‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন’

ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন’

সচিবালয় প্রতিবেদক ১০:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

print
‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য খুবই লাভজনক স্থান। সরকারের নিয়োগবান্ধব নীতি ও পরিবেশ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে এখন পর্যাপ্ত দক্ষ জনশক্তি রয়েছে, এখানে কম খরচে বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এলে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার আইন প্রণয়ন করে সুরক্ষা দিয়েছে। এখন বাংলাদেশে যে কোনো বিনিয়োগকারী শতভাগ বিনিয়োগ করতে পারে, প্রয়োজনে লাভসহ সমুদয় অর্থ ফিরিয়ে নিতে পারে বিনিয়োগকারী।

মন্ত্রী আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার, সিঙ্গাপুর আয়োজিত সেমিনার টু প্রমোট ট্রেড অ্যান্ড কমার্স বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড সিঙ্গাপুর শীর্ষক বিজনেস সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার রফতানি বাণিজ্য প্রসারে বিভিন্ন দেশের সাথে এফটিএ স্বাক্ষর করছে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের সাথে এফটিএ করার চিন্তা করবে। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক টুরিস্ট সিঙ্গাপুরে আসে, বাংলাদেশও সিঙ্গাপুরের জন্য ভালো ট্যুরিস্ট স্পট হতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যাতে সিঙ্গাপুরের ট্যুরিস্ট বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী হয়। এজন্য উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত সবক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি বা দরিদ্র দেশের রোল মডেল নয়। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। ১৯৭১-৭২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ছিল ১৭৫ কোটি টাকা, আজ সেখানে সে জাতীয় বাজেট ৪ লাখ ২০৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ১৯৭২-৭৩ সালে ২৫টি পণ্য কয়েকটি দেশে রপ্তানি করে আয় করতো ৩৪৮.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজ বিশ্বের প্রায় ১৯৯টি দেশে ৭৪৪টি পণ্য রফতানি করে আয় করছে সার্ভিস সেক্টরসহ ৩৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে এ রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, রেমিটেন্স আসছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবার সকল শর্ত বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পূরণ করেছে, কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতোরে উন্নীত হবে।

সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মো. শহিদুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীগণ এবং সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএস/এএল

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad