বিশ্ব পানি দিবস: সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজন প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান

ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫

বিশ্ব পানি দিবস: সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজন প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান

কামরুল হিরন ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০১৮

print
বিশ্ব পানি দিবস: সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজন প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান

জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে বিশ্বজুড়ে পানি সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে ২.১ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানি সেবা থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থায় ‘পানির জন্য প্রকৃতি’ প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে (২২ মার্চ) বিশ্ব পানি দিবস।

দিবসটির লক্ষ্য একবিংশ শতাব্দীতে পানি সংকট মোকাবেলায় প্রকৃতির সমন্বয়ে কিভাবে পানি ব্যবহারের উপযোগিতা বৃদ্ধি করা যায় তা খুঁজে বের করা এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানে জনসচেতনতা বাড়ানো।

কারণ বিশ্বব্যাপী মানুষের পরিবেশ বিরূপ কর্মকাণ্ডের ফলেই বনভূমি, কৃষিভূমি, নদ-নদী ও জলাভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বন্যা, খরা, পানির স্বল্পতা এবং পানি দূষণ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে পানি সংকটজনিত অধিকাংশ সমস্যা দূর করা সম্ভব বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।

জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের ১.২ বিলিয়ন মানুষ। ১.৮ বিলিয়ন মানুষ ভূমিক্ষয় ও মরুকরণ প্রক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত এবং কমপক্ষে ৬৫ শতাংশ বনভূমি ক্ষয়িষ্ণু পর্যায়ে রয়েছে।

মানুষের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে উনিশশ' সাল থেকে শুরু করে বর্তমানে মোট জলাভূমির ৬৪ থেকে ৭১ শতাংশই হারিয়ে গেছে। কৃষি ভূমির মাটি ক্ষয়ের ফলে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন টন টপসয়েল বিলীন হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফলন কমে যাচ্ছে, অপরদিকে টপসয়েলে প্রচুর পরিমাণ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস থাকায় তা পানি দূষণে ভূমিকা রাখছে।

পানি সংকট মোকাবেলায় প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের উপর গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক প্রৌকশলী আবদুস সোবহান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ভাটির দেশ হিসেবে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় আমাদের দেশে পানি সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে এখানকার নৌ চলাচল, সেচ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বা না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীলতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও প্রতিনিয়ত নিচে নেমে যাচ্ছে।

এছাড়া, প্রকৃতি নির্ভর ধান চাষের পরিবর্তে খরা মৌসুমে সেচ ও রাসায়নিক সার নির্ভর ধান চাষের ফলে ভূপৃষ্ঠস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানির সংকট ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে।

এই সংকট মোকাবেলায় প্রযুক্তিগত সমাধানের চেয়ে কম খরচে ইকো সিস্টেমসমূহ প্রাকৃতিক পানির আধার হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন এই পরিবেশবিদ।

তিনি বলেন, নদীমাতৃক এই দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওরসহ এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি সরবরাহ জীববৈচিত্র্যের উপর নির্ভরশীল। জীববৈচিত্র্য জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এবং দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খরা, বন্যা ও সুনামির মতো চরম বিপর্যয়ের প্রভাব হ্রাসে বনভূমি, জলাভূমি ও ম্যানগ্রোভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ নদ-নদী, বনভূমি, জলাভূমি, পাহাড় প্রতিবেশ ব্যবস্থা সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

কেএইচ/এএল

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad