‘ওর সাথে আমার কত কথা বাকি এখনো’

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৫

‘ওর সাথে আমার কত কথা বাকি এখনো’

কাজী ইহসান বিন দিদার ৭:২১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৮

print
‘ওর সাথে আমার কত কথা বাকি এখনো’

শুক্রাবাদের ৮১নং বাড়ি। তৃতীয় তলায় উঠে কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে দিলেন একজন বৃদ্ধা। তিনি নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় সপরিবারে নিহত রফিকউজ জামান রিমুর মা রওশন আরা।বসতে বলেই জিজ্ঞেস করলেন, চা খাবে তুমি? বুঝাতে চাইছেন যেন কিছুই হয়নি। সব কিছুই স্বাভাবিক। অল্প শোকে কাতর আর অধিক শোকে পাথর- যেন এমন অবস্থা।

নিজে থেকেই বললেন, রিমু তো নাই। সে আমাদের সামনে নাই তো কি হয়েছে? কে বলেছে ও মারা গেছে? কেউই মারা যায়নি।

দেয়ালে টাঙানো ছবিটা দেখিয়ে রওশন আরা বলতে থাকেন, ওই যে ছবিটা দেখতে পাচ্ছো। আমার পুত (ছেলে) আমার দিকে কিভাবে তাকিয়ে আছে? আমার সাথে কথা বলছে। আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করছে- আমি কেমন আছি, কী করছি, মন খারাপ কিনা।

এবার আর সত্য লুকাতে পারলেন না একসঙ্গে সন্তান, পুত্রবধূ ও নাতি হারানো রওশন আরা। তিনি বলেন, কেন এমন হলো? আমার হাজবেন্ডও আমাকে ছেড়ে চলে গেল। এখন ছেলেও। ওর সাথে আমার কত কথা বাকি এখনো। কিছুই বলা হল না। শেষ কথাটাও না। কেন?

তিনি বলেন, বিপাশা আর অনিরুদ্ধর সাথেও কথা বলা হল না। বিপাশাকে তার জন্য কেনা গয়নাগুলোও দেয়া হল না। ওর কী দরকার ছিল নেপাল যাওয়ার? কত কাজ বাকি আছে এখনো ওর। আমাকে প্রতিদিন কে বলবে, আম্মা ওষুধ খেয়েছেন? আমার ভাইটাও (নাতি) গেল, মেয়েটাও (পুত্রবধূ)। কেউই বাদ থাকল না!

নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় স্ত্রী সানজিদা হক বিপাশা এবং ছেলে অনিরুদ্ধসহ রফিকউজ জামান রিমু নিহত হন। সোমবার তাদের মরদেহ দেশে আনা হয়।

রিমুর মা বলেন, রিমুরা সবাই একসাথে আমার সাথে গোসসা করল। বয়স হয়েছে আমার। তাই একটু বেশি কথা বলি। কিন্তু তাই বলে এতো রাগ করতে হবে? তুমি এখন যাও। আমি আমার ছেলেকে দেখি। টিভিতে এখন তাকে দেখাবে।

কথাগুলো যেন এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললেন রওশন আরা। কথাগুলো বলে তিনি টিভিতে মনযোগ দেন। আর তখন উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের জানাজা আর্মি স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি সম্প্রচার করছিল টিভি চ্যানেলগুলো।

এরপর কথা হয় নিহত রিমুর ভাই রিয়াজউজ জামানের সঙ্গে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ভাইয়ার সাথে আমার সর্বশেষ কথা হয়েছিল তাদের নেপাল যাওয়ার আগের দিন রাতে। উনি আমাকে বললেন, তোর বউকে নিয়ে চলে আয়। সবাই মিলে খুব মজা হবে।

নিহত বিপাশার বোন রোদেলা বলেন, একদিকে ভাবতে গেলে ভালোই হয়েছে। ওনাদের (রিমু, বিপাশা, অনিরুদ্ধ) কেউই কারো জন্য কষ্টে ভুগবে না। সবাই একসাথে চলে গেলেন। জীবিত অনিরুদ্ধকে শেষবারের মত আদর করা হল না।

নিহত রিমুর বড় বোন ঝুমু বলেন, এখন আর কী বলবো! সবই তো শেষ। রিমুর কোনো জীবিত স্মৃতি আর আমাদের কাছে রইলো না। সব সে নিয়ে গেল। এখন আর আমাকে অনিরুদ্ধ বলবে না- আমাকে চকোলেট দাও।

কেইবিডি/এমএসআই
আরো পড়ুন...
জানাজার জন্য প্রস্তুত আর্মি স্টেডিয়াম
জানাজা শেষে দেশে ফিরছে ২৩ লাশ
২৩ বাংলাদেশির জানাজায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
ঢামেকের পথে মেহেদী, স্বর্ণা ও অ্যানি 

বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হবে স্বর্ণা মেহেদি ও এ্যানীকে
ঢাকায় মেহেদী, স্বর্ণা ও অ্যানি

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad