‘দুদকের পরিচয়ে চাঁদাবাজি চলছে’

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

‘দুদকের পরিচয়ে চাঁদাবাজি চলছে’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:২৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

print
‘দুদকের পরিচয়ে চাঁদাবাজি চলছে’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রতারক চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে দুদক কর্মকর্তাদের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। এরা দুদকের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে দুদকের সকল সমন্বিত জেলা কার্যালয়, বিভাগীয় কার্যালয় এবং প্রধান কার্যালয়ের মহাপরিচালক থেকে উপপরিচালক পদমর্যাদার সকল কর্মকর্তাদের নিয়ে এক পর্যালোচনা সভায় চেয়ারম্যান একথা বলেন।

প্রতাকদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা দুদকের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে। তাই এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়েও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালকগণ বিগত বছরের সকল প্রকার কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।

এসময় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সকলের, এটি হৃদয়ে ধারণ করতে হবে এবং কাজের প্রতিফলন থাকতে হবে। তবেই এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি আরও উজ্জল হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি অনুসন্ধান বা তদন্তের গুণগতমান এমন হতে হবে যাতে প্রতিটি মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের শতভাগ সাজা নিশ্চিত করা যায়।’

একটি বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মসম্পাদন প্রতিবেদনে মামলার পরিসংখ্যান, গ্রেফতাকৃত আসামি, আদালতে আত্মসমর্পণকৃত আসামি এবং কথিত পলাতক আসামিদের পরিসংখ্যান দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আপনার বিভাগের দুদকের মামলার অনেক আসামিই আইন-আদালতে আত্মসমর্পণ না করে, আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কীভাবে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে? আপনাদের দায়িত্ব কী? আপনাদের পিছনে রাষ্ট্রের ব্যয়িত অর্থের Value for money থাকলে, হয়তো এভাবে আসামিরা ঘুরে বেড়াতে পারতো না।’

তিনি বলেন যেকোনো বিষয়ে কমিশন সর্বোচ্চ দ্রুততার সাথে সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে তা বাস্তবায়নে এত বিলম্ব কেন?

তিনি বলেন, ‘এখন থেকে মামলা দায়েরের সাথে সাথে এজাহারের কপি দুদকের আইন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বরাবর পাঠাতে হবে, যাতে কমিশন মামলা দায়ের পরবর্তী সকল প্রকার আইনানুগ প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে মনিটরিং করতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, দুদকের গোয়েন্দা শাখা কেবল দুর্নীতিবাজদের পিছনেই গোয়েন্দাগিরি করবে না, কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়েও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করবে।

তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিটি অনুসন্ধান বা তদন্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।’

দুদক চেয়ারম্যান অনুসন্ধান এবং তদন্তের গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কতিপয় নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘প্রতিটি অনুসন্ধান বা তদন্তে প্রতিটি আসামির ফৌজদারি অপরাধ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরুপণ করতে হবে। একটি লোককেও হয়রানির করা জন্য দুদকের মামলার আসামি করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের সময় নথিতে এজাহারে কপি সংযুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত ছক অনুসারে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাক্ষী কিংবা অভিযুক্ত কারও সাথেই দুর্ব্যবহার করা চলবে না এবং নির্ধারিত সময়ে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প কিছু চিন্তা করবে না দুদক।’

পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মোঃ শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক(আইন) মোঃ মঈদুল ইসলাম, মহাপরিচালক (প্রশাসনন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী, মহাপরিচালক (তদন্ত) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং মোঃ আতিকুর রহমান খান, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মোঃ জয়নুল বারী, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ার প্রমুখ।

টিএটি/

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad