‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হবে না’

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫

‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হবে না’

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ০৩, ২০১৮

print
‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হবে না’

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে কার্যত স্বীকৃতি দিতেই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেলআবিব থেকে সরিয়ে সেটা বিরোধপূর্ণ জেরুজালেমে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রসাশনের এই হটকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইল ও ছোট ছোট কয়েকটি দেশ ছাড়া বাকি বিশ্ব একমত হয়েছে গত ডিসেম্বরে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটভুটিতে ১২৮টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব সমর্থন করে। এই ভোটাভুটির আগে, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন অবস্থানকে সমর্থন না করার জন্য সব সদস্য রাষ্ট্রকে কেবল চিঠি দিয়েই ক্ষান্ত হননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালিকে দিয়ে কঠোর সতর্কবাণীও প্রচার করেছেন। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সহায়তা পাচ্ছে সেগুলি বন্ধ করার ঘোষণা দেন নিকি হ্যালি। সেটার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

নতুন বছরের শুরুতে সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইট করে, ওই ভোটাভুটিতে অংশ নেয়া, যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান পাওয়া শীর্ষ ৪ দেশের একটি পাকিস্তানের অনুদান বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন। গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানকে প্রতিশ্রুত ২৫৫ মিলিয়ন ডলারের পরিবর্তে শুধু ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ট্রাম্প প্রসাশন। এবার নতুন বছরের শুরুতে পাকিস্তানকে শুধু তার প্রতিশ্রুত ১৯৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান কেটে ফেলার প্রস্তাব-ই করেননি, বরং পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের মদদদাতা দেশ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। বলেছেন, ‘সন্ত্রাসের উৎপাদন ক্ষেত্র’।

একদিন পর, মঙ্গলবার আবার আরেকটি টুইটে, যাদেরকে নিয়ে বিরোধ সেই প্যালেস্টাইনকেও যুক্তরাষ্ট্রের তরফে দেয়া সব অনুদান বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। এসবের প্রেক্ষিতে, ট্রাম্পের দেয়া আগের হুমকি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট দেয়া সব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান বন্ধ এবং এবং তাদের সাথে শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক চাপিয় দেয়া হয় কি না এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। সেটার রেশ পড়তে পারে কি বাংলাদেশের ওপর? কেননা, বাংলাদেশও দ্ব্যার্থহীন ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, এবং ওই ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রসাশনের এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ব শান্তি বিনষ্ট করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন অবশ্য বলছেন, ‘আমরা মনে করি, আমরা সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতি হবে না।’

‘সার্বভৌম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের যেমন অধিকার আছে তাদের কোন দেশের দূতাবাস কোথায় হবে, তেমনি আমাদেরও অধিকার আছে আমরা আমাদের পররাষ্ট্র নীতির নীরিখে কী অবস্থান নেব বিশ্ব সভায়। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র সেটি মাথায় রাখবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। জেরুজালেম প্রশ্নে যে ভোট হয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে খুব অল্প সংখ্যক দেশ ভোট দিয়েছে। বেশ কিছু দেশ অবশ্য ভোটদানে বিরত ছিল। আমাদের প্রিন্সিপাল অবস্থান থেকে নড়ার প্রশ্নই উঠে না। আমার মনে হয়, এই ভোটাভুটির কারণে যুক্তরাষ্টের সাথে আমাদের যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আছে সেটিতে কোনো প্রভাব পড়বে না’, -বলছিলেন মাসুদ বিন মোমেন।

নতুন বছরের শুরুতে পূর্বনির্ধারিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিয় সভায় এ কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। গতকাল ২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট ভবনে বক্তব্য রাখছিলেন মাসুদ বিন মোমেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক কেবল একটি বিষয় নিয়ে নয়, জাতিসংঘের সংস্কার যেটা চায় যুক্তরাষ্ট্র সেটা বাস্তবায়নে আমরা দেশটির সাথে কাজ করছি। কিভাবে জাতিসংঘের আরো সংস্কার সাধন করা যায়, সে জন্য আমরাও ভাবছি, নানা প্রস্তাব দিচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র একাই অনেক বেশি সংস্কার চাচ্ছে, যার অনেক খানির সাথে আমরা একমত।

মত বিনিময় সভায় গত বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থানগুলো তুলে ধরা হয় এবং শান্তির স্বপক্ষে বাংলাদেশ যেসব প্রস্তাব দিয়েছিল সেগুলির অগ্রগতি নিয়েও অবহিত করা হয় সাংবাদিকদের।

এসএ/আরপি

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad