ফয়সালের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলো বৈশাখী কর্তৃপক্ষ 

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

ফয়সালের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলো বৈশাখী কর্তৃপক্ষ 

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

print
ফয়সালের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলো বৈশাখী কর্তৃপক্ষ 

বৈশাখী টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক আহমেদ ফয়সালের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষ।

বৈশাখী টেলিভিশনের দুই সদস্যের বিশেষ প্রতিনিধি দলের অনুসন্ধানে নেপালের কোনো হাসপাতালে প্রিয় সহকর্মী স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ ফয়সালের সন্ধান মেলেনি। তাই বৈশাখী কর্তৃপক্ষ পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশের নেপাল দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী আহমেদ ফয়সালের মৃত্যুর বিষয়টি অফিসিয়ালি নিশ্চিত করেছে।

সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে বার্তা প্রধান অশোক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলন, প্রধান বার্তা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এস আর এ রউফসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈশাখী টেলিভিশন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈশাখী টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ গভীর দুঃখের সঙ্গে ঘোষণা করছে যে, প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রতিবেদক আহমেদ ফয়সাল নেপালে ১২ মার্চের মর্মান্তিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফয়সাল বেঁচে আছেন কি না, এ নিয়ে বিপরীতমুখী তথ্যের কারণে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় নেয়। অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে নিজেদের পাঠানো সাংবাদিকদের এবং ফয়সালের স্বজনদের দেয়া নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তাদের সহকর্মী ফয়সালের মৃত্যুর বিষয় অবগত হয়।

পেশায় সাংবাদিক, কিন্তু তার নেশায় ছিলো ভ্রমণ। কাজের ভিড়ে ফাঁক পেলেই দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে ঘুরতে যেতেন প্রাণোচ্ছ্বল আহমেদ ফয়সাল। সম্প্রতি কাজের ভিড়েই ছিলেন। সবশেষ চারটি প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ করেই ফয়সাল নিয়েছিলেন পাঁচ দিনের ছুটি। ১১ মার্চ রোববার থেকে শুরু হয় তার ছুটি।

১২ মার্চ অপরাহ্নে বৈশাখী টেলিভিশনের সংবাদ কক্ষে খবর আসে নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হবার।

তখনও বৈশাখী টেলিভিশনের কোনো সহকর্মী জানতেন না, সেই উড়োজাহাজটিতেই ছিলেন তাদের প্রিয় সহকর্মী সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রতিবেদক আহমেদ ফয়সাল। সোমবার সূর্যাস্তের পর যখন সন্ধ্যার আঁধার নামতে শুরু করে, তখনই সংবাদ কক্ষে সহকর্মীদের মুখ আঁধার করে দেয়া ভয়ঙ্কর খবরটি আসে। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির যাত্রী তালিকায় আহমেদ ফয়সালের নাম ও পাসপোর্ট নম্বর খুঁজে পান সহকর্মীরা।

এভাবেই সহকর্মীরা প্রথম জানতে পারেন ছুটিতে ফয়সাল নেপাল যাচ্ছিলেন। সেই চরম উদ্বেগের ক্ষণ শুরু হয় বৈশাখীর সংবাদ কক্ষ ও ফয়সালের স্বজনদের পরিবারে।

তারপর শুধুই একের পর এক বিপরীতমুখী খবর, ফয়সাল বেঁচে আছেন কী নেই। হাসপাতালের চিকিৎসাধীন আহতদের নামের তালিকায় তার নাম নেই, কিন্তু তার বয়সী এক অজ্ঞাত যুবকের উল্লেখ আছে। আবার ছবিতে অন্য এক আহতের চেহারার সাথে যেনো আছে ফয়সালের মিল। কিন্তু এরপর একের পর এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ফয়সালের নাম ভাসতে থাকে নিহতের তালিকায়।

মন মানে না তাই আরো নিশ্চয়তা চাই। বৈশাখী টেলিভিশন মঙ্গলবার সকালে নেপালে পাঠায় দুই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মিঠুন মোস্তাফিজ ও হাবিবুর রহমানকে। ফয়সালের এক মামাও যান নেপালে। তাদের অনুসন্ধানের পর যে খবর আসে, তা সহকর্মীদের ভালো কিছু খবর শুনবার শেষ অপেক্ষাকে চুরমার করে দেয়।

স্বাভাবিকভাবেই ফয়সালের অকাল প্রয়াণের নিশ্চিত খবর বুকভাঙা কান্নায় ভাসায় পরিবারের সদস্য, স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের।

প্রতিবেদক আহমেদ ফয়সালের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বৈশাখী টেলিভিশন কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যা শিগগিরি গণমাধ্যম ও ফয়সালের পরিবার, স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবহিত করা হবে।

শরীয়তপুরের সন্তান ফয়সাল আহমেদ বৈশাখী টেলিভিশনের হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সংগ্রহ করতেন। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। সব শেষ গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরের সংবাদ সংগ্রহ করেন তিনি। পরে ঢাকায় ফিরে ১১ মার্চ থেকে পাঁচ দিনের ছুটিতে যান।

সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের মধ্যে ফয়সালও ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ব্যক্তিদের তালিকায় তার নাম রয়েছে শুরুতেই।

এএম/কেইবিডি/এএল

আরও পড়ুন...
সাংবাদিক আহমেদ ফয়সালের নামও নিহতের তালিকায়
বিধ্বস্ত বিমানে ছিলেন বৈশাখী টিভির সাংবাদিক ফয়সাল
গত রমজানের ঈদে ফয়সালকে শেষ দেখেন বাবা-মা

 
.




আলোচিত সংবাদ