এক বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আর বাকি কিছু বিষয়ে আংশিক প্রশ্ন ফাঁস: কমিটি

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

এক বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আর বাকি কিছু বিষয়ে আংশিক প্রশ্ন ফাঁস: কমিটি

শাহাদৎ স্বপন ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮

print
এক বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আর বাকি কিছু বিষয়ে আংশিক প্রশ্ন ফাঁস: কমিটি

চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বিষয়ের প্রশ্নপত্র পুরোপুরি ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে প্রশ্ন ফাঁস মূল্যায়ন কমিটি। বাকি কিছু বিষয়ে আংশিক ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে। রোববার সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক শেষে কমিটির আহ্বায়ক কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর একথা জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নফাঁসের প্রমান পেয়েছি। কোন বিষয় সেটা এখনই বলা যাবে না। আমরা আগামী ২৫ তারিখ মিটিং করে ২৬ তারিখে চূড়ান্ত যে সুপারিশ দেব সেখানে দেখতে পাবেন।’

সচিব বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে পত্র-পত্রিকায় যেসব রিপোর্ট এসেছে এসব আমরা মিলিয়ে দেখছি। একই সঙ্গে ফাঁসের সময়ের বিষয়টিও আমরা মিলিয়ে দেখব। সুপারিশে থাকবে প্রশ্ন ফাঁসের সুবিধা কতজন পেয়েছে। কতক্ষণ আগে এবং কত নম্বরের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।

অধিকাংশ বিষয়ের প্রশ্নই ফাঁস হয়েছে এটা আপনারা এখনো নিশ্চিত হতে পেরেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখুন, আমরা এই বিষয়গুলোই দেখছি। এখনই পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না।’

মো. আলমগীর বলেন, একেক পত্রিকায় একেক রকম করে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসবগুলো আমরা মিলিয়ে দেখছি। মিলিয়ে দেখার পর দেখা যাচ্ছে কোনোটা হয়তো অর্ধেক মিলেছে আবার কোনোটা হয়তো তারও কম।

তিনি বলেন, পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে গণিতের সবগুলো সেটই ফাঁস হয়েছে। অথচ আমরা মিলিয়ে দেখেছি একটা সেটও মেলেনি। ইংরেজি বিষয়ের ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা মিল পেয়েছি। এজন্য আমরা আরও খতিয়ে দেখছি। এরপর সিদ্ধান্ত নেব এবং সুপারিশ করব।

পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক বলেন বলেন, ‘যদি দেখা যায় কোনো প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে গেছে তাহলে তো বাতিলের সুপারিশ আমরা করব। আর বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তো নেবে মন্ত্রণালয়।’

 ‘আবার ধরুন কোনো বিষয়ে আংশিক যেমন বহুনির্বাচনী অংশ ফাঁস হয়েছে তাহলে শুধু ওই অংশের বাতিলের সুপারিশ আমরা করব। যদি ওই প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর এক-দুই ঘণ্টা বা আগের দিন ফাঁস হয়ে থাকে’ যোগ করেন তিনি।

সচিব বলেন, আর যদি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে তো তা থেকে সুবিধা নিয়েছে সামান্য কিছু শিক্ষার্থী। ফলে ওই পরীক্ষা বাতিলের কোনো কারণ নেই। তাতে বিষয়টি অনেক বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর জন্য কষ্টের কারণ হয়ে যাবে।

কমিটিতে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তারা দেখতে পেয়েছে কোন আইডি থেকে এটা ফাঁস হচ্ছে। যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের কাছেও অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করছেন।’

প্রশ্ন ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার পর কাউকে ধরা গেছে কিনা জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, ‘না, এমন কাউকে ধরা যায়নি। তারা এমন কিছু বলেনি। তবে তারা ৩০০ মোবাইল নাম্বার যে নির্ধারণ করেছে, সেটা নিয়ে এখনো কাজ করছে।’

এসএস/এমএসআই

 
.




আলোচিত সংবাদ