ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নতুন সড়ক, পায়রা’র ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫

ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নতুন সড়ক, পায়রা’র ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:০৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০১৮

print
ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নতুন সড়ক, পায়রা’র ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ

সীমান্ত এলাকা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত জুড়ে নতুন সড়ক তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। এ সংক্রান্ত সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে নির্মাণাধীন দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রার ব্যয় দ্বিগুণ বাড়িয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর শেরে-বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার দুপুরে একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়।

সভা শেষে প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্রিফিংকালে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আজকের সভায় ১৬টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৯ হাজার ৬৮০ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন করা হবে ৯ হাজার ৫৯১ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮৯ কোটি ৩ টাকা।

সীমান্ত সড়ক (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প-১ম পর্যায় প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৯৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর পুরো ব্যয় সরকারি অর্থায়নে করা হবে। এটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতর/সদর দফতর, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে জুলাই- ২০১৭ হতে জুন-২০২১ পর্যন্ত।

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা, রাঙ্গামাটি জেলার জুরাইছড়ি, বড়কল ও রাজস্থলি উপজেলা, কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলা এবং খাগড়াছড়ি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলাকে প্রকল্প এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য অঞ্চলের ৩১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নিম্নবর্ণিত চারটি সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবও করা হয়েছে। প্রস্তাবিত চারটি সড়ক হচ্ছে-
১. উখিয়া-আশারতলি-ফুলতলি সড়ক নির্মাণ-৪০ কিলোমিটার
২. সাজেক-শিলদাহ-বেতলিং সড়ক নির্মাণ-৫২ কিলোমিটার
৩. সাজেক-দোকানঘাট-থেগামুখ সড়ক নির্মাণ-৯৫ কিলোমিটার, এবং
৪. থেগামুখ-লইতংপাড়া-থাচ্চি-দুমদুমিয়া-রাজস্থলি সড়ক-১৩০ কিলোমিটার।

এছাড়া নতুন করে পায়রা সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর আগে ২০১৫ সালে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু যেমন আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প, তেমনি পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প। এটা আমাদের অগ্রাধিকারমূল প্রকল্প। এ প্রকল্পে ৬০৫৯ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পুনর্বাসনের জন্য ৪৯৩.০৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের অংশ হিসেবে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পের ব্যয় তিন হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা যা পুরোটাই সরকারের নিজস্ব টাকা (জিওবি)।

গত ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর একনেক সভায় এক হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রথম অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

বর্তমানে ১৬ একর জায়গার উপর সীমিত ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধাদি যেমন- পল্টুন, ক্রেইন, নিরাপত্তা ভবন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা উন্নয়নের মাধ্যমে একটি বন্দর টার্মিনাল তৈরি করা হলেও এখনো নিয়মিতভাবে পণ্য উঠা-নামা ও খালাস করা হচ্ছে না।

তবে পূর্ণাঙ্গ পায়রা বন্দর ব্যবস্থা গড়ে না উঠা পর্যন্ত বহির্নোঙ্গরে বাণিজ্যিক জাহাজ আনয়নের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

এইচকে/এমএসআই

 
.



আলোচিত সংবাদ