কার্গো বিমানে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫

কার্গো বিমানে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

তাসলিমুল আলম তৌহিদ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮

print
কার্গো বিমানে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

অবশেষে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনে বিমানের ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাজ্য। রোববার বিকেল তিনটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। তারা প্রায় দুই বছর ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, আমরা তাদের উদ্যোগে খুশি। তাই যুক্তরাজ্য আকাশ পথে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।’

হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেন, ‘এয়ারপোর্টের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে দুই দেশ সম্মিলিতভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং বাংলাদেশের মানুষের সহযোগিতার কারণে আমরা আজকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে পারছি।’

এসময় তিনি বলেন, 'দুই দেশের সরকার প্রধান খুব আন্তরিক ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে আজকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক বলেন, 'আমরা রাজনৈতিক কোনো কারণে কার্গো নিষেধাজ্ঞা দেইনি। এটা শুধুমাত্র নিরাপত্তাজনিত কারণেই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।'

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও শর্ত নেই। তবে এটি নিয়মিত নজরদারির আওতায় থাকবে।’

এসময় তিনি যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ভালো বন্ধু উল্লেখ করে পারস্পরিক সস্পর্ক জোরদারের কথা বলেন।

এ সময় অ্যালিসন ব্লেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামালের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লিখিত পত্র তুলে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামাল বলেন, 'যুক্তরাজ্য সরকার আকাশ পথে কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘোষণার ফলে ঢাকা-লন্ডন রুটে বাংলাদেশ বিমান বা কোনো ফ্লাইটের সরাসরি পরিচালনায় কার্গো পরিবহনে আর কোনো বাধা রইল না। আজকে থেকে সরাসরি আকাশ পথে কার্গো পরিবহন করতে পারবে।

তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে অস্ট্রেলিয়াও তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে বলে আশা করছি এবং ইউরোপ কর্তৃক বাংলাদেশ থেকে প্রেরণকৃত 'কনসাইনমেন্ট হাইরিস্ক' কার্গো ক্যাটাগরি থেকে প্রত্যাহার করবে বলেও আশাবাদী।

অনুষ্ঠানে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান উপস্থিত ছিলেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৮ মার্চ সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর যুক্তরাজ্যের পরামর্শে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনকে। প্রতিষ্ঠানটি সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশিসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরামর্শ দেয়। যুক্তরাজ্যের পরামর্শে রফতানি কার্গো জোনে বসানো হয়েছে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস)।

গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের ৮ মার্চে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য। এতে বিমান বাংলাদেশ বড় ধরনের লোকসানে পড়ে।

বিমান বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, বিমান কার্গো পরিবহন খাতে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩৩ হাজার ৫৪২ মেট্রিক টন মালামাল বহন করে ২৪৪ কোটি টাকা আয় করে। অথচ ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৪০ হাজার ৯৩১ মেট্রিক টন বহন করে ৩১৫ কোটি টাকা আয় করেছিল। ফলে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের চেয়ে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৭১ কোটি টাকা আয় কম হয়।

টিএটি/আইএম

 
.




আলোচিত সংবাদ