ডির্ভোসে নারীরা এগিয়ে

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

ডির্ভোসে নারীরা এগিয়ে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:১০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
ডির্ভোসে নারীরা এগিয়ে

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিবাহ-বিচ্ছেদের হার গ্রাম থেকে শহরে সবচেয়ে বেশি। এবং নারীদের তরফ থেকেই সবচেয়ে বেশি বিচ্ছেদের আবেদন আসছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের সালিশি বোর্ডের একটি তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১১-২০১৪ সালে রাজধানীতে তালাকের সংখ্যা ২৭ হাজার ৩ জন। আর এ তালাকের ৭০ দশমিক ৮৫ ভাগ এসেছে নারীদের পক্ষ থেকে। ২৯ দশমিক ১৫ ভাগ তালাক দিয়েছে পুরুষরা।

সংশ্লিষ্টার বলছেন, এ সংখ্যা কেবল যারা সালিশি বোর্ডে আবেদন করেছে, তার ভিত্তিতেই পাওয়া গেছে। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। বিশেষ করে গ্রামে এ সংখ্যা শহরের চেয়ে বেশিই হবে বলে ধারণা। অনেকে বলছেন, লোকলজ্জার ভয়ে অধিকাংশ নারী-পুরুষই বিবাহ-বিচ্ছেদের কথা প্রকাশ করেন না।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শহরে উচ্চবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণিতে বিবাহ- বিচ্ছেদের ঘটনা বেশি ঘটছে। তবে নিম্নবিত্ত শ্রেণিতেও তালাকের ঘটনা বেড়ে চলেছে। এর অধিকাংশই লিপিবদ্ধ হচ্ছে না বা জানাজানি হচ্ছে না। কারণ, তারা নিয়ম মেনে তালাক দেন না। একসময় তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও এখন নারীরা সেদিক থেকে এগিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজে বিশষ করে গ্রাম্য সমাজে বিবাহ-বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ার পেছনে নানাবিধ কারণ থাকলেও মূল কারণ হিসেবে তারা দেখছেন যৌতুককে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মালেকা বেগমের মতে, সমাজে নানা বঞ্চনা ও বৈষম্য নেতিবাচকভাবে নারীর ক্ষমতায়ন হতে দেয় না এবং পুরুষকে আধিপত্য দেয়, আর তখনি সম্পর্ক বিচ্ছেদ হতে বাধ্য হয়।

নারীদের পক্ষ থেকে বিবাহ-বিচ্ছেদের ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারীরাই। সমাজে এখনো বিবাহ-বিচ্ছেদের কারণে নারীকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়। বিশেষ করে নারীর ‘চরিত্রদোষ’ বেশি আলোচিত হয়ে থাকে। এতে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটানো নারী সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে যান। এমনকি দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়েও পড়তে হয় নানা প্রশ্নের মুখে। সন্তানের মা হলে এ ধরনের নারীকে সন্তানের দায়িত্ব পালন করতে হয় কেবল তাকেই। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই এ জন্য প্রধান অন্তরায় মনে করেন সমাজ বিজ্ঞানীরা। 

আরজি/

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad