‘আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারছি না’

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

‘আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারছি না’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮

print
‘আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারছি না’

‘যে গতিতে দুর্নীতি হচ্ছে, সে গতিতে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। দুর্নীতি দমন কমিশন পারছে না, জনসাধারণও পারছে না। অর্থ্যাৎ আমরা সবাই দায়ী দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে না পারায়। তাই জনসাধারণসহ সবাইকে সচেতন করতে হবে।’ রোববার দুপুর ১টার দিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ একথা বলেন।

টিআইবির রিপোর্ট সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অনেক দেশ দুর্নীতির সূচক কমাতে পারিনি। আবার কিছু দেশ এক পয়েন্ট কমিয়েছে। আমারা সূচকে দুই পয়েন্ট নিচে নেমেছে কমেছে। এটা অনেক বড় অর্জন, তবে আমি মনে করি এটা নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ বড়-ছোট বলে কিছু নেই। সব দুর্নীতিই সমান। যে কোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনাকে ব্যবস্থা নিতে। এখানে বিভাজন করা যাবে না।

দুদক দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুদক ৩৭ শতাংশ থেকে ৭৪ শতাংশ দুর্নীতির দায়ে শাস্তি দিয়েছে, এটা আপনারাই পত্রিকায় লিখেছেন। দুদক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারছে। তবে কাঙ্খিত মাত্রায় কাজ করতে পারছি না।

বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে অর্থনীতি শূন্য হয়েছে- এটা ঠিক নয় উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, একথা সঠিক নয়। কারণ যদি অর্থনীতি শূন্য হয়ে থাকবে, তাহলে দেশে গ্রোথ-ইকোনোমিক এক্টিভিটিস বাড়ছে কিভাবে। হ্যাঁ, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে এটা সত্য। এটা দেশের নয়, এটা সারাবিশ্বের সমস্যা। তবে আপনি পার্টিকুলার একটা উদাহরণ দেখান যে অমুক ব্যক্তি টাকা পাচার করেছে।

মালয়েশিয়া বা অন্য দেশে সেকেন্ড হোম বানানো হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সেকেন্ড হোমের বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমাদের। আমি তালিকা খতিয়ে দেখেছি, সেখানে সরকারি কর্মকর্তা দুইজনের বিষয়ে জানা গেছে, তাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আর ব্যাপক মানুষের যে বাড়ি তৈরি সে বিষয়ে সরকারের সিআইডি-এনবিআর দেখবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতাসীন অনেকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। এমন কোনো উদাহরণ দেখাতে পারবেন না যে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে?

বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারির চার্চশিটের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা অনেক পুরাতন প্রশ্ন। আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের সাথে যুক্ত হন এবং বের করেন বেসিক ব্যাংকের টাকাটা কোথায় গেছে? এটা আগে বের করতে হবে টাকা গেছে, বঙ্গোপসাগরে না আপনি বা অন্য কেউ নিয়েছে। এটা কোথায় গেছে, বিষয়টি এত সহজ না। আমরা ইনভেস্টিগেশন করছি এটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোর্টে কোনো রিপোর্ট বা চার্চশিট দিব না।

বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে মামলা করার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমরা মামলা করেছি দুর্নীতির বিরুদ্ধে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। মামলা হওয়াটা স্বাভাবিক। দুর্নীতি খুঁজতে খুঁজতে ব্যক্তিকে পাওয়া যাবে। বেসিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৬২টি মামলা হয়েছে আরো মামলা পাইপ লাইনে আছে। আপনারা যেমন দেখেন, কোনো মার্ডার হলে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

টিএটি/এসবি

 
.




আলোচিত সংবাদ