জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরব প্রতিনিধি ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২০

জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের জেদ্দায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার জেদ্দার বরিমান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে এ তথ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কনস্যুলেটর আইন সহকারী হাসিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কনস্যুলেটর পক্ষ থেকে লাশগুলো সনাক্তকরলসহ সবধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

নিহত তিন বাংলাদেশি হলেন, টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার আউলাতৈল গ্রামের ফরহাদ আলীর ছেলে আল আমিন, ময়মনসিংহের গফুরগাঁওয়ের কামাল উদ্দিনের ছেলে শাকিল মিয়া এবং নরসিংদী জেলার মনিহরদী থানার উত্তর কচিকাটা গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে কাওসার মিয়া।

নিহতরা সবাই ইয়ামামা কোম্পানিতে চার বছর ধরে কাজ করছেন, তিনজনই ময়লার গাড়িতে কাজ করতেন, ডিউটি অবস্থায় বরিমান মারমা সড়কে দুপুর একটার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর সৌদি রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ, সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল ডিফেন্সের জরুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতদের উদ্ধার করে কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে হিমঘরে রাখা হয়েছে।

নিহত শাকিল মিয়ার চাচাতো বড় ভাই রাসেল জানান, রাতে একটার সময় তারা ডিউটিতে যায় কিন্তু দুপুর ১২টা  সময় কাজ শেষ করে ফেরার আগ মুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শাকিল পরিবারের বড় ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনের সম্বল ছিল শাকিল।

রাসেল মিয়া আরো বলেন, শাকিল কিছুদিন আগে ছুটিতে বাড়ি আসে। আসার আগে ব্যাংক থেকে ঋণ করে ঘর করে। দেনা শোধ করতে অনেক টেনশনে ছিল। শেষ পর্যন্ত টেনশন থেকে চিরমুক্তি নিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল শাকিল।

নিহত কাওসারের মামা আজহার জানান, কাওসার বাবাহারা, বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান, গত তিন বছর আগে তার বাবাও রোড এক্সিডেন্টে মারা যান। কাওসার ছিল পরিবারের একমাত্র সম্বল। বিধবা মাকে দেখাশোনা করার আর কেউ রইলো না। বাংলাদেশ সরকারের কাছে মায়ের একমাত্র দাবি ছেলের লাশটি যেন দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নিহত আল আমিনের বউ বিলকিস বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের বিয়ে পাঁচ বছর হলেও তাদের কোলে এখনো কোনো সন্তান নেই। আল আমিন তাদের পরিবারের একমাত্র সম্বল। নিহত আল আমিন ছিল পরিবারের সবার বড়। তার একটি ছোট বোন রয়েছে।

বিলকিস বেগম আরো বলেন, ‘আমার স্বামীকে আর পাব না কিন্তু আমার মৃত্য স্বামীর লাশটি যেন দেখতে পারি, আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমার স্বামীর লাশটি আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। শেষবারের মতো যেন দেখতে পারি।’

এইচআর

 

প্রবাস: আরও পড়ুন

আরও