ভাইস কনসাল বদলে দিলেন জেদ্দা কনস্যুলেটের চেহারা

ঢাকা, শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৮ | ৭ মাঘ ১৪২৪

ভাইস কনসাল বদলে দিলেন জেদ্দা কনস্যুলেটের চেহারা

এম এম কবীর ১০:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭

print
ভাইস কনসাল বদলে দিলেন জেদ্দা কনস্যুলেটের চেহারা

সৌদি আরবের দূরদূরান্ত প্রদেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, কর্মী ও অন্যদের নানা প্রয়োজনে আসতে হয় জেদ্দা কনস্যুলেটে। কর্মস্থল থেকে এক বা দুই দিন ছুটি নিয়ে তারা বিভিন্ন প্রয়োজনে এখানে আসেন। কেউ কেউ কাজ শেষ করে ফিরে যেতে পারেন, আবার অনেকেই কাজ শেষ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে থেকে যান। এছাড়াও এক ধরনের সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের হাতে নানা হয়রানির শিকার হতেন অনেকে।

কর্মীদের পাসপোর্টে মেয়াদ বাড়ানো, নতুন পাসপোর্ট ইস্যুসহ নানা প্রয়োজনে তারা কনস্যুলেটে আসতেন। সেখানকার দীর্ঘদিনের সেবার ধরনই ছিল একটু ভিন্ন রকম। বাংলাদেশের কষ্টার্জিত রেমিটেন্সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে- এই উপলব্ধি থেকেই সেবাপ্রার্থীদের প্রতি যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তরুণ সাহসী জেদ্দা কনস্যুলেটের ভাইস কনসাল মোস্তফা জামিল খান।

জুলাই মাসে জেদ্দা কনস্যুলেটের ভাইস কনসাল নিযুক্ত হন মোস্তফা জামিল খান। কনস্যুলেটে যোগদানের পর থেকেই বদলে গেছে জেদ্দা কনস্যুলেটের চিরাচরিত চিত্র। মানুষের নেই কোনো হয়রানি। এমনকি কনস্যুলেটের ঝকমকে পরিবেশও সবাইকে মুগ্ধ করে। নেই সেবাপ্রার্থীদের দীর্ঘ লাইন। ভাইস কনসাল ও কার্যালয় প্রধানের দায়িত্বের পাশাপাশি মোস্তফা জামিল খান পাসপোর্ট শাখারও দায়িত্ব পালন করছেন। তার সাথে আলাপ হলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে জানান, প্রতিদিন সকালে সেবাপ্রার্থীদের একজন একজন করে সমস্যা জিজ্ঞাসা করেন এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আদলে তৎক্ষণাৎ তার সমাধান করছেন।

এমনই একজন সেবা প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার পাসপোর্টটি তিনি রিয়াদে তৈরি করতে দিয়েছিলেন। কিন্তু ইকামা উর্ত্তীণ হওয়াতে তিনি পাসপোর্টটি আনতে রিয়াদে যেতে পারছিলেন না। বিষয়টি ভাইস কনসাল জামিলের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি তাৎক্ষণিক তার জেদ্দা আগত সহকর্মীকে অনুরোধ করে পাসপোর্টটি নিয়ে এসে আনোয়ারকে হস্তান্তর করেন। এরকম আরও অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে তার মানুষকে ভালোবাসার এ কর্তব্যপরায়নতার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিদের্শনায় এটুআই প্রোগ্রামের আওতায় তিনি বর্তমানে বাস্তবায়ন করছেন Expatriate Digital Center (EDC)। ইতোমধ্যে একজন উদ্যোক্তা মদিনা মনোয়ারাতে এর কার্যক্রম শুরু করেছেন। EDC নিয়ে জামিল বলেন, EDC হলো জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার একটা প্রক্রিয়া। জনগণকে আর পাসপোর্ট নিয়ে কনস্যুলেটে আসতে হবে না। কনস্যুলেটের সেবা যাবে জনগণের কাছে। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমাণে বিশ্বের প্রতিটি বাংলাদেশি একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের জেদ্দা কমিউনিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, ভাইস কনসাল জামিলের জাদুকরী ছোঁয়ায় বাঙালি জাতীয় দিবসসমূহ এবং অন্য অনুষ্ঠানগুলোও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বহুমাত্রিক আয়োজনে অনুষ্ঠানগুলোও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। তার নান্দনিকতায় অনুষ্ঠানগুলোর রূপসজ্জা, ব্যবস্থাপনা, অংশগ্রহণ সবকিছুই এখন অনেক উন্নত। কনস্যুলেটের কনসুলার ট্যুরগুলোতেও আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এখন সেবা পাচ্ছে। তারা আরো জানিয়েছেন, তিনি নিজেই প্রবাসীদেরকে ফোন করে ট্যুরগামী টিমের সেবা গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। যে কোনো প্রদেশে ট্যুরের সময় তিনি গভীর রাত পর্যন্ত সেবাগ্রহীতাদের পরামর্শ দেন এবং তাদের সমস্যা সমাধান করেন। সৌদি আরবের জেলে আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারেও তিনি নিয়মিত জেলখানা পরিদর্শন করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সুগম করছেন। কোন প্রবাসী বাংলাদেশী যে কোন কারণেই কনস্যুলেটে যাক না কেন, তাদের জন্য তার সেবার দরজা সবসময় খোলা থাকে। কাজটি তার অধিক্ষেত্রের না হলেও তিনি সেবাগ্রহীতাকে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে অনুরোধ করে কাজটি সমাধান করেন। এ সময় কনস্যুলেটে হেল্প ডেস্কে তিনি দুজন কর্মচারী নিয়োগ করেছেন। তাদের কাজ সর্বদা মানুষের প্রাপ্য সেবা ও অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা এবং তা ভাইস কনসালের কাছে হস্তান্তর করা। তিনি সন্ধ্যায় নিজেই তাদেরকে ফোন করে তার সমাধান জানান।

অফিসের সময়ের পরেও কনস্যুলেটে আসা সেবাপ্রার্থীদের খালি হাতে ফেরত দেননি কখনো। যদি এ কাজ করতে তাকে অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে। তবু তিনি কখনো পিছপা হননি। তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম ও পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে জেদ্দা কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেলের সার্বিক সহযোগিতা সব সময় পেয়েছেন তিনি।

বহুমুখী গুণের এই মানুষটি জনগণের সেবা করার লক্ষ্য বুকে নিয়ে ২০০৭ সালে রাজউকের সহকারী পরিচালক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২৯তম বিসিএস-এ প্রশাসন ক্যাডারে এবং ৩০তম বিসিএসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান করেন। তার পূর্ববর্তী দুটি চাকরিতেও তিনি একইভাবে জনগণের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রাণান্তক চেষ্টা করেছেন।

এমকে/এএল

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad