রাজশাহীর তিন দম্পতি নেপালে যাচ্ছিলেন ছুটি কাটাতে

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

রাজশাহীর তিন দম্পতি নেপালে যাচ্ছিলেন ছুটি কাটাতে

বিপ্লব হাসান, রাজশাহী ৬:৩৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৮

print
রাজশাহীর তিন দম্পতি নেপালে যাচ্ছিলেন ছুটি কাটাতে

চাকরি জীবনে হোক আর কর্ম থেকে অবসরে যাওয়াই হোক। একটু অবসর পেলে সবারই ঘুরে বেড়াতে মন চায়। কেউ দেশের ভেতরে আবার কেউ উড়াল দিয়ে চলে যান ভিনদেশে।

তবে, এই অবসরে বেড়ানোর ছুটিটা কখনও কখনও কাল হয়ে দাঁড়ায়। যেমনটি ঘটেছে রাজশাহীর তিন দম্পতির ক্ষেত্রে।

সোমবার নেপাল বেড়ানোর উদ্দেশ্যে নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে যান বিকেলে। কিন্তু তাদের মনের কোণে এতটুকু আশঙ্কা জন্ম নেয়নি যে স্বজনদের সাথে এই দেখাই তাদের শেষ দেখা। এই দেখাই চোখ খুলে শেষ দেখা নিজের দেশকে।

নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে আনন্দে ঘুরে বেড়নোর স্বপ্ন বিলীন হয়ে যায়। তিন দম্পতির পাঁচজনকে পাড়ি দিতে হয় নিজের জীবনের শেষ গন্তব্যে। 

বন্ধুবর দুই দম্পতি কর্মের অবসরে আর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষিকা দম্পত্তি নেপালে যাচ্ছিলেন ছুটি কাটাতে। এই তিন দম্পতির মধ্যে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও শিরোইল এলাকার অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হাসান ইমাম দুই বন্ধু। আর নজরুলের স্ত্রী মহিলা কলেজের শিক্ষিকা আক্তারা বেগম ও হাসান ইমামের স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষিকা বিলকিস আরা। স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে দুই বন্ধু বেড়াতে গিয়েছিলেন নেপালে। সোমবার বিকেলে নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় দুই দম্পতির চারজনই নিহত হন। বুধবার তারা রাজশাহী থেকে ঢাকায় যান।

দুই পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ডেভেলপম্যান্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি এলপিআরে চলে যান। তার স্ত্রী আক্তারা বেগম রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষিকা। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি এলপিআরে যান। আর হাসান ইমাম সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ছিলেন। এর আগে তিনি শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ছিলেন। তিন বছর আগে তিনি অবসরে যান। আর হাসান ইমামের স্ত্রী বিলকিস আরা নাটোরের গোপালপুর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তারা চারজনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে লেখাপড়া করেছেন।

অন্যদিকে চাকরিকালীন ছুটি কাটানোর জন্য রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষিকা ও তার স্বামী যাচ্ছিলেন নেপাল বেড়াতে। শিক্ষিকার নাম এমরানা কবির হাসি এবং তার স্বামীর নাম রকিবুল হাসান। শিক্ষিকা হাসি নেপালের কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। আর সোমবারই মারা যান তার স্বামী। তারা মহানগরীর মোনাফের মোড় এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।

রুয়েটের প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশন উপ-পরিচালক গোলাম মরতুজা জানান, এমরানা কবির হাসি রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে হলেও তিনি রাজশাহী মহানগরীর মোনাফের মোড় এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার স্বামী রকিবুল হাসানও রুয়েটের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঢাকায় একটি বেসরকারি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। স্বামী-স্ত্রী নেপাল বেড়াতে গিয়েছিলেন ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে।

নিহত বিলকিস আরার ভাই রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর মালেক সাংবাদিকদের জানান, ‘আমাদের নয় ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম বিলকিস আরা। দুই ছেলে। তারা কানাডায় থাকে। তার বোন উড়োজাহাজে চড়তে ভয় পেতেন। তার দুই ছেলে মাকে একাধিকবার কানাডায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু উড়োজাহাজে ওঠার ভয়ে তিনি ছেলের কাছে যাননি। এই প্রথম তিনি উড়োজাহাজে চড়ে নেপাল বেড়াতে যাচ্ছিলেন বলে জানান তিনি।

আক্তারা বেগমের ভাগ্নে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, তার খালা আক্তারা বেগমের দুই মেয়ে কাকন ও কনক। তারা দুজনেই ঢাকায় থাকেন। এদের মধ্যে কাকনের বিয়ে হয়েছে। স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। তার বোন কনক লেখাপড়া করছে। রাজশাহীর বাড়িতে তারা দুজনেই থাকতেন। গত বুধবার তার খালা আক্তারা বেগম ও খালু নজরুল ইসলাম নেপাল বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকায় গিয়ে মেয়ে কাকনের বাসায় উঠেছিলেন। আগামী মঙ্গলবার তাদের রাজশাহী আসার কথা ছিল। যাওয়ার সময় তাকে বাড়ি দেখাশোনা করার জন্য বলে গিয়েছিলেন বলে জানান তরিকুল।

বিএইচএস/এএল

আরো পড়ুন...
নেপালের পথে হতাহতদের স্বজনরা
ক্যাপ্টেনকে রানওয়ের ভুল তথ্য দেয়ায় বিমান বিধ্বস্ত!
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্তের মুহূর্ত
বিধ্বস্ত বিমানে ছিলেন রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী
বিমানের জানালা ভেঙে প্রাণে বাঁচলেন যে যাত্রী
বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী রুয়েটের শিক্ষিকা, স্বামী হাসপাতালে
আকাশে উড়ে বাবার সঙ্গে না ফেরার দেশে প্রিয়ন্ময়ী
অবতরণের আগে ‘অদ্ভুত আচরণ’ শুরু করে ইউএস বাংলার বিমান
বিধ্বস্ত বিমানে ছিলেন বৈশাখী টিভির সাংবাদিক ফয়সাল
বিধ্বস্ত বিমানে সপরিবারে ছিলেন সুজন কর্মকর্তা বিপাশা
বিধ্বস্ত বিমানের প্রধান বৈমানিক আবিদ বেঁচে আছেন
বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী ছিলেন যারা
পাইলটের শেষ কথা ‘কোনো সমস্যা নেই’
জীবিত ১৯ যাত্রীর তালিকা দিয়েছে ইউএস-বাংলা
রাজশাহীর চার যাত্রীর খবর জানে না স্বজনরা

 
.




আলোচিত সংবাদ