ইতালীয় নাগরিক খুনের দায়ে বাঙালি তরুণীর যাবজ্জীবন জেল

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫

ইতালীয় নাগরিক খুনের দায়ে বাঙালি তরুণীর যাবজ্জীবন জেল

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন প্রতিনিধি ৮:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭

print
ইতালীয় নাগরিক খুনের দায়ে বাঙালি তরুণীর যাবজ্জীবন জেল

লন্ডনে ইতালীয় নাগরিক খুনের দায়ে হাসনা বেগম নামে এক বাঙালি তরুণীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ইনার লন্ডন ক্রাউন কোর্ট। ২৫ বছর বয়সী হাসনা ইস্ট লন্ডনের ই-ফোরটিন এলাকার বাইং স্ট্রিটের বাসিন্দা। ২৩ বছর বয়সী ইতালীয় নাগরিক পেট্রিও সান্নাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে হাসনা বেগমের সাজার মেয়াদ ঘোষণা করেন আদালত। তাকে অন্তত ২০ বছর জেলের অভ্যন্তরে কাটাতে হবে।

আদালত জানিয়েছে, গত ২৬ জুন ইস্ট লন্ডনের কেনিংটাউন এলাকার রেভেনস্ক্রফ্ট ক্লসে নিজের বেডরুম থেকে ছুরিকাহত পেট্রিওকে উদ্ধার করে লন্ডন পুলিশ। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ২৭ জুন হাসনা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। ২৮ জুন লন্ডনের একটি হাসপাতালে পেট্রিওর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

হাসনা বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, নিহত পেট্রিওর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। গত ২৩ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রেভেনস্ক্রফ্ট ক্লজে গিয়েছিলেন। তখন তার মাথায় পরচুলা লাগানো ছিল। হাসনা বেগম সেখানে বিভিন্ন বাসায় তল্লাশির পর পেট্রিওর দেখা পান। এ সময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি তার ওপর হামলা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশকে হাসনা বেগম আরো জানিয়েছেন, ঘটনার সময় পেট্রিও তার উপর ভয়ঙ্করভাবে আক্রমণাত্মক ছিল। ফলে আত্মরক্ষার জন্য তিনি পেট্রিওর উপর পাল্টা হামলা করেন। এ ঘটনার পর হাসনা বেগম স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে। তিনি হাতে আঘাত পেয়েছিলেন। পেট্রিওর উপর হামলার পর তার মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে আসেন হাসনা। সঙ্গে থাকা পেট্রিওর মোবাইলে তিনি নিজে অন্তত ছয়বার কল দিয়েছেন।

পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, পেট্রিওর উপর হামলার অন্তত  তিন দিন পর একটি গোপন নম্বর থেকে তার ভাইকে কল করেন হাসনা বেগম। টেলিফোন করে পেট্রিওর ঘরে গিয়ে খবর নিতে তার ছোটভাইকে তিনি অনুরোধ করেন। তখন পেট্রিওর ভাই কাজে ছিলেন। পরে পেট্রিওর ঘরে গিয়ে তিনি তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

এছাড়াও পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, পেট্রিও হত্যার কয়েক দিন আগে হাসনা বেগম ইন্সটাগ্রামে একটি নকল অ্যাকাউন্ট খুলেন। এই অ্যাকাউন্ট দিয়ে তিনি ইন্সটাগ্রামে পেট্রিওকে অনুসরণ করতেন এবং কোনো মহিলা যদি তার সঙ্গে ডেটিং করতো সেই মহিলাকেও হুমকি দিতেন। তবে পেট্রিও ও হাসনা বেগমের মধ্যে কিভাবে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে বা সেই সম্পর্কের গভীরতা কতটুকু ছিল, সে বিষয়ে বিশেষ কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

৪ ফুট ১১ ইঞ্চি লম্বা হাসনা বেগম একটি দোকানে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। পেট্রিও হত্যার দায়ে তাকে অন্তত ২০ বছর জেল খাটতে হবে। 

এমসি/এএল

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad