নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে যা বললেন সিইসি

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫

নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে যা বললেন সিইসি

হাইকোর্ট প্রতিবেদক ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮

print
নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে যা বললেন সিইসি

দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা।

 

তিনি বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় বর্তমান অবস্থায় খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তবে পরে উচ্চ আদালত এই বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা সে অনুসারে কাজ করতে বাধ্য।’ সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আজ (সোমবার) প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার খাস কামরায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি।

আজ বেলা ২টা ১০ মিনিট থেকে ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। এ সময় কমিশনের অন্য কোনো সদস্য তার সঙ্গে ছিলেন না।

সিইসি বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে তিনি যদি আপিল করেন এবং আদালত যদি তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন, তবে সেক্ষেত্রে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।’

সিইসি আরও বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করছি খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচন করতে পারবেন কি পারবেন না, এ নিয়ে বিতর্ক চলছে। ফলে আইনি ব্যাখ্যারও প্রয়োজন আছে। এ নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনো আলাপ হয়েছে কি না- জানতে চাইলে কেএম নূরুল হুদা বলেন, খালেদা জিয়ার মোকদ্দমা নিয়ে এখানে কোনো কথা হয়নি।

আইনত তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার যেটা মনে হয়, আমিও তো একজন বিচারক ছিলাম। ছোটখাটো। এডিএম (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) ছিলাম। সামান্য জ্ঞানে যেটা মনে হয়, এখন যে অবস্থানে আছেন, এখন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। এখন তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত। এরপর উচ্চ আদালতে গেলে যেরকম নির্দেশ দেবেন, সে রকম হবে।

এ নিয়ে তো দুটো মত আছে। একটা মত আছে বিচারাধীন থাকাকালে নির্বাচন করতে পারবেন, আরেকটা মত আছে নির্বাচন করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে?

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে কেএম নূরুল হুদা বলেন, ‘এসব জিনিস সবসময়ই উচ্চ আদালতের। উচ্চ আদালতের নির্দেশের উপরে আমাদের কাজ করতে হয়।’

তাহলে কি বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়টির জন্য উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকবেন?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘হ্যাঁ। উচ্চ আদালতে উনারা যদি যান, তারা যদি আপিল করেন তখন একটা পরিস্থিতি। এখন পর্যন্ত আপিল করেননি তাই এখন আরেকটা পরিস্থিতি। এখনও তিনি আপিল করেননি, সে পরিস্থিতি হলে সেটা তো বললাম। যেহেতু আপিল করেননি তার মানে দণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় আছেন। সুতরাং এই অবস্থায় তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। তারপরে উচ্চ আদালতে গেলে কী রকম ডিরেকশন আসে তার উপরে নির্ভর করে আমাদের সিদ্ধান্ত হবে।

নূরুল হুদার এক বক্তব্য তুলে ধরে জানতে চাওয়া হয়, আপনি বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে সেটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। এখন উচ্চ আদালত থেকে আপিল নিষ্পত্তি হয়ে যদি এরকম একটা পরিস্থিতি হয় যে, বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচনে আসতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে কী বলবেন? উত্তরে সিইসি বলেন, এত দূরের কথা বলা যাবে না। এখনও তো অনেক সময় আছে। নির্বাচন তো অনেক দূরে। কী অবস্থা হবে তা বলা মুশকিল, কঠিন। আমাদের কাছে উচ্চ আদালত আছে, সুপ্রিম কোর্ট আছে। আমি আশা করি, এই সমস্যার সমাধান হবে এবং আমি এও আশা করি যে, সব সমস্যার সমাধান করে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। এটা আমার প্রত্যাশা। এখন কোর্টের যে সিদ্ধান্ত সেটা তো আমাদের মানতে হবে।

বিএনপি গঠনতন্ত্র সংশোধনের কথা বলছে। সেখানে তারা কী সংশোধন চেয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করব না। তারা গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছে। আমাদের কাছে জমা দিয়েছে। কিন্তু তা আইনসিদ্ধ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কেন সাক্ষাৎ করতে এসেছেন- জানতে চাইলে সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। প্রধান বিচারপতি সংবিধানের প্রথম স্থানের একজন লোক। সে হিসেবে উনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলাম। অনেক আগেই তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসতাম। কিন্তু তিনি ব্যস্ত থাকায় আজ দেখা করতে আসলাম।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানতে চাইলে বলেন, 'সাক্ষাতে আমরা বলেছি যে, নির্বাচনের সময় আপনাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাই, সহমর্মিতা পাই। এছাড়া আর কোনো ইস্যু ছিল না।'

নির্বাচন কমিশনের অনেক মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার বিবাদি হিসেবে আপনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতে পারেন কি না এর উত্তরে সিইসি বলেন, না, না, এখানে এসে দেখা করা যায় না। কিন্তু এটা তো তার চেম্বার। মামলা-মোকদ্দমা যেগুলো আমরা ফেস করি সেগুলো তো কোর্টের মাধ্যমে হয়, আমাদের আইনজীবী আছে। ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগার আমরা দেই, তার উপরে হয়।

নির্বাচন কমিশনকে বিচার বিভাগ কী ধরনের সহযোগিতা করতে পারে- তা জানতে চাইলে কেএম নূরুল হুদা বলেন, পুরোপুরি সহযোগিতা। নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য হাইকোর্টের ভূমিকা হলো যে, যাতে আমরা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পারি। আইনের জটিলতা যদি থাকে সেটা কীভাবে নিষ্পত্তি করে সময়মতো নির্বাচন উত্তরণ করা যায়, এগুলো তো করেই থাকে সবসময়।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এরপর থেকেই তিনি ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

এমএ/এএল

 
.




আলোচিত সংবাদ