইনফরমেশন ডেস্ক থাকা, অধিক সংখ্যক ট্যুরিস্ট ট্রেনিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণে প্রাইভেট সেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করা, বাজেটে পর্যটন সেক্টরে অর্থ বৃদ্ধি করা প্রমুখ।

বিএফটিআইর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সেবা খাত নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কম্পিউটার এবং আনুষঙ্গিক সেবাসমূহ (প্রযুক্তি খাত) নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে এ খাতটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ৬৫ হাজার  বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। এ খাত থেকে ২০১৩ সালে ২১ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্জিত হয়।

তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশে এ খাতের বেশ কিছু দুর্বল দিক চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব, ইন্টারনেটের অতিরিক্ত উচ্চমূল্য এবং সরকারি তদারকির অভাব, দেশি ও বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার অভাব ইত্যাদি।

এ খাতের জন্য হুমকিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতে আইন-কানুনগুলো জটিল, পুরনো জাতীয় পাঠদান পদ্ধতি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার অভাব, সঠিক মেধার প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা।

সমস্যার পর এ খাতে সম্ভাবনাসমূহ হচ্ছে- জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ খাতের চাহিদা রয়েছে, প্রযুক্তির জন্য দেশে হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, প্রযুক্তি খাতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ চলছে বলে বিএফটিআইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

টিএটি/এএল/

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad